স্থলবন্দরে ফরমালিন পরীক্ষা
jugantor
স্থলবন্দরে ফরমালিন পরীক্ষা
আদালতের নির্দেশ মানা হচ্ছে না কেন?

  সম্পাদকীয়  

১৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফরমালিনের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে মানুষ কমবেশি অবহিত। তাই ফরমালিনের অনুপ্রবেশ রোধে বিভিন্ন বন্দরে রাসায়নিক পরীক্ষাগার থাকা জরুরি। ইতঃপূর্বে দেশের সব স্থলবন্দরে রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন এবং আমদানি করা ফলমূল পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত।

৯ বছর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ৮ বছর পর চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি পরীক্ষাগার স্থাপনের অগ্রগতি প্রতিবেদন এনবিআর উচ্চ আদালতে জমা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০ জানুয়ারি আদালত এনবিআরকে আরও তিন মাস সময় দেন। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও পরীক্ষাগার নির্মাণ কাজে অগ্রগতি নেই।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও বেনাপোল দিয়ে দেশে বেশি ফল আমদানি হয়। এ দুটি বন্দরে রাসায়নিক পরীক্ষাগার আছে। বাকি স্থলবন্দরগুলোতে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফরমালিন পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফল খালাস করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পরীক্ষাগারে লোকবল স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে ফলের ফরমালিন পরীক্ষা বন্ধ রাখার দিকনির্দেশনা চেয়ে এনবিআরে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

চিঠিতে বলা হয়, প্রতিদিন গড়ে ১০০টি চালানের বিপরীতে আমদানি করা ফলমূলের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। একজন পরীক্ষককে দিয়ে এত নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষা করায় চালান খালাসে বিলম্ব হচ্ছে।

রাসায়নিক পরীক্ষাবিহীন ফলমূল আমদানির কারণে মানুষ নানা রকম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ভোমরা স্থলবন্দরে মেশিনারিজ সাপোর্ট না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের ফরমালিন পরীক্ষা ইউনিটটি বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ফরমালিন পরীক্ষার রিএজেন্ট সাপোর্ট পাওয়া যায় না।

জানা গেছে, বেনাপোল বন্দরেও ভারত থেকে আমদানিকৃত ফলের ফরমালিন পরীক্ষা করা হয় না। স্থানীয় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র শুধু জার্মিনেশন পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেয়।

ফরমালিনের অন্যান্য ব্যবহার থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা মূলত খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহারের জন্যই বিপুল পরিমাণ ফরমালিন আমদানি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরমালিন অত্যন্ত বিষাক্ত বলে নিয়মিত ফরমালিনযুক্ত খাবার খেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া ফরমালিন খাদ্য পরিপাকে বাধা দেয়, পাকস্থলীর ক্ষতি করে, যকৃতের অ্যানজাইম নষ্ট করে এবং কিডনির কোষ ধ্বংস করে।

ফলে মানুষের শরীরে নানা রকম জটিলতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় খাদ্যপণ্যে ফরমালিনসহ সব ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার রোধে দেশের স্থলবন্দরগুলোয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন এবং সেখানে পর্যাপ্ত জনবল ও উপকরণ নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এটাই কাম্য।

স্থলবন্দরে ফরমালিন পরীক্ষা

আদালতের নির্দেশ মানা হচ্ছে না কেন?
 সম্পাদকীয় 
১৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফরমালিনের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে মানুষ কমবেশি অবহিত। তাই ফরমালিনের অনুপ্রবেশ রোধে বিভিন্ন বন্দরে রাসায়নিক পরীক্ষাগার থাকা জরুরি। ইতঃপূর্বে দেশের সব স্থলবন্দরে রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন এবং আমদানি করা ফলমূল পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত।

৯ বছর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ৮ বছর পর চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি পরীক্ষাগার স্থাপনের অগ্রগতি প্রতিবেদন এনবিআর উচ্চ আদালতে জমা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০ জানুয়ারি আদালত এনবিআরকে আরও তিন মাস সময় দেন। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও পরীক্ষাগার নির্মাণ কাজে অগ্রগতি নেই।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও বেনাপোল দিয়ে দেশে বেশি ফল আমদানি হয়। এ দুটি বন্দরে রাসায়নিক পরীক্ষাগার আছে। বাকি স্থলবন্দরগুলোতে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফরমালিন পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফল খালাস করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পরীক্ষাগারে লোকবল স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে ফলের ফরমালিন পরীক্ষা বন্ধ রাখার দিকনির্দেশনা চেয়ে এনবিআরে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

চিঠিতে বলা হয়, প্রতিদিন গড়ে ১০০টি চালানের বিপরীতে আমদানি করা ফলমূলের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। একজন পরীক্ষককে দিয়ে এত নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষা করায় চালান খালাসে বিলম্ব হচ্ছে।

রাসায়নিক পরীক্ষাবিহীন ফলমূল আমদানির কারণে মানুষ নানা রকম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ভোমরা স্থলবন্দরে মেশিনারিজ সাপোর্ট না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের ফরমালিন পরীক্ষা ইউনিটটি বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ফরমালিন পরীক্ষার রিএজেন্ট সাপোর্ট পাওয়া যায় না।

জানা গেছে, বেনাপোল বন্দরেও ভারত থেকে আমদানিকৃত ফলের ফরমালিন পরীক্ষা করা হয় না। স্থানীয় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র শুধু জার্মিনেশন পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেয়।

ফরমালিনের অন্যান্য ব্যবহার থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা মূলত খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহারের জন্যই বিপুল পরিমাণ ফরমালিন আমদানি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরমালিন অত্যন্ত বিষাক্ত বলে নিয়মিত ফরমালিনযুক্ত খাবার খেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া ফরমালিন খাদ্য পরিপাকে বাধা দেয়, পাকস্থলীর ক্ষতি করে, যকৃতের অ্যানজাইম নষ্ট করে এবং কিডনির কোষ ধ্বংস করে।

ফলে মানুষের শরীরে নানা রকম জটিলতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় খাদ্যপণ্যে ফরমালিনসহ সব ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার রোধে দেশের স্থলবন্দরগুলোয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন এবং সেখানে পর্যাপ্ত জনবল ও উপকরণ নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এটাই কাম্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন