বিআইএফসির আর্থিক অনিয়ম
jugantor
বিআইএফসির আর্থিক অনিয়ম
জড়িত সবারই শাস্তি হওয়া উচিত

  সম্পাদকীয়  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের সময় তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন।

এ তথ্য উঠে এসেছে আর্থিক খাতে জাল-জালিয়াতির বিষয়ে আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ বা ‘কারণ অনুসন্ধান’ কমিটির প্রতিবেদনে।

আর এ তিন সংস্থা হলো খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং কোম্পানিগুলোর নিবন্ধক পরিদপ্তর যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিয়ন্ত্রক (আরজেএসসি)।

উল্লেখ্য, প্রায় দেউলিয়ায় পরিণত হওয়া বিআইএফসির বিতরণ করা ঋণের প্রায় পুরোটাই ছিল কুঋণ। ঋণ জালিয়াতির কারণে ২০১৬ সালে বিআইএফসির পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরপর প্রতিষ্ঠানটির অবসায়ন করতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু কোনো অদৃশ্য কারণে সেটি আটকে যায়। জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা পরিচালক মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ৬৭টি হিসাবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন, বর্তমানে সুদসহ যা বেড়ে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এর মধ্যে তিনি মাত্র ১০৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন। কোম্পানিটির শেয়ার হস্তান্তরের সময়ও যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি।

বস্তুত এ ধরনের প্রতিষ্ঠান দেশের আর্থিক খাতের গলার কাঁটা। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবন্ধন নিয়েই বিআইএফসি আর্থিক কার্যক্রম শুরু করেছিল।

প্রতিষ্ঠানটির অনিয়মের বিষয়ে তদারকির দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকসহ যে তিন সংস্থা, তারা এর দায় এড়াতে পারে না।

জানা যায়, বিআইএফসির আর্থিক অবস্থা খারাপ হলে এতে প্রশাসক নিয়োগের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নিচের স্তর থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল।

কিন্তু সেই সুপারিশ তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক আটকে রেখেছিলেন। ফলে এতে প্রশাসক নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। বলা বাহুল্য, তখন প্রশাসক নিয়োগ করা হলে জালিয়াতির ঘটনা ঠেকানো যেত।

এ থেকে ধারণা করা যায়, বিআইএফসির অনিয়মের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তখনকার সিনিয়র কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছিল।

আশার কথা, ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ কমিটির প্রতিবেদনে বিআইএফসির অনিয়মের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আমরা আশা করব, এর মাধ্যমে বিআইএফসির আর্থিক অনিয়মে জড়িতদের উপযুক্ত সাজা হবে এবং তা আর্থিক খাতে অনিয়ম প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

বিআইএফসির আর্থিক অনিয়ম

জড়িত সবারই শাস্তি হওয়া উচিত
 সম্পাদকীয় 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের সময় তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন।

এ তথ্য উঠে এসেছে আর্থিক খাতে জাল-জালিয়াতির বিষয়ে আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ বা ‘কারণ অনুসন্ধান’ কমিটির প্রতিবেদনে।

আর এ তিন সংস্থা হলো খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং কোম্পানিগুলোর নিবন্ধক পরিদপ্তর যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিয়ন্ত্রক (আরজেএসসি)।

উল্লেখ্য, প্রায় দেউলিয়ায় পরিণত হওয়া বিআইএফসির বিতরণ করা ঋণের প্রায় পুরোটাই ছিল কুঋণ। ঋণ জালিয়াতির কারণে ২০১৬ সালে বিআইএফসির পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরপর প্রতিষ্ঠানটির অবসায়ন করতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু কোনো অদৃশ্য কারণে সেটি আটকে যায়। জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা পরিচালক মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ৬৭টি হিসাবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন, বর্তমানে সুদসহ যা বেড়ে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এর মধ্যে তিনি মাত্র ১০৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন। কোম্পানিটির শেয়ার হস্তান্তরের সময়ও যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি।

বস্তুত এ ধরনের প্রতিষ্ঠান দেশের আর্থিক খাতের গলার কাঁটা। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবন্ধন নিয়েই বিআইএফসি আর্থিক কার্যক্রম শুরু করেছিল।

প্রতিষ্ঠানটির অনিয়মের বিষয়ে তদারকির দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকসহ যে তিন সংস্থা, তারা এর দায় এড়াতে পারে না।

জানা যায়, বিআইএফসির আর্থিক অবস্থা খারাপ হলে এতে প্রশাসক নিয়োগের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নিচের স্তর থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল।

কিন্তু সেই সুপারিশ তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক আটকে রেখেছিলেন। ফলে এতে প্রশাসক নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। বলা বাহুল্য, তখন প্রশাসক নিয়োগ করা হলে জালিয়াতির ঘটনা ঠেকানো যেত।

এ থেকে ধারণা করা যায়, বিআইএফসির অনিয়মের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তখনকার সিনিয়র কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছিল।

আশার কথা, ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ কমিটির প্রতিবেদনে বিআইএফসির অনিয়মের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আমরা আশা করব, এর মাধ্যমে বিআইএফসির আর্থিক অনিয়মে জড়িতদের উপযুক্ত সাজা হবে এবং তা আর্থিক খাতে অনিয়ম প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন