পূজামণ্ডপে অনভিপ্রেত ঘটনা: ধর্মীয় সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে হবে
jugantor
পূজামণ্ডপে অনভিপ্রেত ঘটনা: ধর্মীয় সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনার জের ধরে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোরভাবে রুখতে হবে। একই সঙ্গে ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নিতে হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

বুধবারের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেশকিছু পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অনেক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অনেকেই। কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির আর যাতে অবনতি না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক ও তৎপর থাকতে হবে।

পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনাটি যে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা উদ্ঘাটন করা জরুরি। আমরা জানি, ইতঃপূর্বে কক্সবাজারের রামু এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফেসবুকে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রাচীন প্যাগোডা এবং নাসিরনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছিল।

পরে দেখা গেছে, ফেসবুক পোস্টের উভয় ঘটনাই ছিল ষড়যন্ত্রমূলক। আমরা লক্ষ করছি, ইসলামের অবমাননা করা হয়েছে- এই জিগির তুলে স্বার্থান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মাঝে মাঝেই ধর্মপ্রাণ নিরীহ মানুষকে এমনভাবে উত্তেজিত করছে যে, তারাও হয়ে পড়ছে উন্মত্ত। সত্যি সত্যি ধর্মের অবমাননা হচ্ছ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না অথবা হলেও প্রকৃত অপরাধীর পরিবর্তে টার্গেট হয়ে পড়ছে সামগ্রিকভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

এ প্রবণতা বিপজ্জনক। বস্তুত কিছু দুষ্টলোক সব সময়ই সুযোগের সন্ধানে থাকে কোনো অঘটন ঘটিয়ে তা থেকে ফায়দা নেওয়ার জন্য। এসব লোককে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়।

বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এখানে যুগ যুগ ধরে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে যার যার ধর্ম পালন করে আসছে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই ধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মীয় সম্প্রীতি মানুষের মধ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধের বিকাশ ঘটায়। ধর্মীয় সম্প্রীতি ব্যাহত হলে দেশে অশান্তি সৃষ্টি হয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এ ধর্মে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

ধর্ম, বর্ণ, বংশ, গোত্র, জাতি, সামাজিক মর্যাদা নির্বিশেষে সব মানুষকে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বলা হয়েছে। ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেদের জানমালের পাশাপাশি সংখ্যালঘু অমুসলিম সম্প্রদায়ের জানমাল রক্ষায় সচেষ্ট থাকার জন্য মুসলমানদের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, অন্য ধর্মাবলম্বী ও তাদের উপাসনালয়ের ওপর হামলা ও সহিংস আচরণকে ইসলামে হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

কাজেই ‘ধর্মের অবমাননা হয়েছে’- এমন জিগির তুলে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি এবং সংখ্যালঘুদের জানমালের ওপর যে কোনো ধরনের হামলা ইসলামের দৃষ্টিতে নাজায়েজ। এ ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে সর্বাত্মকভাবে। কুমিল্লার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে, এটাই কাম্য।

পূজামণ্ডপে অনভিপ্রেত ঘটনা: ধর্মীয় সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে হবে

 সম্পাদকীয় 
১৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনার জের ধরে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোরভাবে রুখতে হবে। একই সঙ্গে ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নিতে হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

বুধবারের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেশকিছু পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অনেক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অনেকেই। কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির আর যাতে অবনতি না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক ও তৎপর থাকতে হবে।

পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনাটি যে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা উদ্ঘাটন করা জরুরি। আমরা জানি, ইতঃপূর্বে কক্সবাজারের রামু এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফেসবুকে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রাচীন প্যাগোডা এবং নাসিরনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছিল।

পরে দেখা গেছে, ফেসবুক পোস্টের উভয় ঘটনাই ছিল ষড়যন্ত্রমূলক। আমরা লক্ষ করছি, ইসলামের অবমাননা করা হয়েছে- এই জিগির তুলে স্বার্থান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মাঝে মাঝেই ধর্মপ্রাণ নিরীহ মানুষকে এমনভাবে উত্তেজিত করছে যে, তারাও হয়ে পড়ছে উন্মত্ত। সত্যি সত্যি ধর্মের অবমাননা হচ্ছ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না অথবা হলেও প্রকৃত অপরাধীর পরিবর্তে টার্গেট হয়ে পড়ছে সামগ্রিকভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

এ প্রবণতা বিপজ্জনক। বস্তুত কিছু দুষ্টলোক সব সময়ই সুযোগের সন্ধানে থাকে কোনো অঘটন ঘটিয়ে তা থেকে ফায়দা নেওয়ার জন্য। এসব লোককে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়।

বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এখানে যুগ যুগ ধরে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে যার যার ধর্ম পালন করে আসছে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই ধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মীয় সম্প্রীতি মানুষের মধ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধের বিকাশ ঘটায়। ধর্মীয় সম্প্রীতি ব্যাহত হলে দেশে অশান্তি সৃষ্টি হয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এ ধর্মে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

ধর্ম, বর্ণ, বংশ, গোত্র, জাতি, সামাজিক মর্যাদা নির্বিশেষে সব মানুষকে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বলা হয়েছে। ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেদের জানমালের পাশাপাশি সংখ্যালঘু অমুসলিম সম্প্রদায়ের জানমাল রক্ষায় সচেষ্ট থাকার জন্য মুসলমানদের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, অন্য ধর্মাবলম্বী ও তাদের উপাসনালয়ের ওপর হামলা ও সহিংস আচরণকে ইসলামে হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

কাজেই ‘ধর্মের অবমাননা হয়েছে’- এমন জিগির তুলে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি এবং সংখ্যালঘুদের জানমালের ওপর যে কোনো ধরনের হামলা ইসলামের দৃষ্টিতে নাজায়েজ। এ ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে সর্বাত্মকভাবে। কুমিল্লার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে, এটাই কাম্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন