রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অব্যাহত ভর্তুকি: লাভজনক করতে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন
jugantor
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অব্যাহত ভর্তুকি: লাভজনক করতে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন

  সম্পাদকীয়  

১৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভর্তুকি ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ১৬ প্রতিষ্ঠান চলতে পারছে না। জানা গেছে, গত পাঁচ অর্থবছরে (২০১৬-২১) এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি হিসাবে ৬ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যজনক হলো, এর মধ্যে ১১টি লাভজনক প্রতিষ্ঠানও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ভর্তুকির টাকা নিচ্ছে।

তবে বছরের পর বছর ধরে ভর্তুকি নেওয়ার পরও বাকি ৫টি করপোরেশন লাভের মুখ দেখতে পারেনি। অন্যদিকে একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৮টি করপোরেশন ও প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফা কমেছে ২ হাজার ২১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু ৬টি করপোরেশনের লোকসান গুনতে হয়েছে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। এসব প্রতিষ্ঠান কেন লাভজনক হতে পারছে না, তার কারণ অনুসন্ধান করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বস্তুত, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান দেওয়ার পেছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লখযোগ্য- ঋণ ব্যবহারে বড় ধরনের দুর্নীতি ছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাব, ট্রেড ইউনিয়নের অযাচিত হস্তক্ষেপ, মাথাভারী প্রশাসন, অধিক জনবল, ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, পেশাদারিত্বের অভাব, মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে ব্যর্থতা, অধিক উৎপাদন ব্যয় ইত্যাদি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, কোনো কোম্পানি লাভজনক হওয়ার জন্য প্রথমেই দরকার উন্নত ব্যবস্থাপনা। সরকারি করপোরেশনগুলোয় কখনোই এ দিকটিতে তেমন মনোযোগ দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় করপোরেশনগুলোর দায়দেনা ও লোকসানের বিষয়টি দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথায় আছে- সরকারি মাল, দরিয়ামে ঢাল; অর্থাৎ কোনো জিনিস যদি রাষ্ট্রের হয়, তবে সেক্ষেত্রে লাগামহীন অপচয় হলেও কোনো সমস্যা নেই। যুগ-যুগান্তর ধরে লোকসমাজে প্রচলিত এ আপ্তবাক্য যে এখনো আমাদের দেশের জন্য শতভাগ প্রাসঙ্গিক, তার সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় ১৬ করপোরেশনের ভর্তুকি গ্রহণের ক্ষেত্রে।

ভর্তুকি প্রদানের নামে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান চালানোর অর্থই হলো ‘গরিবের হাতি পোষা’, যা কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। কেবল উল্লিখিত ১৬ সংস্থাই নয়, দেশের অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানই ভুর্তকির মাধ্যমে চালানো হয়, যেখানে নানাভাবে দুর্নীতি হচ্ছে। ফলে করপোরেশনগুলোর ওপর দেশের মানুষের আস্থার অভাব সৃষ্টি হয়েছে, যার পুনরুদ্ধার ছাড়া এগুলোকে লাভজনক করা যাবে না।

এজন্য দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করতে হবে। সরকারের সদিচ্ছার অভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনগুলোর লোকসানের পাল্লাই কেবল ভারী হচ্ছে না; তাদের রাজস্ব দায়বদ্ধতাও রয়েছে কোটি কোটি টাকা। এ অবস্থায় সংস্থাগুলোকে লাভজনক করার বিষয়ে বাজেটে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা উচিত।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অব্যাহত ভর্তুকি: লাভজনক করতে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন

 সম্পাদকীয় 
১৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভর্তুকি ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ১৬ প্রতিষ্ঠান চলতে পারছে না। জানা গেছে, গত পাঁচ অর্থবছরে (২০১৬-২১) এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি হিসাবে ৬ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যজনক হলো, এর মধ্যে ১১টি লাভজনক প্রতিষ্ঠানও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ভর্তুকির টাকা নিচ্ছে।

তবে বছরের পর বছর ধরে ভর্তুকি নেওয়ার পরও বাকি ৫টি করপোরেশন লাভের মুখ দেখতে পারেনি। অন্যদিকে একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৮টি করপোরেশন ও প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফা কমেছে ২ হাজার ২১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু ৬টি করপোরেশনের লোকসান গুনতে হয়েছে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। এসব প্রতিষ্ঠান কেন লাভজনক হতে পারছে না, তার কারণ অনুসন্ধান করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বস্তুত, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান দেওয়ার পেছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লখযোগ্য- ঋণ ব্যবহারে বড় ধরনের দুর্নীতি ছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাব, ট্রেড ইউনিয়নের অযাচিত হস্তক্ষেপ, মাথাভারী প্রশাসন, অধিক জনবল, ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, পেশাদারিত্বের অভাব, মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে ব্যর্থতা, অধিক উৎপাদন ব্যয় ইত্যাদি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, কোনো কোম্পানি লাভজনক হওয়ার জন্য প্রথমেই দরকার উন্নত ব্যবস্থাপনা। সরকারি করপোরেশনগুলোয় কখনোই এ দিকটিতে তেমন মনোযোগ দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় করপোরেশনগুলোর দায়দেনা ও লোকসানের বিষয়টি দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথায় আছে- সরকারি মাল, দরিয়ামে ঢাল; অর্থাৎ কোনো জিনিস যদি রাষ্ট্রের হয়, তবে সেক্ষেত্রে লাগামহীন অপচয় হলেও কোনো সমস্যা নেই। যুগ-যুগান্তর ধরে লোকসমাজে প্রচলিত এ আপ্তবাক্য যে এখনো আমাদের দেশের জন্য শতভাগ প্রাসঙ্গিক, তার সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় ১৬ করপোরেশনের ভর্তুকি গ্রহণের ক্ষেত্রে।

ভর্তুকি প্রদানের নামে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান চালানোর অর্থই হলো ‘গরিবের হাতি পোষা’, যা কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। কেবল উল্লিখিত ১৬ সংস্থাই নয়, দেশের অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানই ভুর্তকির মাধ্যমে চালানো হয়, যেখানে নানাভাবে দুর্নীতি হচ্ছে। ফলে করপোরেশনগুলোর ওপর দেশের মানুষের আস্থার অভাব সৃষ্টি হয়েছে, যার পুনরুদ্ধার ছাড়া এগুলোকে লাভজনক করা যাবে না।

এজন্য দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করতে হবে। সরকারের সদিচ্ছার অভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনগুলোর লোকসানের পাল্লাই কেবল ভারী হচ্ছে না; তাদের রাজস্ব দায়বদ্ধতাও রয়েছে কোটি কোটি টাকা। এ অবস্থায় সংস্থাগুলোকে লাভজনক করার বিষয়ে বাজেটে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা উচিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন