জনপ্রশাসন সংস্কার
jugantor
জনপ্রশাসন সংস্কার
কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রশাসনিক বিন্যাস জরুরি। শনিবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ‘জনপ্রশাসন সংস্কারে’র লক্ষ্যে নতুন কমিশন গঠনের প্রস্তাব তোলা হয়। কিন্তু কমিটির বৈঠকে সেটি গ্রহণ না করে পরে উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে জনপ্রশাসন সংস্কারের প্রত্যাশিত উদ্যোগ আরেক দফা হোঁচট খেল। সরকারের সার্বিক কার‌্যাবলির পরিধি বেড়েছে অনেকগুণ। এ অবস্থায় জনপ্রশাসন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির ১৪তম বৈঠকে নেওয়া এক সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল-‘সেবাধর্মী ও উন্নয়নমুখী প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ প্রণয়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’ এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে দেরি হলে সরকারের সার্বিক কার‌্যাবলির গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। এছাড়া জনগণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে কিনা, এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারি চাকরি আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে-দক্ষ, জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই প্রস্তাবনা কার্যকরের লক্ষ্যে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

সব সরকারের আমলেই জনপ্রশাসন সংস্কার সম্পর্কিত কোনো না কোনো কমিটি ও মূল্যায়ন হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন কাঠামোর বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, ‘প্রশাসন সংস্কারের বেশকিছু কাজ চলমান রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এসব কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘তারপরও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনার বিস্তারিত জানাতে আরেকটু সময় লাগবে।’ তার প্রত্যাশা, চলমান কাজগুলো শেষ হলে জনপ্রশাসনে ইতিবাচক একটি পরিবর্তন দেখা যাবে। দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন পুনর্গঠনের তাগিদ দিয়েছিল ৮ম বেতন কমিশন। ওই কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের উচ্চ ও নিুপর্যায়ে কিছু পরিবর্তন আনা হলেও সামগ্রিক দিক বিবেচনায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে প্রশাসনের অনেক জায়গায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল।

দেশে ১৯৭১ সালের ২৭ ডিসেম্বর গঠন করা হয় ‘সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেস্টোরেশন কমিটি। ওই কমিটির বেশিরভাগ সুপারিশ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে এটিএম শামসুল হকের নেতৃত্বে ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিফর্ম কমিশন’ গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন টানা একযুগের সরকারে জনপ্রশাসন সংস্কারের জন্য কোনো কমিশন গঠন করা হয়নি। জানা গেছে, পূর্ববর্তী বিভিন্ন কমিশন ও কমিটির সুপারিশ সরকার নিজ থেকে উদ্যোগী হয়ে কিছুটা বাস্তবায়ন করেছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে গতি বেড়েছে। এছাড়া আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বাড়বে। গ্রিভেন্স রিড্রেস সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ প্রতিকারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের কাছে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেলে এখন সেবাপ্রত্যাশীরা আরও সহজে অভিযোগ করতে পারবে। আশা করা যায়, এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবার মান বাড়বে। জনপ্রশাসন সংস্কারের লক্ষ্যে নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। নতুন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া না হলে কমিশন গঠনের লক্ষ্য পূর্ণতা পাবে না।

জনপ্রশাসন সংস্কার

কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রশাসনিক বিন্যাস জরুরি। শনিবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ‘জনপ্রশাসন সংস্কারে’র লক্ষ্যে নতুন কমিশন গঠনের প্রস্তাব তোলা হয়। কিন্তু কমিটির বৈঠকে সেটি গ্রহণ না করে পরে উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে জনপ্রশাসন সংস্কারের প্রত্যাশিত উদ্যোগ আরেক দফা হোঁচট খেল। সরকারের সার্বিক কার‌্যাবলির পরিধি বেড়েছে অনেকগুণ। এ অবস্থায় জনপ্রশাসন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির ১৪তম বৈঠকে নেওয়া এক সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল-‘সেবাধর্মী ও উন্নয়নমুখী প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ প্রণয়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’ এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে দেরি হলে সরকারের সার্বিক কার‌্যাবলির গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। এছাড়া জনগণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে কিনা, এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারি চাকরি আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে-দক্ষ, জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই প্রস্তাবনা কার্যকরের লক্ষ্যে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

সব সরকারের আমলেই জনপ্রশাসন সংস্কার সম্পর্কিত কোনো না কোনো কমিটি ও মূল্যায়ন হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন কাঠামোর বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, ‘প্রশাসন সংস্কারের বেশকিছু কাজ চলমান রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এসব কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘তারপরও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনার বিস্তারিত জানাতে আরেকটু সময় লাগবে।’ তার প্রত্যাশা, চলমান কাজগুলো শেষ হলে জনপ্রশাসনে ইতিবাচক একটি পরিবর্তন দেখা যাবে। দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন পুনর্গঠনের তাগিদ দিয়েছিল ৮ম বেতন কমিশন। ওই কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের উচ্চ ও নিুপর্যায়ে কিছু পরিবর্তন আনা হলেও সামগ্রিক দিক বিবেচনায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে প্রশাসনের অনেক জায়গায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল।

দেশে ১৯৭১ সালের ২৭ ডিসেম্বর গঠন করা হয় ‘সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেস্টোরেশন কমিটি। ওই কমিটির বেশিরভাগ সুপারিশ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে এটিএম শামসুল হকের নেতৃত্বে ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিফর্ম কমিশন’ গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন টানা একযুগের সরকারে জনপ্রশাসন সংস্কারের জন্য কোনো কমিশন গঠন করা হয়নি। জানা গেছে, পূর্ববর্তী বিভিন্ন কমিশন ও কমিটির সুপারিশ সরকার নিজ থেকে উদ্যোগী হয়ে কিছুটা বাস্তবায়ন করেছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে গতি বেড়েছে। এছাড়া আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বাড়বে। গ্রিভেন্স রিড্রেস সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ প্রতিকারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের কাছে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেলে এখন সেবাপ্রত্যাশীরা আরও সহজে অভিযোগ করতে পারবে। আশা করা যায়, এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবার মান বাড়বে। জনপ্রশাসন সংস্কারের লক্ষ্যে নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। নতুন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া না হলে কমিশন গঠনের লক্ষ্য পূর্ণতা পাবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন