মিয়ানমারের আইস বাংলাদেশে
jugantor
মিয়ানমারের আইস বাংলাদেশে
এ ভয়ংকর মাদকের চালান রুখতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আইস

দেশজুড়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ইত্যাদি মাদকের আগ্রাসনের বিষয়টি বহুল আলোচিত। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আইস নামের ভয়ংকর এক মাদক। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও মাদকবিরোধী অভিযানে কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের সাফল্য দৃশ্যমান নয়। রোববার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে আচারের আড়ালে আসছে আইস। মিয়ানমার থেকে দেশে বিভিন্ন রকম মাদক প্রবেশের বিষয়টিও বহুল আলোচিত। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত অরক্ষিত থাকায় চোরাকারবারিরা সহজে পণ্য পাচার করতে পারে। জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে মাদক বা অবৈধ পণ্যের চালান নৌপথে টেকনাফে আসে। প্রাথমিকভাবে সেগুলো সেখানকার বাসা-বাড়িতে রাখা হয়। পরে মাদক ব্যবসায়ীরা নিজস্ব পরিবহণে বিশেষ কৌশলে সেগুলো রাজধানীসহ সারা দেশে সরবরাহ করে। একই প্রক্রিয়ায় মিয়ানমার থেকে আইসের চালান দেশে আসে এবং সেগুলো রাজধানীসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা বার্মিজ কাপড় বা আচারের ব্যবসার আড়ালে আইস সরবরাহ করে থাকে। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বাংলাদেশকে ঘিরে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে আইসের কারখানা। মিয়ানমারের মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলছে বাংলাদেশের মাদক ব্যবসায়ীরা। এ সুযোগে প্রতিবেশী দেশটির মাদক ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের মাদক ব্যবসায়ীদের প্রলুব্ধ করতে গ্রহণ করছে নানা ধরনের কৌশল। এর একটি হলো-বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কখনো ভয়ংকর মাদক আইসের চালান ধরা পড়লে তার মূল্য পরিশোধ করতে হতো না ওই দেশের ব্যবসায়ীদের। বস্তুত সহজলভ্য হওয়ার কারণেই দেশে মাদকের ব্যবহার বাড়ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোন কোন ব্যক্তি কীভাবে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে, এসব তথ্য আমরা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানতে পারছি। সম্ভবত নানা রকম লোভ দেখিয়েই বিভিন্ন ব্যক্তিকে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

আইস সেবনে মানবদেহে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আইস সেবন করলে কারও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে; মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতার কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া এর আরও অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা যে উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে তা সর্বজনবিদিত। চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকার পরও প্রতিবেশী দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক দেশে প্রবেশ করছে। এক গ্রাম আইসের দাম মিয়ানমারে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা। কিন্তু সেটা বাংলাদেশে বিক্রি হয় ১৫-২০ হাজার টাকায়। কখনো কখনো ২৫ হাজার টাকায়ও এক গ্রাম আইস বিক্রি হয়। জানা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি অভিজাত শ্রেণির মধ্যে আইসের চাহিদা রয়েছে। যেহেতু আইস অত্যন্ত দামি একটি মাদক, শিক্ষার্থীসহ যারা এতে আসক্ত হবে, স্বাভাবিকভাবেই তাদের নানারকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত না থাকলে তরুণ সমাজের যে ক্ষতি হবে, তা কোনোভাবে পূরণ করা যাবে না। মাদকের ব্যবহার বন্ধ না হলে সমাজে অপরাধের মাত্রাও কমানো কঠিন হবে। আইস, ইয়াবা, হেরোইন, ইত্যাদি মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে।

মিয়ানমারের আইস বাংলাদেশে

এ ভয়ংকর মাদকের চালান রুখতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আইস
আইস

দেশজুড়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ইত্যাদি মাদকের আগ্রাসনের বিষয়টি বহুল আলোচিত। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আইস নামের ভয়ংকর এক মাদক। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও মাদকবিরোধী অভিযানে কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের সাফল্য দৃশ্যমান নয়। রোববার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে আচারের আড়ালে আসছে আইস। মিয়ানমার থেকে দেশে বিভিন্ন রকম মাদক প্রবেশের বিষয়টিও বহুল আলোচিত। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত অরক্ষিত থাকায় চোরাকারবারিরা সহজে পণ্য পাচার করতে পারে। জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে মাদক বা অবৈধ পণ্যের চালান নৌপথে টেকনাফে আসে। প্রাথমিকভাবে সেগুলো সেখানকার বাসা-বাড়িতে রাখা হয়। পরে মাদক ব্যবসায়ীরা নিজস্ব পরিবহণে বিশেষ কৌশলে সেগুলো রাজধানীসহ সারা দেশে সরবরাহ করে। একই প্রক্রিয়ায় মিয়ানমার থেকে আইসের চালান দেশে আসে এবং সেগুলো রাজধানীসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা বার্মিজ কাপড় বা আচারের ব্যবসার আড়ালে আইস সরবরাহ করে থাকে। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বাংলাদেশকে ঘিরে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে আইসের কারখানা। মিয়ানমারের মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলছে বাংলাদেশের মাদক ব্যবসায়ীরা। এ সুযোগে প্রতিবেশী দেশটির মাদক ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের মাদক ব্যবসায়ীদের প্রলুব্ধ করতে গ্রহণ করছে নানা ধরনের কৌশল। এর একটি হলো-বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কখনো ভয়ংকর মাদক আইসের চালান ধরা পড়লে তার মূল্য পরিশোধ করতে হতো না ওই দেশের ব্যবসায়ীদের। বস্তুত সহজলভ্য হওয়ার কারণেই দেশে মাদকের ব্যবহার বাড়ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোন কোন ব্যক্তি কীভাবে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে, এসব তথ্য আমরা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানতে পারছি। সম্ভবত নানা রকম লোভ দেখিয়েই বিভিন্ন ব্যক্তিকে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

আইস সেবনে মানবদেহে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আইস সেবন করলে কারও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে; মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতার কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া এর আরও অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা যে উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে তা সর্বজনবিদিত। চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকার পরও প্রতিবেশী দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক দেশে প্রবেশ করছে। এক গ্রাম আইসের দাম মিয়ানমারে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা। কিন্তু সেটা বাংলাদেশে বিক্রি হয় ১৫-২০ হাজার টাকায়। কখনো কখনো ২৫ হাজার টাকায়ও এক গ্রাম আইস বিক্রি হয়। জানা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি অভিজাত শ্রেণির মধ্যে আইসের চাহিদা রয়েছে। যেহেতু আইস অত্যন্ত দামি একটি মাদক, শিক্ষার্থীসহ যারা এতে আসক্ত হবে, স্বাভাবিকভাবেই তাদের নানারকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত না থাকলে তরুণ সমাজের যে ক্ষতি হবে, তা কোনোভাবে পূরণ করা যাবে না। মাদকের ব্যবহার বন্ধ না হলে সমাজে অপরাধের মাত্রাও কমানো কঠিন হবে। আইস, ইয়াবা, হেরোইন, ইত্যাদি মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন