বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
jugantor
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা কমাতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৯ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ‘সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বৈদেশিক ঋণ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে-করোনার কারণে দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়েছে; একইসঙ্গে কমেছে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই)। ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরিকৃত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতেই বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে ঋণের বকেয়ার অংশ, যার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বস্তুত, করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধির সময় শেষ হয়ে আসায় এগুলো পরিশোধ করতে হবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় ধরনের চাপ আসতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ২৮৮ কোটি ৬১ লাখ ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ৯১৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার এবং সরকারি খাতে ৩৭৫ কোটি ডলার। সাধারণত বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে নানারকম শর্ত পালন করতে হয়, জনস্বার্থ বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে যা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে দেশের উন্নয়ন গতিধারায় স্থবিরতা নেমে আসে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে হলে ধীরে ধীরে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে আনা জরুরি। দেখা যায়, বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রতি বছর অনেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও আর্থিক সামর্থ্য ও দক্ষতার মধ্যে সমন্বয় করা হয় না বলে রাষ্ট্রের অর্থ ও সময়ের অপচয় ঘটে; অথচ এর বিপরীতে দেশবাসীকে ঋণের সুদ গুনতে হয়। বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে অন্যান্য উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

এক দশক ধরে আর্থিক ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসনীয়। করোনার অভিঘাত সত্ত্বেও ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে চাই, মধ্যম আয়ের দেশ হতে চাই এবং ২০৪১ সালে উচ্চ আয়ের দেশে উত্তরণ ঘটাতে চাই। এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশে কর্মযজ্ঞ চলছে, নেওয়া হচ্ছে নানা প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম। সরকার একইসঙ্গে নৌ, বিমান ও রেলপথের উন্নয়নেও বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। তবে গৃহীত অনেক প্রকল্পেই নানারকম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে দেখা যাচ্ছে, যা রোধ করা জরুরি। দেশ যাতে শিল্পে এগোতে না পারে সে জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা সর্বজনবিদিত। অথচ পূর্ব এশিয়া, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পশ্চিমে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হতে পারে। সরকারের আন্তরিকতা এবং বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বন্দর ও অবকাঠামো খাতে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা, দুর্বলতা ও অনিয়ম-দুর্নীতি বিরাজ করছে। এছাড়া অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চাইলে এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দেশে আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতসহ ব্যবসা সম্পর্কিত নীতিমালা আরও সহজ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা কমাতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৯ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ‘সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বৈদেশিক ঋণ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে-করোনার কারণে দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়েছে; একইসঙ্গে কমেছে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই)। ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরিকৃত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতেই বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে ঋণের বকেয়ার অংশ, যার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বস্তুত, করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধির সময় শেষ হয়ে আসায় এগুলো পরিশোধ করতে হবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় ধরনের চাপ আসতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ২৮৮ কোটি ৬১ লাখ ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ৯১৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার এবং সরকারি খাতে ৩৭৫ কোটি ডলার। সাধারণত বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে নানারকম শর্ত পালন করতে হয়, জনস্বার্থ বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে যা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে দেশের উন্নয়ন গতিধারায় স্থবিরতা নেমে আসে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে হলে ধীরে ধীরে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে আনা জরুরি। দেখা যায়, বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রতি বছর অনেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও আর্থিক সামর্থ্য ও দক্ষতার মধ্যে সমন্বয় করা হয় না বলে রাষ্ট্রের অর্থ ও সময়ের অপচয় ঘটে; অথচ এর বিপরীতে দেশবাসীকে ঋণের সুদ গুনতে হয়। বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে অন্যান্য উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

এক দশক ধরে আর্থিক ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসনীয়। করোনার অভিঘাত সত্ত্বেও ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে চাই, মধ্যম আয়ের দেশ হতে চাই এবং ২০৪১ সালে উচ্চ আয়ের দেশে উত্তরণ ঘটাতে চাই। এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশে কর্মযজ্ঞ চলছে, নেওয়া হচ্ছে নানা প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম। সরকার একইসঙ্গে নৌ, বিমান ও রেলপথের উন্নয়নেও বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। তবে গৃহীত অনেক প্রকল্পেই নানারকম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে দেখা যাচ্ছে, যা রোধ করা জরুরি। দেশ যাতে শিল্পে এগোতে না পারে সে জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা সর্বজনবিদিত। অথচ পূর্ব এশিয়া, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পশ্চিমে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হতে পারে। সরকারের আন্তরিকতা এবং বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বন্দর ও অবকাঠামো খাতে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা, দুর্বলতা ও অনিয়ম-দুর্নীতি বিরাজ করছে। এছাড়া অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চাইলে এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দেশে আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতসহ ব্যবসা সম্পর্কিত নীতিমালা আরও সহজ করা প্রয়োজন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন