নিয়ন্ত্রণহীন সড়ক দুর্ঘটনা
jugantor
নিয়ন্ত্রণহীন সড়ক দুর্ঘটনা
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ আমলে নিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৯ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার ব্যাপকতা যেন কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মানুষ। শনিবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহত এবং ১০ হন আহত হয়েছেন। সেদিন অন্য কয়েকটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ছয়জন। এটি রোববারের যুগান্তরের খবর। এদিকে গতকালের যুগান্তরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জনের প্রাণহানির খবর রয়েছে। বস্তুত সড়ক দুর্ঘটনা পরিণত হয়েছে নিত্য ঘটনায়। আর এতে প্রাণ হারানো ছাড়াও অনেকে পঙ্গু হয়ে কাটাচ্ছেন তাদের বাকি জীবন। প্রাণ হারানো বা পঙ্গু হওয়া লোকটি যদি পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে সেই পরিবারটির অবস্থা কী হয়, তা সহজেই অনুমেয়। প্রকৃতপক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনাই নয়, এর আর্থিক ক্ষতি বিপুল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এসব দুর্ঘটনার কারণে বছরে জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ হারাচ্ছে দেশ। কাজেই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হবে যে কোনো উপায়ে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের অতিরিক্ত গতি এবং চালকের বেপরোয়া মনোভাব। মহাসড়কে অপরিকল্পিত স্পিডব্রেকার বা গতিরোধকগুলোও দুর্ঘটনার জন্য অনেকাংশে দায়ী। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের পাশে হাটবাজার বসা, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব ইত্যাদি কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে যান চলাচলের সর্বোচ্চ গতি বেঁধে দিয়ে এবং গতি পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করে চালকদের ওই নির্দিষ্ট গতি মেনে চলতে বাধ্য করা হলে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে বলে মনে করি আমরা। তাছাড়া চালকদের দক্ষতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে। মহাসড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের কাজটি করতে হবে সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী। যত্রতত্র গতিরোধক নির্মাণ রোধে নিতে হবে কার্যকর ব্যবস্থা। অভিযোগ আছে, অনেক পরিবহণ মালিক চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেন না। ক্লান্ত-শ্রান্ত চালক গাড়ি চালালে স্বভাবতই তাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পরামর্শ ও সুপারিশ করা হলেও তা যে অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হচ্ছে, দেশে প্রতিদিন ঘটা সড়ক দুর্ঘটনাগুলোই এর বড় প্রমাণ। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইনের প্রয়োগ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ চালক এবং সড়কে চলাচল উপযোগী ভালো মানের যানবাহন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একইসঙ্গে জনগণকেও হতে হবে সচেতন।

নিয়ন্ত্রণহীন সড়ক দুর্ঘটনা

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ আমলে নিতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৯ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার ব্যাপকতা যেন কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মানুষ। শনিবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহত এবং ১০ হন আহত হয়েছেন। সেদিন অন্য কয়েকটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ছয়জন। এটি রোববারের যুগান্তরের খবর। এদিকে গতকালের যুগান্তরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জনের প্রাণহানির খবর রয়েছে। বস্তুত সড়ক দুর্ঘটনা পরিণত হয়েছে নিত্য ঘটনায়। আর এতে প্রাণ হারানো ছাড়াও অনেকে পঙ্গু হয়ে কাটাচ্ছেন তাদের বাকি জীবন। প্রাণ হারানো বা পঙ্গু হওয়া লোকটি যদি পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে সেই পরিবারটির অবস্থা কী হয়, তা সহজেই অনুমেয়। প্রকৃতপক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনাই নয়, এর আর্থিক ক্ষতি বিপুল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এসব দুর্ঘটনার কারণে বছরে জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ হারাচ্ছে দেশ। কাজেই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হবে যে কোনো উপায়ে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের অতিরিক্ত গতি এবং চালকের বেপরোয়া মনোভাব। মহাসড়কে অপরিকল্পিত স্পিডব্রেকার বা গতিরোধকগুলোও দুর্ঘটনার জন্য অনেকাংশে দায়ী। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের পাশে হাটবাজার বসা, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব ইত্যাদি কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে যান চলাচলের সর্বোচ্চ গতি বেঁধে দিয়ে এবং গতি পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করে চালকদের ওই নির্দিষ্ট গতি মেনে চলতে বাধ্য করা হলে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে বলে মনে করি আমরা। তাছাড়া চালকদের দক্ষতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে। মহাসড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের কাজটি করতে হবে সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী। যত্রতত্র গতিরোধক নির্মাণ রোধে নিতে হবে কার্যকর ব্যবস্থা। অভিযোগ আছে, অনেক পরিবহণ মালিক চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেন না। ক্লান্ত-শ্রান্ত চালক গাড়ি চালালে স্বভাবতই তাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পরামর্শ ও সুপারিশ করা হলেও তা যে অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হচ্ছে, দেশে প্রতিদিন ঘটা সড়ক দুর্ঘটনাগুলোই এর বড় প্রমাণ। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইনের প্রয়োগ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ চালক এবং সড়কে চলাচল উপযোগী ভালো মানের যানবাহন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একইসঙ্গে জনগণকেও হতে হবে সচেতন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন