কারাগারের অনিয়ম-দুর্নীতি
jugantor
কারাগারের অনিয়ম-দুর্নীতি
অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন

  সম্পাদকীয়  

২০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বিভিন্ন কারাগারের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি বহুল আলোচিত। প্রশ্ন হলো, কারাগারগুলোয় দুর্র্র্নীতির যে চক্র তৈরি হয়েছে, তা নির্মূল করার কাজে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসছে না কেন? শীর্ষপদে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা যখন বিপুল পরিমাণ অর্থসহ গ্রেফতার হন তখন স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, কারাগার কি তাহলে টাকার খনি হয়ে উঠেছে?

মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অপকর্মের বিস্তর অভিযোগ থাকার পরও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন কারা অধিদপ্তরের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল অবৈধ সম্পদ অর্জন। নিঃসন্দেহে এটি একটি গুরুতর অভিযোগ। কারণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করতে গিয়ে মানুষ নানারকম অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে।

শীর্ষ কর্মকর্তারা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও যে দুর্নীতি করতে উৎসাহ পাবেন, তাতে সন্দেহ কী? কারাগার-সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে এর যে ক্ষতি হয়, তা অপূরণীয়। কাজেই এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি সমূলে উৎপাটনে কোনো রকম শৈথিল্য প্রদর্শন করা অনুচিত।

বিভিন্ন কারাগারে কয়েদি নির্যাতন, অনিয়ম-দুর্নীতি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বন্দিদের খাবার, স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কারাগারে ভালো স্থানে থাকার ব্যবস্থা-এ সবকিছু চলে টাকার বিনিময়ে। অভিযোগ আছে, দুর্ধর্ষ আসামিরা কারাগারে বসেই টাকার বিনিময়ে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে; অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হয় অপরাধের নির্দেশনাও। টাকার বিনিময়ে বড় অপরাধীরা কারাগারে বিলাসী জীবনযাপন করে।

কারাগারকে বলা হয় সংশোধনাগার। সেখানে অপরাধীদের রাখা হয় কৃত অপরাধের সাজা প্রদানের পাশাপাশি সংশোধনের উদ্দেশ্যে। সেই কারাগারেই যদি চলে নানা ধরনের অপরাধকর্ম, তাহলে তা উদ্বেগের বিষয় বৈকি! আমরা মনে করি, কারাগারগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য সেগুলো ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।

এ উদ্দেশ্যে কারাগারে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ব্যবস্থা করা দরকার। এ ধরনের প্রশিক্ষণের পরও যদি সংশ্লিষ্ট কেউ দায়িত্ব পালনে উদাসীনতার পরিচয় দেন, সেক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি যারা প্রকৃত পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে সক্ষম হবেন, তাদের পুরস্কৃত করা উচিত। কারাগারের ভেতরে-বাইরে সিসি টিভি সংযোগের ব্যবস্থাসহ উন্নত প্রযুক্তির মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করাও জরুরি। সেই সঙ্গে দূর করতে হবে জনবল সংকট। এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে আশা করা যায়, দেশের কারাগারগুলো আধুনিক সংশোধনাগারে পরিণত হবে।

কারাগারের অনিয়ম-দুর্নীতি

অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন
 সম্পাদকীয় 
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বিভিন্ন কারাগারের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি বহুল আলোচিত। প্রশ্ন হলো, কারাগারগুলোয় দুর্র্র্নীতির যে চক্র তৈরি হয়েছে, তা নির্মূল করার কাজে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসছে না কেন? শীর্ষপদে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা যখন বিপুল পরিমাণ অর্থসহ গ্রেফতার হন তখন স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, কারাগার কি তাহলে টাকার খনি হয়ে উঠেছে?

মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অপকর্মের বিস্তর অভিযোগ থাকার পরও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন কারা অধিদপ্তরের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল অবৈধ সম্পদ অর্জন। নিঃসন্দেহে এটি একটি গুরুতর অভিযোগ। কারণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করতে গিয়ে মানুষ নানারকম অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে।

শীর্ষ কর্মকর্তারা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও যে দুর্নীতি করতে উৎসাহ পাবেন, তাতে সন্দেহ কী? কারাগার-সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে এর যে ক্ষতি হয়, তা অপূরণীয়। কাজেই এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি সমূলে উৎপাটনে কোনো রকম শৈথিল্য প্রদর্শন করা অনুচিত।

বিভিন্ন কারাগারে কয়েদি নির্যাতন, অনিয়ম-দুর্নীতি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বন্দিদের খাবার, স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কারাগারে ভালো স্থানে থাকার ব্যবস্থা-এ সবকিছু চলে টাকার বিনিময়ে। অভিযোগ আছে, দুর্ধর্ষ আসামিরা কারাগারে বসেই টাকার বিনিময়ে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে; অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হয় অপরাধের নির্দেশনাও। টাকার বিনিময়ে বড় অপরাধীরা কারাগারে বিলাসী জীবনযাপন করে।

কারাগারকে বলা হয় সংশোধনাগার। সেখানে অপরাধীদের রাখা হয় কৃত অপরাধের সাজা প্রদানের পাশাপাশি সংশোধনের উদ্দেশ্যে। সেই কারাগারেই যদি চলে নানা ধরনের অপরাধকর্ম, তাহলে তা উদ্বেগের বিষয় বৈকি! আমরা মনে করি, কারাগারগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য সেগুলো ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।

এ উদ্দেশ্যে কারাগারে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ব্যবস্থা করা দরকার। এ ধরনের প্রশিক্ষণের পরও যদি সংশ্লিষ্ট কেউ দায়িত্ব পালনে উদাসীনতার পরিচয় দেন, সেক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি যারা প্রকৃত পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে সক্ষম হবেন, তাদের পুরস্কৃত করা উচিত। কারাগারের ভেতরে-বাইরে সিসি টিভি সংযোগের ব্যবস্থাসহ উন্নত প্রযুক্তির মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করাও জরুরি। সেই সঙ্গে দূর করতে হবে জনবল সংকট। এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে আশা করা যায়, দেশের কারাগারগুলো আধুনিক সংশোধনাগারে পরিণত হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন