সাম্প্রদায়িক সহিংসতা
jugantor
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা
প্রয়োজন সম্প্রীতির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য

  সম্পাদকীয়  

২২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগ।

এই কর্মসূচিতে উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দলটির নেতারা।

তারা বলেছেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হবে, এদেশে তাদের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।

সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তারা। বলা বাহুল্য, আওয়ামী লীগের সম্প্রীতি সমাবেশ কর্মসূচির উদ্যোগটি ইতিবাচক।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যা ঘটেছে, তাকে এককথায় ন্যক্কারজনক বলা যায়। এসব ঘটনা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা থেকে।

পরিতাপের বিষয়, একশ্রেণির ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তি এই চেতনার বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর তাদের আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আর তাই প্রয়োজন পড়েছে শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির, যে শক্তি সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই প্রয়োজনের তাগিদ থেকেই সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে। এজন্য তাদের আমরা সাধুবাদ জানাই।

তবে আমরা লক্ষ করছি, ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল, বিশেষত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি চলছে। এটি অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। দেশে কোনো একটি বড় ঘটনা ঘটলে দল দুটো একে অপরকে ঘায়েল করার প্রতিযোগিতায় নামে। সর্বশেষ কুমিল্লাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করে প্রতিদিনই বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন দল দুটির নেতারা। ঘটনার পেছনে একে অন্যের ষড়যন্ত্র খুঁজছেন। এর আগে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংতার ক্ষেত্রেও একই দোষারোপের রাজনীতি লক্ষ করেছি আমরা। বলা নিষ্প্রয়োজন, পারস্পরিক এই দোষারোপের রাজনীতির কারণে প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। আমরা দল দুটির নেতৃত্বকে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ জানাব। সাম্প্রদায়িকতার ইস্যুতে প্রয়োজন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের শুভবুদ্ধি। শুভবুদ্ধির শক্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হলেই কেবল সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রোখা যাবে, অন্যথায় নয়।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা

প্রয়োজন সম্প্রীতির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য
 সম্পাদকীয় 
২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগ।

এই কর্মসূচিতে উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দলটির নেতারা।

তারা বলেছেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হবে, এদেশে তাদের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।

সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তারা। বলা বাহুল্য, আওয়ামী লীগের সম্প্রীতি সমাবেশ কর্মসূচির উদ্যোগটি ইতিবাচক।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যা ঘটেছে, তাকে এককথায় ন্যক্কারজনক বলা যায়। এসব ঘটনা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা থেকে।

পরিতাপের বিষয়, একশ্রেণির ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তি এই চেতনার বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর তাদের আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আর তাই প্রয়োজন পড়েছে শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির, যে শক্তি সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই প্রয়োজনের তাগিদ থেকেই সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে। এজন্য তাদের আমরা সাধুবাদ জানাই।

তবে আমরা লক্ষ করছি, ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল, বিশেষত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি চলছে। এটি অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। দেশে কোনো একটি বড় ঘটনা ঘটলে দল দুটো একে অপরকে ঘায়েল করার প্রতিযোগিতায় নামে। সর্বশেষ কুমিল্লাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করে প্রতিদিনই বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন দল দুটির নেতারা। ঘটনার পেছনে একে অন্যের ষড়যন্ত্র খুঁজছেন। এর আগে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংতার ক্ষেত্রেও একই দোষারোপের রাজনীতি লক্ষ করেছি আমরা। বলা নিষ্প্রয়োজন, পারস্পরিক এই দোষারোপের রাজনীতির কারণে প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। আমরা দল দুটির নেতৃত্বকে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ জানাব। সাম্প্রদায়িকতার ইস্যুতে প্রয়োজন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের শুভবুদ্ধি। শুভবুদ্ধির শক্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হলেই কেবল সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রোখা যাবে, অন্যথায় নয়।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন