সেবাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী: সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে তাদের
jugantor
সেবাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী: সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে তাদের

  সম্পাদকীয়  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের সংবিধানে আছে, নাগরিকের কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে অধিকার ও সেবায় তার প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, দেশে ঘটছে এমনটাই। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেও এসব সেবায় তাদের অন্তর্ভুক্তিতে বাধা ও বৈষম্য রয়েছে। জবাবদিহিতার ঘাটতিও রয়েছে সমভাবে।

বৃহস্পতিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব কথা তুলে ধরেছে। সংস্থাটির মতে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক সেবা নিশ্চিতে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

টিআইবির গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। এটি তাদের প্রতি অবজ্ঞা ও উদাসীনতার ফল, যে কারণে তাদের মূলধারায় নিয়ে আসা যাচ্ছে না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকারি সেবা ও জবাবদিহি ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রচারেও রয়েছে ঘাটতি। বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান জবাবদিহি কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। আবার আইনি সীমাবদ্ধতাও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সেবা নিশ্চিতে একটি বড় বাধা হিসাবে চিহ্নিত করেছে টিআইবি।

সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এ পিছিয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে টিআইবি ১০টি সুপারিশ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে বাধা দূর করা, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে বৈষম্য বিলোপ আইন দ্রুত প্রণয়ন করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে ও গণমাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষায় যথাযথভাবে ও নিয়মিত প্রচার করা।

সেবাসংক্রান্ত অভিযোগ কাঠামো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীবান্ধব করার জন্য সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী থেকে মৌখিক অভিযোগ গ্রহণ ও তা লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা এবং সমস্যা সমাধানে নিয়মিত ফলোআপের ব্যবস্থা করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের গণশুনানিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিয়ে আলাদা সময় বরাদ্দ করা ও সমস্যা প্রকাশে উৎসাহ প্রদান ইত্যাদি। এসব সুপারিশ উত্থাপন করে টিআইবি বলেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশের মানসিকতা অনেক সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নেতিবাচক এবং তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবাপ্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করে।

সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যে ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, তার একটি চিত্র উঠে এসেছে টিআইবির গবেষণায়। আমরা মনে করি, এ চিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য ধরে টিআইবি উত্থাপিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো এগিয়ে আসবে।

দ্বিতীয় কথা, গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে বৈষম্য দূরীকরণে মানবাধিকার কমিশন যে ‘খসড়া বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রস্তুত করেছে, সেটি জাতীয় সংসদে পাশ করতে হবে। মোট কথা, সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করে তাদের নিয়ে আসতে হবে সমাজের মূলধারায়।

সেবাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী: সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে তাদের

 সম্পাদকীয় 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের সংবিধানে আছে, নাগরিকের কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে অধিকার ও সেবায় তার প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, দেশে ঘটছে এমনটাই। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেও এসব সেবায় তাদের অন্তর্ভুক্তিতে বাধা ও বৈষম্য রয়েছে। জবাবদিহিতার ঘাটতিও রয়েছে সমভাবে।

বৃহস্পতিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব কথা তুলে ধরেছে। সংস্থাটির মতে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক সেবা নিশ্চিতে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

টিআইবির গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। এটি তাদের প্রতি অবজ্ঞা ও উদাসীনতার ফল, যে কারণে তাদের মূলধারায় নিয়ে আসা যাচ্ছে না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকারি সেবা ও জবাবদিহি ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রচারেও রয়েছে ঘাটতি। বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান জবাবদিহি কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। আবার আইনি সীমাবদ্ধতাও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সেবা নিশ্চিতে একটি বড় বাধা হিসাবে চিহ্নিত করেছে টিআইবি।

সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এ পিছিয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে টিআইবি ১০টি সুপারিশ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে বাধা দূর করা, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে বৈষম্য বিলোপ আইন দ্রুত প্রণয়ন করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে ও গণমাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষায় যথাযথভাবে ও নিয়মিত প্রচার করা।

সেবাসংক্রান্ত অভিযোগ কাঠামো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীবান্ধব করার জন্য সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী থেকে মৌখিক অভিযোগ গ্রহণ ও তা লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা এবং সমস্যা সমাধানে নিয়মিত ফলোআপের ব্যবস্থা করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের গণশুনানিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিয়ে আলাদা সময় বরাদ্দ করা ও সমস্যা প্রকাশে উৎসাহ প্রদান ইত্যাদি। এসব সুপারিশ উত্থাপন করে টিআইবি বলেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশের মানসিকতা অনেক সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নেতিবাচক এবং তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবাপ্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করে।

সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যে ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, তার একটি চিত্র উঠে এসেছে টিআইবির গবেষণায়। আমরা মনে করি, এ চিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য ধরে টিআইবি উত্থাপিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো এগিয়ে আসবে।

দ্বিতীয় কথা, গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে বৈষম্য দূরীকরণে মানবাধিকার কমিশন যে ‘খসড়া বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রস্তুত করেছে, সেটি জাতীয় সংসদে পাশ করতে হবে। মোট কথা, সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করে তাদের নিয়ে আসতে হবে সমাজের মূলধারায়।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন