বাণিজ্যে করোনার প্রভাব: শিল্প খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার বিকল্প নেই
jugantor
বাণিজ্যে করোনার প্রভাব: শিল্প খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার বিকল্প নেই

  সম্পাদকীয়  

২৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য করোনার নেতিবাচক প্রভাব থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করলেও এখনো মন্দার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের নীতি সহায়তা দিতে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) বা ঋণপত্রের বকেয়া পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি করতে চাইলে ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটাই একমাত্র বৈধ মাধ্যম। এলসির মাধ্যমেই ব্যবসায়ীরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করে থাকেন। করোনার কারণে গত বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে এলসির বকেয়া পরিশোধের মেয়াদ।

ব্যবসা-বাণিজ্যে করোনার প্রভাবের কারণে গত দেড় বছরে বকেয়া এলসির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় ১২ হাজার ৪০ কোটি টাকারও বেশি। জানা গেছে, ১ অক্টোবর থেকে বেশিরভাগ এলসির বকেয়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে বেড়ে গেছে ডলারের চাহিদা। বর্তমানে দেশে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার এটিও একটি কারণ।

করোনার কারণে গত বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির ছিল। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। ফলে এপ্রিল থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য আবারও স্থবির হয়ে পড়ে এবং এ পরিস্থিতি বিরাজ করে আগস্ট পর্যন্ত। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় উৎস হলো পণ্য ও সেবা রপ্তানি খাত। করোনার কারণে সবচেয়ে বিপর্যয়কর অবস্থায় পড়েছিল এ খাতটি। ইতোমধ্যে পণ্য ও সেবা রপ্তানি খাতের আয় অস্বাভাবিক কমে গেছে। দেশে অভ্যন্তরীণভাবে পণ্য ও সেবা উৎপাদন কমেছে।

তবে এর চেয়েও বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোক্তাদের ভোগব্যয় করার সামর্থ্য ও প্রবণতা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এছাড়া কাঁচামালের মূল্যও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। ফলে আগামীতে স্বাভাবিক অবস্থায় পণ্য রপ্তানি বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এ কারণে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার অভাব দূরীকরণে সরকারের উচিত সব ধরনের নীতি সহায়তা প্রদান করা।

করোনা মহামারির কারণে গোটা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের অর্থনীতিরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। মহামারি মোকাবিলায় সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের কারণে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়েছে। লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে গিয়ে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে শিল্প খাতে। দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি শিল্প খাতের অবদানের কথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো শিল্প খাত।

এ খাত শুধু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকেই সমৃদ্ধ করেনি, একইসঙ্গে নিশ্চিত করেছে অগণিত মানুষের কর্মসংস্থান। তাই বলা যায়, শিল্প খাত না বাঁচলে মানুষের জীবিকার পথ রুদ্ধ হবে। শিল্প খাত বাঁচলে তবেই মানুষ বাঁচবে। কাজেই শিল্প খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার বিকল্প নেই।

বাণিজ্যে করোনার প্রভাব: শিল্প খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার বিকল্প নেই

 সম্পাদকীয় 
২৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য করোনার নেতিবাচক প্রভাব থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করলেও এখনো মন্দার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের নীতি সহায়তা দিতে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) বা ঋণপত্রের বকেয়া পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি করতে চাইলে ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটাই একমাত্র বৈধ মাধ্যম। এলসির মাধ্যমেই ব্যবসায়ীরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করে থাকেন। করোনার কারণে গত বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে এলসির বকেয়া পরিশোধের মেয়াদ।

ব্যবসা-বাণিজ্যে করোনার প্রভাবের কারণে গত দেড় বছরে বকেয়া এলসির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় ১২ হাজার ৪০ কোটি টাকারও বেশি। জানা গেছে, ১ অক্টোবর থেকে বেশিরভাগ এলসির বকেয়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে বেড়ে গেছে ডলারের চাহিদা। বর্তমানে দেশে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার এটিও একটি কারণ।

করোনার কারণে গত বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির ছিল। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। ফলে এপ্রিল থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য আবারও স্থবির হয়ে পড়ে এবং এ পরিস্থিতি বিরাজ করে আগস্ট পর্যন্ত। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় উৎস হলো পণ্য ও সেবা রপ্তানি খাত। করোনার কারণে সবচেয়ে বিপর্যয়কর অবস্থায় পড়েছিল এ খাতটি। ইতোমধ্যে পণ্য ও সেবা রপ্তানি খাতের আয় অস্বাভাবিক কমে গেছে। দেশে অভ্যন্তরীণভাবে পণ্য ও সেবা উৎপাদন কমেছে।

তবে এর চেয়েও বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোক্তাদের ভোগব্যয় করার সামর্থ্য ও প্রবণতা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এছাড়া কাঁচামালের মূল্যও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। ফলে আগামীতে স্বাভাবিক অবস্থায় পণ্য রপ্তানি বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এ কারণে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার অভাব দূরীকরণে সরকারের উচিত সব ধরনের নীতি সহায়তা প্রদান করা।

করোনা মহামারির কারণে গোটা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের অর্থনীতিরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। মহামারি মোকাবিলায় সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের কারণে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়েছে। লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে গিয়ে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে শিল্প খাতে। দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি শিল্প খাতের অবদানের কথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো শিল্প খাত।

এ খাত শুধু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকেই সমৃদ্ধ করেনি, একইসঙ্গে নিশ্চিত করেছে অগণিত মানুষের কর্মসংস্থান। তাই বলা যায়, শিল্প খাত না বাঁচলে মানুষের জীবিকার পথ রুদ্ধ হবে। শিল্প খাত বাঁচলে তবেই মানুষ বাঁচবে। কাজেই শিল্প খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার বিকল্প নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন