অনিরাপদ পানি: ঢাকা ওয়াসাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে
jugantor
অনিরাপদ পানি: ঢাকা ওয়াসাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াসার পানিতে সংক্রমণ ঝুঁকি থাকার বিষয়টি উদ্বেগজনক। রাজধানীর প্রায় শতভাগ মানুষের পানির উৎস ঢাকা ওয়াসা (ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ)। তবে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাকৃত পানিকে ওয়াসা ‘নিরাপদ’ বললেও প্রতিদিন নানাভাবে তা দূষণের শিকার হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকে পানি ফুটিয়ে পান করলেও তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় নানা ধরনের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। ইতঃপূর্বে বিশ্বব্যাংক ‘প্রমিজিং প্রগ্রেস : এ ডায়াগনস্টিক অব ওয়াটার সাপ্লাই, স্যানিটেশন, হাইজিন অ্যান্ড প্রভার্টি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, তাতে দেশে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানির ৮০ শতাংশেই ডায়রিয়ার জীবাণুর (ই-কোলাই) উপস্থিতির কথা বলা হয়েছিল।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর বাইরে বিভিন্ন পদ্ধতিতে সরবরাহ করা খাবার পানির অন্তত ৪১ শতাংশ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া বহন করছে, যা পান করে মানুষ ডায়রিয়া, জন্ডিস, কলেরাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার আওতায় এলেও অনিরাপদ পানির কারণে তারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আমরা মনে করি, এ অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হওয়া উচিত। বলার অপেক্ষা রাখে না, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে মানুষের দেহে বিভিন্ন রোগ ও উপসর্গের প্রকোপ বাড়ায় নষ্ট হচ্ছে আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

নিরাপদ পানির সংকট ঘোচাতে মানুষ যে বিকল্প উৎসের সন্ধান করবে, তারও কোনো উপায় নেই। দেশে বোতলজাত ও কনটেইনারে সরবরাহকৃত বিশুদ্ধ পানি বিক্রির নামে ভোক্তাদের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া কতজন মানুষ বোতলজাত পানি কিনে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে সক্ষম, সেটিও একটি প্রশ্ন।

বস্তুত রাজধানীসহ সারা দেশে তথাকথিত মিনারেল ওয়াটারের নামে যেসব বোতলজাত পানি বিক্রি হচ্ছে, হাতেগোনা দু-একটি বাদে এর অধিকাংশই মানসম্পন্ন নয়। দেশে বাজারজাতকৃত প্রায় সব বোতল, কনটেইনার ও প্লাস্টিক প্যাকেটের পানিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত আয়রন, পিএইচ, ক্লোরিন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম নেই বললেই চলে।

এর বিপরীতে এসব কোম্পানির পানিতে লেড, ক্যাডমিমাম, কলিফর্ম ও জিংক উপাদানের অস্তিত্বও বিদ্যমান বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেউ যদি ক্যাডমিমামযুক্ত পানি নিয়মিত পান করে, তাহলে তার শরীরে পুষ্টির অসমতা দেখা দিতে পারে। আর এর প্রতিক্রিয়ায় পানি পানকারী ব্যক্তিরা ক্যানসারেও আক্রান্ত হতে পারে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ওয়াসা তাদের কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠাবান হলে পানি নিয়ে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না। কাজেই ওয়াসাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

অনিরাপদ পানি: ঢাকা ওয়াসাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে

 সম্পাদকীয় 
২৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াসার পানিতে সংক্রমণ ঝুঁকি থাকার বিষয়টি উদ্বেগজনক। রাজধানীর প্রায় শতভাগ মানুষের পানির উৎস ঢাকা ওয়াসা (ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ)। তবে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাকৃত পানিকে ওয়াসা ‘নিরাপদ’ বললেও প্রতিদিন নানাভাবে তা দূষণের শিকার হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকে পানি ফুটিয়ে পান করলেও তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় নানা ধরনের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। ইতঃপূর্বে বিশ্বব্যাংক ‘প্রমিজিং প্রগ্রেস : এ ডায়াগনস্টিক অব ওয়াটার সাপ্লাই, স্যানিটেশন, হাইজিন অ্যান্ড প্রভার্টি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, তাতে দেশে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানির ৮০ শতাংশেই ডায়রিয়ার জীবাণুর (ই-কোলাই) উপস্থিতির কথা বলা হয়েছিল।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর বাইরে বিভিন্ন পদ্ধতিতে সরবরাহ করা খাবার পানির অন্তত ৪১ শতাংশ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া বহন করছে, যা পান করে মানুষ ডায়রিয়া, জন্ডিস, কলেরাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার আওতায় এলেও অনিরাপদ পানির কারণে তারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আমরা মনে করি, এ অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হওয়া উচিত। বলার অপেক্ষা রাখে না, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে মানুষের দেহে বিভিন্ন রোগ ও উপসর্গের প্রকোপ বাড়ায় নষ্ট হচ্ছে আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

নিরাপদ পানির সংকট ঘোচাতে মানুষ যে বিকল্প উৎসের সন্ধান করবে, তারও কোনো উপায় নেই। দেশে বোতলজাত ও কনটেইনারে সরবরাহকৃত বিশুদ্ধ পানি বিক্রির নামে ভোক্তাদের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া কতজন মানুষ বোতলজাত পানি কিনে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে সক্ষম, সেটিও একটি প্রশ্ন।

বস্তুত রাজধানীসহ সারা দেশে তথাকথিত মিনারেল ওয়াটারের নামে যেসব বোতলজাত পানি বিক্রি হচ্ছে, হাতেগোনা দু-একটি বাদে এর অধিকাংশই মানসম্পন্ন নয়। দেশে বাজারজাতকৃত প্রায় সব বোতল, কনটেইনার ও প্লাস্টিক প্যাকেটের পানিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত আয়রন, পিএইচ, ক্লোরিন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম নেই বললেই চলে।

এর বিপরীতে এসব কোম্পানির পানিতে লেড, ক্যাডমিমাম, কলিফর্ম ও জিংক উপাদানের অস্তিত্বও বিদ্যমান বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেউ যদি ক্যাডমিমামযুক্ত পানি নিয়মিত পান করে, তাহলে তার শরীরে পুষ্টির অসমতা দেখা দিতে পারে। আর এর প্রতিক্রিয়ায় পানি পানকারী ব্যক্তিরা ক্যানসারেও আক্রান্ত হতে পারে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ওয়াসা তাদের কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠাবান হলে পানি নিয়ে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না। কাজেই ওয়াসাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন