শেয়ারবাজারে অস্থিরতা
jugantor
শেয়ারবাজারে অস্থিরতা
বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির কারণে স্বভাবতই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত সোমবার পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসসি) মূল্যসূচক ৪৮২ পয়েন্ট কমেছে।

আর বাজার মূলধন কমেছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। সোমবার একদিনেই সূচক কমেছে ১২০ পয়েন্ট। বস্তুত দুই সপ্তাহ ধরে টানা দরপতন ঘটছে শেয়ারবাজারে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, শেয়ারবাজারে এই দরপতনের পেছনে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে কিছু প্রভাবশালী কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়া। এসব শেয়ারের দাম কেন কমে গেল তা খতিয়ে দেখা দরকার। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের এই পতন অপ্রত্যাশিত হলেও অস্বাভাবিক নয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক যুগান্তরকে বলেছেন, বাজার নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। কারণ গত এক বছরে সূচক প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পয়েন্ট বেড়েছে। সেখান থেকে কিছু মূল্য সংশোধন হওয়া স্বাভাবিক।

শেয়ারবাজারের সূচকের উত্থান-পতন যে একটি স্বাভাবিক বিষয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে দেশে এ বাজারের বিনিয়োগকারীদের অতীতের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। শেয়ারবাজারে বড় ধরনের কারসাজির ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। বিশেষ করে ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ধস নামায় বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনেকে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। এতে বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। জন্ম নেয় আস্থাহীনতা। শেয়ারবাজারে ধসের ওই ঘটনায় কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ওই ধসের পর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আর সেভাবে ফিরে আসেনি। তাই বিনিয়োগকারীরা বাজারে অস্থিরতা দেখলেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অবশ্য বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে তা এ বাজারের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে সেটা বলার সময় এখনো আসেনি। চলতি বছরের শুরু থেকে শেয়ারবাজারে ধীরে ধীরে চাঙ্গাভাব ফিরে আসছিল। এতে মনে হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। আমরা মনে করি, দীর্ঘদিন আস্থা সংকটে ভোগা শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের এ আস্থাটা ধরে রাখা খুবই জরুরি। সে জন্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসইসিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরা, সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়া প্রত্যাশিত। তবে যখন এর গতিপ্রকৃতি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে তখনই সন্দেহ হয়। এ কারণে বিনিয়োগকারীদেরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তাদের উচিত বুঝেশুনে শেয়ার কেনা। যেসব কোম্পানির মৌল ভিত্তি ভালো, সেসব কোম্পানির শেয়ার কেনাই হবে শুভবুদ্ধির পরিচায়ক। ঢালাওভাবে সব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লে বুঝতে হবে এ বৃদ্ধি স্বাভাবিক নয়। তাতে গা না ভাসানোই শ্রেয়। শুধু ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষাই নয়, শিল্পায়নে অর্থায়নের অন্যতম উৎস হতে পারে শেয়ারবাজার। তাই এ বাজারের টেকসই উন্নয়নের বিকল্প নেই। শেয়ারবাজারে আবারও যাতে কোনো অসাধু চক্র সক্রিয় হতে না পারে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে খেয়াল রাখতে হবে।

শেয়ারবাজারে অস্থিরতা

বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে
 সম্পাদকীয় 
২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির কারণে স্বভাবতই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত সোমবার পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসসি) মূল্যসূচক ৪৮২ পয়েন্ট কমেছে।

আর বাজার মূলধন কমেছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। সোমবার একদিনেই সূচক কমেছে ১২০ পয়েন্ট। বস্তুত দুই সপ্তাহ ধরে টানা দরপতন ঘটছে শেয়ারবাজারে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, শেয়ারবাজারে এই দরপতনের পেছনে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে কিছু প্রভাবশালী কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়া। এসব শেয়ারের দাম কেন কমে গেল তা খতিয়ে দেখা দরকার। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের এই পতন অপ্রত্যাশিত হলেও অস্বাভাবিক নয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক যুগান্তরকে বলেছেন, বাজার নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। কারণ গত এক বছরে সূচক প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পয়েন্ট বেড়েছে। সেখান থেকে কিছু মূল্য সংশোধন হওয়া স্বাভাবিক।

শেয়ারবাজারের সূচকের উত্থান-পতন যে একটি স্বাভাবিক বিষয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে দেশে এ বাজারের বিনিয়োগকারীদের অতীতের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। শেয়ারবাজারে বড় ধরনের কারসাজির ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। বিশেষ করে ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ধস নামায় বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনেকে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। এতে বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। জন্ম নেয় আস্থাহীনতা। শেয়ারবাজারে ধসের ওই ঘটনায় কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ওই ধসের পর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আর সেভাবে ফিরে আসেনি। তাই বিনিয়োগকারীরা বাজারে অস্থিরতা দেখলেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অবশ্য বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে তা এ বাজারের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে সেটা বলার সময় এখনো আসেনি। চলতি বছরের শুরু থেকে শেয়ারবাজারে ধীরে ধীরে চাঙ্গাভাব ফিরে আসছিল। এতে মনে হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। আমরা মনে করি, দীর্ঘদিন আস্থা সংকটে ভোগা শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের এ আস্থাটা ধরে রাখা খুবই জরুরি। সে জন্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসইসিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরা, সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়া প্রত্যাশিত। তবে যখন এর গতিপ্রকৃতি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে তখনই সন্দেহ হয়। এ কারণে বিনিয়োগকারীদেরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তাদের উচিত বুঝেশুনে শেয়ার কেনা। যেসব কোম্পানির মৌল ভিত্তি ভালো, সেসব কোম্পানির শেয়ার কেনাই হবে শুভবুদ্ধির পরিচায়ক। ঢালাওভাবে সব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লে বুঝতে হবে এ বৃদ্ধি স্বাভাবিক নয়। তাতে গা না ভাসানোই শ্রেয়। শুধু ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষাই নয়, শিল্পায়নে অর্থায়নের অন্যতম উৎস হতে পারে শেয়ারবাজার। তাই এ বাজারের টেকসই উন্নয়নের বিকল্প নেই। শেয়ারবাজারে আবারও যাতে কোনো অসাধু চক্র সক্রিয় হতে না পারে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে খেয়াল রাখতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন