ভয়ংকর মাদক আইস
jugantor
ভয়ংকর মাদক আইস
অভিযানের পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন

  সম্পাদকীয়  

২৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ইয়াবা, হেরোইন ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইস নামের ভয়ংকর এক মাদক। এ আইসের প্রবেশ ঠেকাতে হবে যে কোনো উপায়ে। দেশে মাদক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও মাদকবিরোধী অভিযানে কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের সাফল্য দৃশ্যমান নয়। মিয়ানমার থেকে দেশে বিভিন্ন রকম মাদক প্রবেশের বিষয়টি বহুল আলোচিত। দেশের দীর্ঘ সীমান্ত অরক্ষিত থাকায় সহজেই প্রবেশ করছে নানা রকম মাদক।

মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশে আইসের বিস্তার ও এর ভয়াবহতার বিষয়টি উঠে এসেছে। আইস সেবনে মানবদেহে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় তার সবটা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জানা গেছে, আইস সেবন করলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এছাড়া বিষণ্নতা বৃদ্ধির কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। আরও জানা গেছে, আইসে আসক্ত হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ব্যক্তির কেন্দ্রীয় নার্ভ সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

এর জালে একবার জড়ালে একমাত্র মৃত্যুই হতে পারে মুক্তির উপায়। এক গ্রাম আইসের বাজারমূল্য ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। স্বভাবতই এর ব্যবহার বেশি ধনাঢ্য শ্রেণির মধ্যে। এখন পর্যন্ত আইসসংশ্লিষ্টতায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বাংলাদেশকে ঘিরে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে আইসের কারখানা। মিয়ানমারের মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলছে বাংলাদেশের মাদক ব্যবসায়ীরা। এ সুযোগে প্রতিবেশী দেশটির মাদক ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের মাদক ব্যবসায়ীদের প্রলুব্ধ করতে গ্রহণ করছে নানা ধরনের কৌশল।

দেশে দিন দিন আইসের বিস্তার বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আইসপ্রবণ প্রতিষ্ঠান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইস ছড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি অভিজাত শ্রেণির মধ্যে এর চাহিদা রয়েছে। যেহেতু আইস অত্যন্ত দামি, সেহেতু যারা এতে আসক্ত হচ্ছে তাদের নানারকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। আইস পার্টি অনুষ্ঠিত হয় কঠোর গোপনীয়তায়।

বিশেষ লিংক ছাড়া আইস পার্টিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান না চালালে তরুণ সমাজের যে ক্ষতি হবে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা যাবে না। মাদকবিরোধী অভিযানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। মাদকের ব্যবহার বন্ধ না হলে সমাজে অপরাধের মাত্রা কমানো কঠিন হবে। আইস, ইয়াবা, হেরোইন ইত্যাদি মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে।

ভয়ংকর মাদক আইস

অভিযানের পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন
 সম্পাদকীয় 
২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ইয়াবা, হেরোইন ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইস নামের ভয়ংকর এক মাদক। এ আইসের প্রবেশ ঠেকাতে হবে যে কোনো উপায়ে। দেশে মাদক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও মাদকবিরোধী অভিযানে কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের সাফল্য দৃশ্যমান নয়। মিয়ানমার থেকে দেশে বিভিন্ন রকম মাদক প্রবেশের বিষয়টি বহুল আলোচিত। দেশের দীর্ঘ সীমান্ত অরক্ষিত থাকায় সহজেই প্রবেশ করছে নানা রকম মাদক।

মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশে আইসের বিস্তার ও এর ভয়াবহতার বিষয়টি উঠে এসেছে। আইস সেবনে মানবদেহে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় তার সবটা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জানা গেছে, আইস সেবন করলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এছাড়া বিষণ্নতা বৃদ্ধির কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। আরও জানা গেছে, আইসে আসক্ত হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ব্যক্তির কেন্দ্রীয় নার্ভ সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

এর জালে একবার জড়ালে একমাত্র মৃত্যুই হতে পারে মুক্তির উপায়। এক গ্রাম আইসের বাজারমূল্য ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। স্বভাবতই এর ব্যবহার বেশি ধনাঢ্য শ্রেণির মধ্যে। এখন পর্যন্ত আইসসংশ্লিষ্টতায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বাংলাদেশকে ঘিরে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে আইসের কারখানা। মিয়ানমারের মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলছে বাংলাদেশের মাদক ব্যবসায়ীরা। এ সুযোগে প্রতিবেশী দেশটির মাদক ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের মাদক ব্যবসায়ীদের প্রলুব্ধ করতে গ্রহণ করছে নানা ধরনের কৌশল।

দেশে দিন দিন আইসের বিস্তার বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আইসপ্রবণ প্রতিষ্ঠান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইস ছড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি অভিজাত শ্রেণির মধ্যে এর চাহিদা রয়েছে। যেহেতু আইস অত্যন্ত দামি, সেহেতু যারা এতে আসক্ত হচ্ছে তাদের নানারকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। আইস পার্টি অনুষ্ঠিত হয় কঠোর গোপনীয়তায়।

বিশেষ লিংক ছাড়া আইস পার্টিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান না চালালে তরুণ সমাজের যে ক্ষতি হবে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা যাবে না। মাদকবিরোধী অভিযানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। মাদকের ব্যবহার বন্ধ না হলে সমাজে অপরাধের মাত্রা কমানো কঠিন হবে। আইস, ইয়াবা, হেরোইন ইত্যাদি মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন