প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি
jugantor
প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্ধারিত মেয়াদকালে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় দফায় দফায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ে জনদুর্ভোগও। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

সরকার যখন দেশকে এগিয়ে নিতে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তখন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক ধীরগতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।

জানা গেছে, বৈঠকে মূলত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ জোনে চলমান প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির একাধিক সদস্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন রাখেন-সড়ক উন্নয়নের মহাযজ্ঞ কবে শেষ হবে? যদিও মন্ত্রণালয় এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। দফায় দফায় সময় বাড়ানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

সংসদীয় কমিটিতে এ ধরনের আলোচনা বলা যায় একধাপ অগ্রগতি। বস্তুত এ বিষয়ক সমস্যাগুলো চিহ্নিত; তারপরও কেন সমাধান হচ্ছে না সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায় থেকে ধারাবাহিক তদারকি না থাকলে এ ধরনের সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়। কাজেই এ বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মে জড়িতরা অবসরে গেলেও পার পাবেন না।

এছাড়া প্রকল্প তৈরিতে ত্রুটি করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, যাদের কারণে চলমান প্রকল্পে পরবর্তী সময়ে নতুন আইটেম যোগ করতে হয়; এ কারণে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখতে হবে যাতে একজন প্রকল্প পরিচালক একাধিক প্রকল্পের দায়িত্বে না থাকেন। সেই সঙ্গে তারা যাতে প্রকল্প এলাকায় থাকেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করাও জরুরি। শুধু বড় ঠিকাদাররা যেন কাজ না পান, ছোট ঠিকাদাররাও যাতে কাজ পান সে বিষয়ে নজর রাখা দরকার। কারণ এক ঠিকাদার একাধিক কাজ পেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এসব বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

অভিযোগ আছে, প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের অনেকেই সময় নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হন না। অবশ্য এর বাইরে নানা ধরনের কারসাজির কথাও শোনা যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেমন সম্ভব হয় না, তেমনি প্রকল্পের ব্যয়ও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আশঙ্কার বিষয় হলো, সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগে যেসব সমস্যা বিদ্যমান ছিল, এর অধিকাংশ এখনো বহাল রয়েছে। এ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে
 সম্পাদকীয় 
২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্ধারিত মেয়াদকালে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় দফায় দফায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ে জনদুর্ভোগও। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

সরকার যখন দেশকে এগিয়ে নিতে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তখন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক ধীরগতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।

জানা গেছে, বৈঠকে মূলত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ জোনে চলমান প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির একাধিক সদস্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন রাখেন-সড়ক উন্নয়নের মহাযজ্ঞ কবে শেষ হবে? যদিও মন্ত্রণালয় এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। দফায় দফায় সময় বাড়ানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

সংসদীয় কমিটিতে এ ধরনের আলোচনা বলা যায় একধাপ অগ্রগতি। বস্তুত এ বিষয়ক সমস্যাগুলো চিহ্নিত; তারপরও কেন সমাধান হচ্ছে না সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায় থেকে ধারাবাহিক তদারকি না থাকলে এ ধরনের সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়। কাজেই এ বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মে জড়িতরা অবসরে গেলেও পার পাবেন না।

এছাড়া প্রকল্প তৈরিতে ত্রুটি করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, যাদের কারণে চলমান প্রকল্পে পরবর্তী সময়ে নতুন আইটেম যোগ করতে হয়; এ কারণে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখতে হবে যাতে একজন প্রকল্প পরিচালক একাধিক প্রকল্পের দায়িত্বে না থাকেন। সেই সঙ্গে তারা যাতে প্রকল্প এলাকায় থাকেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করাও জরুরি। শুধু বড় ঠিকাদাররা যেন কাজ না পান, ছোট ঠিকাদাররাও যাতে কাজ পান সে বিষয়ে নজর রাখা দরকার। কারণ এক ঠিকাদার একাধিক কাজ পেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এসব বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

অভিযোগ আছে, প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের অনেকেই সময় নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হন না। অবশ্য এর বাইরে নানা ধরনের কারসাজির কথাও শোনা যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেমন সম্ভব হয় না, তেমনি প্রকল্পের ব্যয়ও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আশঙ্কার বিষয় হলো, সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগে যেসব সমস্যা বিদ্যমান ছিল, এর অধিকাংশ এখনো বহাল রয়েছে। এ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন