অব্যাহত স্বর্ণ পাচার
jugantor
অব্যাহত স্বর্ণ পাচার
বিমানবন্দরগুলোয় বাড়াতে হবে নজরদারি

  সম্পাদকীয়  

২৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার প্রভাব কমে আসায় আকাশপথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দিন দিন স্বাভাবিক হচ্ছে আর এ সুযোগে বাড়ছে স্বর্ণ চোরাচালান। চলতি মাসেই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি বড় চালানে ২৬ কেজি স্বর্ণ ধরা পড়েছে।

আর চলতি বছরের চার মাসে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে শুধু শুল্ক গোয়েন্দাদের হাতেই জব্দ হয়েছে ৬৭ কেজি স্বর্ণ। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২০ সালে ১৭৪ কেজি ৫০০ গ্রাম এবং ২০১৯ সালে ৯৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছিল। স্বর্ণ চোরাচালান বাড়লেও কে কোথা থেকে কার কাছে স্বর্ণ পাঠাচ্ছে, তা প্রকাশ পাচ্ছে না।

মাঝে-মধ্যে যারা গ্রেফতার হন, তাদের অধিকাংশই বাহক, মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে পর্দার অন্তরালে। জানা গেছে, দেশে-বিদেশে সোনা পাচারের ৫ ডজনের বেশি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এদের মধ্যে বিমানবন্দরগুলোয় কর্মরত বেশকিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীও যুক্ত রয়েছেন। সোনা পাচারে তারা কাজে লাগাচ্ছেন বাহকদের।

আরও জানা গেছে, আকাশপথে আসা সোনা সীমান্তপথে চলে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, বিমানবন্দরে যত সোনা ধরা পড়ছে, তার কয়েকগুণ বেশি সোনা পাচার হয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, সোনা পাচারের সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য রুট হচ্ছে এখন বাংলাদেশ। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সোনা প্রতিবেশী দেশে পাচারের জন্য বাংলাদেশকে নিরাপদ ও প্রধান ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্বর্ণ চোরাচালানের কারণ বহুবিধ। প্রথমত, স্বর্ণ আমদানি নীতিমালার কিছু দুর্বলতার কারণে আমদানিকারকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বছরে সারা দেশে স্বর্ণের চাহিদা ২০ টন। এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে যদি আমদানিকারকরা স্বর্ণ আমদানি করতে নিরুৎসাহিত হন, তাহলে ঘাটতি পূরণের জন্য চোরাচালান অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ত, গত পাঁচ বছরে সোনা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় পৌনে তিনশজনকে আটক করা হলেও আসামিদের প্রায় সবাই জামিনে বেরিয়ে গেছে। জামিন পাওয়ার পর অনেকে আবারও যুক্ত হচ্ছে সোনা চোরাচালানে। অর্থাৎ বিচারহীনতার সংস্কৃতি সোনা পাচারের একটি বড় কারণ।

সুতরাং সোনা চোরাচালান বন্ধ করতে হলে প্রথমত স্বর্ণ আমদানি নীতিমালার দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। উল্লেখ্য, বর্তমান নীতিমালায় স্বর্ণ আমদানি করলে সব মিলিয়ে ভরিতে খরচ পড়ে ৮৩০০ টাকা আর ব্যাগেজ রুলের আওতায় এই খরচ মাত্র ৩ হাজার টাকা। দ্বিতীয়ত, বিমানবন্দরগুলোয় জোরদার করতে হবে গোয়েন্দা নজরদারি।

তৃতীয়ত, স্বর্ণ পাচারে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার রেওয়াজ চালু থাকায় সোনা পাচারকারীদের মধ্যে ভয়-ভীতি কাজ করছে না। প্রতিবেশী দেশে সোনা পাচার রোধে দেশের সীমান্তগুলোয়ও নজরদারি বাড়াতে হবে।

অব্যাহত স্বর্ণ পাচার

বিমানবন্দরগুলোয় বাড়াতে হবে নজরদারি
 সম্পাদকীয় 
২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার প্রভাব কমে আসায় আকাশপথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দিন দিন স্বাভাবিক হচ্ছে আর এ সুযোগে বাড়ছে স্বর্ণ চোরাচালান। চলতি মাসেই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি বড় চালানে ২৬ কেজি স্বর্ণ ধরা পড়েছে।

আর চলতি বছরের চার মাসে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে শুধু শুল্ক গোয়েন্দাদের হাতেই জব্দ হয়েছে ৬৭ কেজি স্বর্ণ। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২০ সালে ১৭৪ কেজি ৫০০ গ্রাম এবং ২০১৯ সালে ৯৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছিল। স্বর্ণ চোরাচালান বাড়লেও কে কোথা থেকে কার কাছে স্বর্ণ পাঠাচ্ছে, তা প্রকাশ পাচ্ছে না।

মাঝে-মধ্যে যারা গ্রেফতার হন, তাদের অধিকাংশই বাহক, মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে পর্দার অন্তরালে। জানা গেছে, দেশে-বিদেশে সোনা পাচারের ৫ ডজনের বেশি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এদের মধ্যে বিমানবন্দরগুলোয় কর্মরত বেশকিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীও যুক্ত রয়েছেন। সোনা পাচারে তারা কাজে লাগাচ্ছেন বাহকদের।

আরও জানা গেছে, আকাশপথে আসা সোনা সীমান্তপথে চলে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, বিমানবন্দরে যত সোনা ধরা পড়ছে, তার কয়েকগুণ বেশি সোনা পাচার হয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, সোনা পাচারের সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য রুট হচ্ছে এখন বাংলাদেশ। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সোনা প্রতিবেশী দেশে পাচারের জন্য বাংলাদেশকে নিরাপদ ও প্রধান ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্বর্ণ চোরাচালানের কারণ বহুবিধ। প্রথমত, স্বর্ণ আমদানি নীতিমালার কিছু দুর্বলতার কারণে আমদানিকারকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বছরে সারা দেশে স্বর্ণের চাহিদা ২০ টন। এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে যদি আমদানিকারকরা স্বর্ণ আমদানি করতে নিরুৎসাহিত হন, তাহলে ঘাটতি পূরণের জন্য চোরাচালান অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ত, গত পাঁচ বছরে সোনা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় পৌনে তিনশজনকে আটক করা হলেও আসামিদের প্রায় সবাই জামিনে বেরিয়ে গেছে। জামিন পাওয়ার পর অনেকে আবারও যুক্ত হচ্ছে সোনা চোরাচালানে। অর্থাৎ বিচারহীনতার সংস্কৃতি সোনা পাচারের একটি বড় কারণ।

সুতরাং সোনা চোরাচালান বন্ধ করতে হলে প্রথমত স্বর্ণ আমদানি নীতিমালার দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। উল্লেখ্য, বর্তমান নীতিমালায় স্বর্ণ আমদানি করলে সব মিলিয়ে ভরিতে খরচ পড়ে ৮৩০০ টাকা আর ব্যাগেজ রুলের আওতায় এই খরচ মাত্র ৩ হাজার টাকা। দ্বিতীয়ত, বিমানবন্দরগুলোয় জোরদার করতে হবে গোয়েন্দা নজরদারি।

তৃতীয়ত, স্বর্ণ পাচারে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার রেওয়াজ চালু থাকায় সোনা পাচারকারীদের মধ্যে ভয়-ভীতি কাজ করছে না। প্রতিবেশী দেশে সোনা পাচার রোধে দেশের সীমান্তগুলোয়ও নজরদারি বাড়াতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন