জলবায়ু খাতে কমেছে বরাদ্দ
jugantor
জলবায়ু খাতে কমেছে বরাদ্দ
বরাদ্দ যাই হোক, সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যাকবলিত হচ্ছে; অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের তাণ্ডব বেড়েছে। এতে অবকাঠামো, বাসস্থান, কৃষি ও জীবিকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের ১৭ শতাংশ ভূমি এবং ৩০ শতাংশ খাদ্য উৎপাদন হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শহর অঞ্চলে অতি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা প্রবল। ফলে নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়ার ফলে গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের ঘরবাড়ি ও জায়গা জমি ছেড়ে দিয়ে বাধ্য হয়ে শহরের বস্তিতে বসবাস শুরু করবেন। এতে রাজধানীসহ অন্যান্য অঞ্চলে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বর্তমানে প্রতিবছর ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হচ্ছে। আর এ বিনিয়োগের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমেছে। জানা গেছে, আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ এসব খাতে ৫১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।

মহামারির প্রভাব পড়েছে চলতি বাজেটে। সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বাজেটের ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায়। এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ২৫টি মন্ত্রণালয়কে। এটি গত দুই অর্থবছরে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় বরাদ্দের তুলনায় কিছুটা কম। মূলত করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। ফলে এ খাতে বরাদ্দের হার কমানো হয়েছে। এ বরাদ্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিসংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের প্রতিটি দেশে নানা রকম ঝুঁকি বাড়লেও উন্নত দেশগুলো ঝুঁকি মোকাবিলায় যে ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো সে ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে না। এ অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ অন্যান্য সমস্যায় উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনে সিভিএফের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর অবদান নগণ্য, বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলো যাতে সিভিএফের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিমাণে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে, তা বহুদিন ধরে আলোচিত হচ্ছে। চলমান বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনেও এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্ববাসী আশাবাদী বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের আগামী দিনগুলোর আলোচনায়ও এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। অতীতে লক্ষ করা গেছে, উন্নত দেশগুলো এ বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেসব রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। এ অবস্থায় সিভিএফের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে দাবি আদায়ে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের সাধ্যমতো পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে এ খাতের বরাদ্দের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হলে উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ ছাড়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে কিনা সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মলনে উন্নত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি বারবার উল্লেখ করেছেন। কাজেই দেশের যে কোনো প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জলবায়ু খাতে কমেছে বরাদ্দ

বরাদ্দ যাই হোক, সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে
 সম্পাদকীয় 
০৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যাকবলিত হচ্ছে; অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের তাণ্ডব বেড়েছে। এতে অবকাঠামো, বাসস্থান, কৃষি ও জীবিকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের ১৭ শতাংশ ভূমি এবং ৩০ শতাংশ খাদ্য উৎপাদন হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শহর অঞ্চলে অতি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা প্রবল। ফলে নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়ার ফলে গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের ঘরবাড়ি ও জায়গা জমি ছেড়ে দিয়ে বাধ্য হয়ে শহরের বস্তিতে বসবাস শুরু করবেন। এতে রাজধানীসহ অন্যান্য অঞ্চলে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বর্তমানে প্রতিবছর ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হচ্ছে। আর এ বিনিয়োগের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমেছে। জানা গেছে, আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ এসব খাতে ৫১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।

মহামারির প্রভাব পড়েছে চলতি বাজেটে। সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বাজেটের ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায়। এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ২৫টি মন্ত্রণালয়কে। এটি গত দুই অর্থবছরে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় বরাদ্দের তুলনায় কিছুটা কম। মূলত করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। ফলে এ খাতে বরাদ্দের হার কমানো হয়েছে। এ বরাদ্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিসংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের প্রতিটি দেশে নানা রকম ঝুঁকি বাড়লেও উন্নত দেশগুলো ঝুঁকি মোকাবিলায় যে ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো সে ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে না। এ অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ অন্যান্য সমস্যায় উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনে সিভিএফের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর অবদান নগণ্য, বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলো যাতে সিভিএফের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিমাণে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে, তা বহুদিন ধরে আলোচিত হচ্ছে। চলমান বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনেও এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্ববাসী আশাবাদী বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের আগামী দিনগুলোর আলোচনায়ও এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। অতীতে লক্ষ করা গেছে, উন্নত দেশগুলো এ বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেসব রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। এ অবস্থায় সিভিএফের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে দাবি আদায়ে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের সাধ্যমতো পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে এ খাতের বরাদ্দের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হলে উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ ছাড়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে কিনা সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মলনে উন্নত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি বারবার উল্লেখ করেছেন। কাজেই দেশের যে কোনো প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন