চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার

সরকারের কঠোর ভূমিকা কাম্য

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

দেশে চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে- একইদিনে যুগান্তরে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন তারই প্রমাণ। বরগুনায় চাঁদা না দেয়ায় একজন মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্টেকের ব্যবসায়ীরা সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ আতঙ্কে ভুগছেন বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীরা যে কোনো সময় তাদের ওপর চড়াও হতে পারে। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাঁদাবাজ ও তাদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি সম্পর্কে অবহিত নয়। তারপরও চাঁদাবাজদের কেন প্রতিহত করা যাচ্ছে না, এটাই প্রশ্ন।

মাদকের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ পাঁচ জেলায় রয়েছে দেড় শতাধিক মাদকের হাট বা স্পট।

এসব হাট নিয়ন্ত্রণ করছেন ৪ শতাধিক ব্যক্তি, যাদের মধ্যে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী, মসজিদের ইমাম, রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (নারকোটিক্স) কর্মকর্তাসহ অন্যান্য পেশার মানুষ রয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লোকজনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। দুঃখজনক হল, দেশে মাদকের বিস্তার রোধে যাদের ভূমিকা হওয়ার কথা কঠোর ও আপসহীন, তারা ব্যক্তিগত লোভ-লালসার উর্ধ্বে উঠতে পারছেন না। এ অবস্থায় সরকারের বড়কর্তারা মাদক নির্মূলে যত বড় বড় কথাই বলুন না কেন, লাভ হবে না।

অভিযোগ রয়েছে, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে বেশিরভাগই ক্ষমতা-বলয়ের চারপাশে থাকা মানুষজন। সরকারের উচিত, নিজ দলসহ অন্যান্য দুর্বৃত্তকে শক্তহাতে দমন করা। তা না হলে শাসন ব্যবস্থা ও আইনের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন। সরকারের এ মনোভাবের প্রতিফলন যদি কার্যক্ষেত্রে না ঘটে, তাহলে এটি নিছক ‘গাল-গল্প’ বলে পরিগণিত হবে। চাঁদাবাজির পেছনে মাদকের প্রভাব রয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বস্তুত অর্থের সংস্থান করতে অনেক মাদক ব্যবহারকারীকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত হতে দেখা যায়। কাজেই মাদকের উৎস ও ব্যবহার বন্ধ করতে পারলে দেশে চাঁদাবাজির ঘটনাও কমে আসবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, মাদকের বিষাক্ত দংশনে অধঃপতিত হচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম।

তারা মাদক নয়, একইসঙ্গে চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সঙ্গেও নিজেদের জড়াচ্ছে। এর ফলে অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। এ প্রেক্ষাপটে মাদকের বিস্তার রোধের পাশাপাশি চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।