ডাক বিভাগের কচ্ছপ গতি

  সাঈদ চৌধুরী ১৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

দেশের অন্যতম সমস্যা বেকারত্ব এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে অপরিকল্পনা ও দুর্নীতি। একজন চাকরিপ্রত্যাশী যখন কোনো চাকরির জন্য আবেদন করেন, তার মধ্যে একটি স্বপ্ন ও আশা তৈরি হয়।

সে ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করতে থাকে। তার মধ্যে তখন একটাই চিন্তা- সে চাকরির পরীক্ষায় পাস করতে পারবে কিনা। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে চাকরিপ্রত্যাশী মানুষটির চিন্তা কী- এ প্রশ্নের জবাবে যেসব উত্তর পাওয়া যাবে তার বেশিরভাগই অনিয়মসংক্রান্ত অভিযোগ।

যেমন চাকরিপ্রত্যাশীর একটি বড় চিন্তা থাকে দুর্নীতি করে কেউ ওই পদে চাকরিটি ঠিক করে ফেলল কিনা, বিভিন্ন কোটা পদ্ধতিতে শেষে গিয়ে তার মেধার দাম থাকবে কিনা, সে চাকরির ইন্টারভিউ কার্ড সঠিক সময়ে পাবে কিনা ইত্যাদি।

আমার খুব ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সহকারী পরিচালক পদের জন্য আবেদন করেছিলেন কিছুদিন আগে। কিন্তু তিনি এই পরীক্ষার এডমিড কার্ড পান পরীক্ষা শেষ হওয়ার পাঁচদিন পর! এর জন্য তিনি কাকে দায়ী করবেন? আর দায়ী করলেই কি তিনি আবার পরীক্ষা দিতে পারবেন? আসলে আমাদের দেশে এ সমস্যাটি খুবই প্রবল। একবার পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পর এডমিট কার্ড পেলে পরীক্ষা পুনরায় নেয়ার তো ব্যবস্থা নেই-ই, ডাক বিভাগও এর দায় নিতে চায় না। যদি পরীক্ষার্থীর জন্য এটাই জীবনের শেষ পরীক্ষার সুযোগ হয়ে থাকে এবং সে পরীক্ষা দেয়া থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে তার ভবিষ্যতের হতাশার ভার কে নেবে?

এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। যে ব্যাংক ড্রাফট করে চাকরির আবেদন করছে, তার ইন্টারভিউ কার্ড সঠিক সময়ে পাওয়া এবং ইন্টারভিউ দেয়া তার নৈতিক অধিকার। ডাক বিভাগকে গতিশীল করার দায়িত্ব সরকারের, যাতে সবাই সঠিক সময়ে ইন্টারভিউ কার্ড পায়। এজন্য যে প্রতিষ্ঠানের চাকরির জন্য আবেদন করা হয়েছে, তারা যেদিন ইন্টারভিউ কার্ড তাদের কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেবে, সেদিনই এসএমএসের মাধ্যমে প্রার্থীকে নিশ্চিত করতে হবে- আজ ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু করে ছেড়ে দেয়া হল এবং অবশ্যই কমপক্ষে পরীক্ষার তিনদিন আগে ইন্টারভিউ কার্ড পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করে ডাক বিভাগও প্রতিষ্ঠান ও প্রার্থীকে নিশ্চিত করবে- আমরা প্রার্থীকে কার্ডটি পৌঁছে দিয়েছি।

তবে পরীক্ষার্থী তিনদিন আগে কার্ড না পেলে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানকে জানাতে পারবে এবং ডাক বিভাগের কাছেও নিজের অপ্রাপ্তির কথা বলে ব্যবস্থা নিতে বলতে পারবে। যদি প্রক্রিয়াটা এভাবে করা হয়, তবে ভোগান্তি যেমন কমবে তেমনি ডাক বিভাগের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে বাড়বে।

শুধু পরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয় নয়, ডাক সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ই এসএমএস ট্র্যাকিংয়ের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। সরকারি ডাক বিভাগকে গতিশীল করার জন্য এবং কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য এটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এতে করে যেমন কমবে দুর্নীতি, তেমনি সরকারের আয়ের ও বিশ্বাসের জায়গাও বাড়বে। এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ কর্মকমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সাঈদ চৌধুরী : সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, শ্রীপুর, গাজীপুর

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter