কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা
jugantor
কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা
খুনিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনুন

  সম্পাদকীয়  

২৪ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে খুন-খারাবিসহ নানা ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগজনক। গত সোমবার কুমিল্লার পাথুরীয়াপাড়ায় কুমিল্লা মহানগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল এবং তার সহযোগী হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। তারা দুজনেই আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা।

কাউন্সিলরের নিজ কার্যালয়ে ঘটে এ হত্যাকাণ্ড। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও কয়েকজন। জানা গেছে, সোমবার বিকালে কাউন্সিলর সোহেল কর্মীদের নিয়ে যখন বৈঠক করছিলেন, সে সময় এ হামলার শিকার হন তিনি ও তার সহযোগীরা। এ সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত হত্যার কারণ সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে কুমিল্লা নগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের আশপাশে মাদক ও চোরাকারবারিদের বেশকিছু সিন্ডিকেট রয়েছে। এ ছাড়া ছোট বড় পাইকারি মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে অনেক।

জানা যায়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ সোহেল ছিলেন মাদক ও চোরাকারবারবিরোধী। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন। এটি তাকে হত্যা করার কারণ হতে পারে। গত চার বছরে কুমিল্লা শহরের বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দেশে নানা কারণে খুনের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার কিছু পারিবারিক, কিছু রাজনৈতিক, কিছু পূর্বশত্রুতার জের ধরে সংঘটিত হচ্ছে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ নির্বাচন ঘিরে সংঘাতের ঘটনায় এ পর্যন্ত বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতে কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও এবার সহিংসতা যে পর্যায়ে চলে গেছে, তা চিন্তার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ-এসবকে কেন্দ্র করে বেশিরভাগ দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সূত্রপাত হচ্ছে, যা এক পর্যায়ে বড় আকার ধারণ করছে। জনগণের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দূরত্ব কম থাকলে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের আশঙ্কা কম থাকে।

আমরা আশা করব, কুমিল্লায় কাউন্সিলর ও তার সহযোগী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে কোনো নেতার হত্যাকাণ্ডের জের ধরে আরও সহিংস ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। সব ধরনের অপরাধ দমনেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা তৎপর থাকবে, এটাই কাম্য। অপরাধীদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার বিষয়টিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের নৈতিক অবক্ষয় রোধেও নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা

খুনিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনুন
 সম্পাদকীয় 
২৪ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে খুন-খারাবিসহ নানা ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগজনক। গত সোমবার কুমিল্লার পাথুরীয়াপাড়ায় কুমিল্লা মহানগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল এবং তার সহযোগী হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। তারা দুজনেই আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা।

কাউন্সিলরের নিজ কার্যালয়ে ঘটে এ হত্যাকাণ্ড। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও কয়েকজন। জানা গেছে, সোমবার বিকালে কাউন্সিলর সোহেল কর্মীদের নিয়ে যখন বৈঠক করছিলেন, সে সময় এ হামলার শিকার হন তিনি ও তার সহযোগীরা। এ সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত হত্যার কারণ সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে কুমিল্লা নগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের আশপাশে মাদক ও চোরাকারবারিদের বেশকিছু সিন্ডিকেট রয়েছে। এ ছাড়া ছোট বড় পাইকারি মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে অনেক।

জানা যায়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ সোহেল ছিলেন মাদক ও চোরাকারবারবিরোধী। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন। এটি তাকে হত্যা করার কারণ হতে পারে। গত চার বছরে কুমিল্লা শহরের বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দেশে নানা কারণে খুনের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার কিছু পারিবারিক, কিছু রাজনৈতিক, কিছু পূর্বশত্রুতার জের ধরে সংঘটিত হচ্ছে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ নির্বাচন ঘিরে সংঘাতের ঘটনায় এ পর্যন্ত বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতে কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও এবার সহিংসতা যে পর্যায়ে চলে গেছে, তা চিন্তার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ-এসবকে কেন্দ্র করে বেশিরভাগ দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সূত্রপাত হচ্ছে, যা এক পর্যায়ে বড় আকার ধারণ করছে। জনগণের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দূরত্ব কম থাকলে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের আশঙ্কা কম থাকে।

আমরা আশা করব, কুমিল্লায় কাউন্সিলর ও তার সহযোগী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে কোনো নেতার হত্যাকাণ্ডের জের ধরে আরও সহিংস ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। সব ধরনের অপরাধ দমনেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা তৎপর থাকবে, এটাই কাম্য। অপরাধীদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার বিষয়টিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের নৈতিক অবক্ষয় রোধেও নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন