বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
jugantor
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
খেলাপি ঋণের এমন উল্লম্ফন উদ্বেগজনক

  সম্পাদকীয়  

২৫ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতি তিন মাস পরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি ঋণ ও প্রভিশনিং বিষয়ক যে প্রতিবেদন তৈরি করে; সেখানে দেখা যাচ্ছে, গত ৩ মাসে খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৯৪৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে আবারও ১ লাখ কোটির ঘর অতিক্রম করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালের জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেছিল।

করোনাকালে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার পরও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পুনরায় লাখো কোটি টাকার ঘর অতিক্রমের বিষয়টি উদ্বেগজনক। করোনার মধ্যে গত প্রায় দুই বছর ধরে খেলাপি ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিতের প্রেক্ষাপটে গ্রাহকরা কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও ওই ঋণকে খেলাপি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া আগের খেলাপি ঋণ নবায়নেও দেওয়া হয়েছিল বড় ধরনের ছাড়। এতসব ছাড়ের পরও ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের এমন উল্লম্ফন কেন ঘটল, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অবশ্য দেশের ব্যাংক খাত বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা বিষয়টিকে ঋণ আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যাংকারদের ব্যর্থতা হিসাবে দেখছেন। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত হবে, ঋণ আদায় বাড়ানোর ব্যাপারে আরও মনোযোগী হওয়া। তা না হলে দেশের ব্যাংক খাত মুখ থুবড়ে পড়বে, যা মোটেই কাম্য নয়।

খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। সরকার অবশ্য মুজিববর্ষে খেলাপি ঋণমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ‘বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন আইন ২০২০’ নিয়ে কাজ করছে, যেখানে বলা হয়েছে-খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে অন্য কারও কাছে লিজ দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ঋণখেলাপির পুরো সম্পত্তি বিক্রির ক্ষমতা পাবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন। ব

স্তুত ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার প্রবণতা এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে আমাদের সমাজে। এ পরিস্থিতির অবসান হওয়া জরুরি। ইতঃপূর্বে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ১১ দশমিক ৪ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ১০ বছরে দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় সাড়ে চারগুণ।

খেলাপি ঋণ না কমে বরং দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া। এছাড়া ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলেও খেলাপি ঋণ, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে, যা কঠোরভাবে রোধ করা প্রয়োজন।

বস্তুত ঋণখেলাপিদের আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধতে ব্যাংক কোম্পানি আইন কঠোর করার পাশাপাশি এর বাস্তবায়নে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। খেলাপি ঋণমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি সামনে রেখে সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে, এটাই প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

খেলাপি ঋণের এমন উল্লম্ফন উদ্বেগজনক
 সম্পাদকীয় 
২৫ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতি তিন মাস পরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি ঋণ ও প্রভিশনিং বিষয়ক যে প্রতিবেদন তৈরি করে; সেখানে দেখা যাচ্ছে, গত ৩ মাসে খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৯৪৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে আবারও ১ লাখ কোটির ঘর অতিক্রম করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালের জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেছিল।

করোনাকালে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার পরও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পুনরায় লাখো কোটি টাকার ঘর অতিক্রমের বিষয়টি উদ্বেগজনক। করোনার মধ্যে গত প্রায় দুই বছর ধরে খেলাপি ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিতের প্রেক্ষাপটে গ্রাহকরা কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও ওই ঋণকে খেলাপি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া আগের খেলাপি ঋণ নবায়নেও দেওয়া হয়েছিল বড় ধরনের ছাড়। এতসব ছাড়ের পরও ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের এমন উল্লম্ফন কেন ঘটল, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অবশ্য দেশের ব্যাংক খাত বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা বিষয়টিকে ঋণ আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যাংকারদের ব্যর্থতা হিসাবে দেখছেন। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত হবে, ঋণ আদায় বাড়ানোর ব্যাপারে আরও মনোযোগী হওয়া। তা না হলে দেশের ব্যাংক খাত মুখ থুবড়ে পড়বে, যা মোটেই কাম্য নয়।

খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। সরকার অবশ্য মুজিববর্ষে খেলাপি ঋণমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ‘বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন আইন ২০২০’ নিয়ে কাজ করছে, যেখানে বলা হয়েছে-খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে অন্য কারও কাছে লিজ দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ঋণখেলাপির পুরো সম্পত্তি বিক্রির ক্ষমতা পাবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন। ব

স্তুত ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার প্রবণতা এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে আমাদের সমাজে। এ পরিস্থিতির অবসান হওয়া জরুরি। ইতঃপূর্বে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ১১ দশমিক ৪ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ১০ বছরে দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় সাড়ে চারগুণ।

খেলাপি ঋণ না কমে বরং দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া। এছাড়া ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলেও খেলাপি ঋণ, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে, যা কঠোরভাবে রোধ করা প্রয়োজন।

বস্তুত ঋণখেলাপিদের আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধতে ব্যাংক কোম্পানি আইন কঠোর করার পাশাপাশি এর বাস্তবায়নে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। খেলাপি ঋণমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি সামনে রেখে সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন