মেডিকেল কলেজে সংঘাত-সংঘর্ষ
jugantor
মেডিকেল কলেজে সংঘাত-সংঘর্ষ
শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া যায় না

  সম্পাদকীয়  

২৫ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের মেডিকেল কলেজগুলোয় যারা ভর্তি হন, তারা নিঃসন্দেহে দেশের অতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের একাংশ। তারা ভর্তি হওয়ার পর আশা করা হয় এসব শিক্ষার্থী একসময় ডাক্তার হয়ে চিকিৎসা তথা মানবসেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবেন। তাদের অভিভাবকরাও স্বপ্ন দেখেন এক সুন্দর ভবিষ্যতের।

কিন্তু পরিতাপের বিষয়, মেডিকেল ছাত্রদের একটি বড় অংশ রাজনীতিতে জড়িয়ে অথবা অন্য কোনো স্বার্থজনিত কারণে পরস্পর সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। কাগজে-কলমে মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও কেউই তা মানছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগী সংগঠন হিসাবে ছাত্রসংগঠনগুলো এখানে সক্রিয় রয়েছে।

বলা বাহুল্য, এতে লেখাপড়ার পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি অনেকের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সংঘাত-সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এই সংঘাত-সংঘর্ষগুলো যে প্রতিপক্ষ সংগঠন-গ্রুপের মধ্যে হচ্ছে তা নয়, অনেক ক্ষেত্রেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে একই সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে জড়িতে পড়ছে। এসব সংঘাতের পেছনে কাজ করছে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) যা ঘটেছে, তাতে সমগ্র দেশবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। গত ২৯ ও ৩০ অক্টোবর তিন দফা সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন ছাত্র মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য চমেক বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। অবশ্য প্রতিষ্ঠানটি ২৭ নভেম্বর খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে ২১ নভেম্বর ক্রিকেট খেলা নিয়ে শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর ক্যাম্পাসে কীভাবে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়, এ এক প্রশ্ন বটে। এটা খুব দুঃখজনক যে, মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও আমাদের নীতিকথা শোনাতে হচ্ছে। চমেকের অধ্যক্ষ সাহেনা আক্তার বলেছেন, মেডিকেল কারিকুলামে বিহেভিয়ারাল কোর্স যুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে তারা রোগীর সঙ্গে আচরণ শেখা ছাড়াও নিজেদের নৈতিকতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।

মেডিকেল কলেজগুলোয় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশের বিশেষ করে দুই বড় রাজনৈতিক দলেরও ভূমিকা রয়েছে। তাদের কথিত সহযোগী সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার দায়িত্ব এ দুই দলের নেতৃত্বের। সবশেষে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলতে হয়, তারা যে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পেরেছেন, এটা এক বড় বিষয়। নিজেদের সুচিকিৎসক হিসাবে গড়ে তোলার পাশাপাশি অভিভাবকদের স্বপ্ন পূরণে তারা যেন শতভাগ আন্তরিক হওয়ার চেষ্টা করেন।

মেডিকেল কলেজে সংঘাত-সংঘর্ষ

শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া যায় না
 সম্পাদকীয় 
২৫ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের মেডিকেল কলেজগুলোয় যারা ভর্তি হন, তারা নিঃসন্দেহে দেশের অতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের একাংশ। তারা ভর্তি হওয়ার পর আশা করা হয় এসব শিক্ষার্থী একসময় ডাক্তার হয়ে চিকিৎসা তথা মানবসেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবেন। তাদের অভিভাবকরাও স্বপ্ন দেখেন এক সুন্দর ভবিষ্যতের।

কিন্তু পরিতাপের বিষয়, মেডিকেল ছাত্রদের একটি বড় অংশ রাজনীতিতে জড়িয়ে অথবা অন্য কোনো স্বার্থজনিত কারণে পরস্পর সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। কাগজে-কলমে মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও কেউই তা মানছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগী সংগঠন হিসাবে ছাত্রসংগঠনগুলো এখানে সক্রিয় রয়েছে।

বলা বাহুল্য, এতে লেখাপড়ার পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি অনেকের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সংঘাত-সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এই সংঘাত-সংঘর্ষগুলো যে প্রতিপক্ষ সংগঠন-গ্রুপের মধ্যে হচ্ছে তা নয়, অনেক ক্ষেত্রেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে একই সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে জড়িতে পড়ছে। এসব সংঘাতের পেছনে কাজ করছে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) যা ঘটেছে, তাতে সমগ্র দেশবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। গত ২৯ ও ৩০ অক্টোবর তিন দফা সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন ছাত্র মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য চমেক বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। অবশ্য প্রতিষ্ঠানটি ২৭ নভেম্বর খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে ২১ নভেম্বর ক্রিকেট খেলা নিয়ে শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর ক্যাম্পাসে কীভাবে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়, এ এক প্রশ্ন বটে। এটা খুব দুঃখজনক যে, মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও আমাদের নীতিকথা শোনাতে হচ্ছে। চমেকের অধ্যক্ষ সাহেনা আক্তার বলেছেন, মেডিকেল কারিকুলামে বিহেভিয়ারাল কোর্স যুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে তারা রোগীর সঙ্গে আচরণ শেখা ছাড়াও নিজেদের নৈতিকতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।

মেডিকেল কলেজগুলোয় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশের বিশেষ করে দুই বড় রাজনৈতিক দলেরও ভূমিকা রয়েছে। তাদের কথিত সহযোগী সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার দায়িত্ব এ দুই দলের নেতৃত্বের। সবশেষে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলতে হয়, তারা যে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পেরেছেন, এটা এক বড় বিষয়। নিজেদের সুচিকিৎসক হিসাবে গড়ে তোলার পাশাপাশি অভিভাবকদের স্বপ্ন পূরণে তারা যেন শতভাগ আন্তরিক হওয়ার চেষ্টা করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন