রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ
jugantor
রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ
গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বুধবার জাতীয় সংসদে স্মারক বক্তৃতা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এ বক্তৃতায় তিনি এমন কিছু কথা বলেছেন, যা এই মুহূর্তের বাংলাদেশে খুবই প্রাসঙ্গিক। রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণু হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ ও অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, সোনার বাংলা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবার মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

ঐক্য গড়ে তুলতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে। গড়ে তুলতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, রাষ্ট্রপতির উপরোল্লিখিত কথাগুলো বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক কথায় বললে, বাংলাদেশে এখন পরমতসহিষ্ণুতার বড়ই অভাব। রাজনৈতিক দলগুলোর, বিশেষ করে দুই বড় দলের মধ্যে নেই কোনো সদ্ভাব।

পরিবর্তে আমরা লক্ষ করছি, দল দুটি পরস্পর কাদা ছোড়াছুড়িতেই ব্যস্ত রয়েছে। অথচ গণতন্ত্রের মূল চেতনাই হলো, একে অন্যের কথা ও আচরণ শ্রদ্ধা-সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করবে এবং ইতিবাচক বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কর্মসূচিগত কোনো পার্থক্য থাকবে না, এমনটা নয়। তবে যার যার কর্মসূচি প্রচারে যাতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা বাঞ্ছনীয়। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো ঐকমত্য নেই। অথচ জাতীয় এমন কিছু ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে পুরো জাতির ঐকমত্য খুবই প্রয়োজন। পরিতাপের বিষয়, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের বিষয়েও দুই বড় দল অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতির কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, এ দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দল-মত-গোত্র নির্বিশেষে সবার ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কর্মসূচিগত যে পার্থক্য, তা মেনে নিয়েই বলতে হয়, কর্মসূচি প্রচারের সময় ভিন্ন দলের প্রতি যেন বৈরীমূলক আচরণ করা না হয়।

আমরা লক্ষ করছি, সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতা বাংলাদেশে এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। রাষ্ট্রপতি সামাজিক এ দুই ব্যাধির বিরুদ্ধেও ঐক্য গড়ে তুলতে বলেছেন। বলা নিষ্প্রয়োজন, সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতা গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে দুই বড় বাধা।

এই বাধা দুটি সমাজ থেকে দূর করার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। এই সংগ্রামে শামিল হতে হবে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে। অগণতান্ত্রিকতা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতি কথা বলেছেন। বলতেই হবে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চায় যে হালহকিকত তা সন্তোষজনক নয়। গত ৫০ বছরেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা শক্তিশালী করতে পারিনি।

এটা আমাদের এক দুর্ভাগ্যই বলতে হবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর চোখ দিয়ে দেখলে দেখা যাবে, একটি অগণতান্ত্রিক সমাজে নানা ধরনের সংকট বাসা বাঁধে। সুষ্ঠু গণতন্ত্রের চর্চা হয় যে সমাজে, সেই সমাজ ততই এগিয়ে যায়।

পশ্চিমা দেশগুলো এর বড় প্রমাণ। সবশেষে বলব, রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্যকে আন্তরিকতার সঙ্গে আমলে নিতে হবে আমাদের সবাইকে। তিনি আমাদের প্রধান অভিভাবক। অভিভাবকের কথা না শুনলে আখেরে পস্তাতে হবে আমাদের।

রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ

গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে
 সম্পাদকীয় 
২৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বুধবার জাতীয় সংসদে স্মারক বক্তৃতা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এ বক্তৃতায় তিনি এমন কিছু কথা বলেছেন, যা এই মুহূর্তের বাংলাদেশে খুবই প্রাসঙ্গিক। রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণু হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ ও অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, সোনার বাংলা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবার মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

ঐক্য গড়ে তুলতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে। গড়ে তুলতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, রাষ্ট্রপতির উপরোল্লিখিত কথাগুলো বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক কথায় বললে, বাংলাদেশে এখন পরমতসহিষ্ণুতার বড়ই অভাব। রাজনৈতিক দলগুলোর, বিশেষ করে দুই বড় দলের মধ্যে নেই কোনো সদ্ভাব।

পরিবর্তে আমরা লক্ষ করছি, দল দুটি পরস্পর কাদা ছোড়াছুড়িতেই ব্যস্ত রয়েছে। অথচ গণতন্ত্রের মূল চেতনাই হলো, একে অন্যের কথা ও আচরণ শ্রদ্ধা-সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করবে এবং ইতিবাচক বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কর্মসূচিগত কোনো পার্থক্য থাকবে না, এমনটা নয়। তবে যার যার কর্মসূচি প্রচারে যাতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা বাঞ্ছনীয়। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো ঐকমত্য নেই। অথচ জাতীয় এমন কিছু ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে পুরো জাতির ঐকমত্য খুবই প্রয়োজন। পরিতাপের বিষয়, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের বিষয়েও দুই বড় দল অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতির কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, এ দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দল-মত-গোত্র নির্বিশেষে সবার ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কর্মসূচিগত যে পার্থক্য, তা মেনে নিয়েই বলতে হয়, কর্মসূচি প্রচারের সময় ভিন্ন দলের প্রতি যেন বৈরীমূলক আচরণ করা না হয়।

আমরা লক্ষ করছি, সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতা বাংলাদেশে এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। রাষ্ট্রপতি সামাজিক এ দুই ব্যাধির বিরুদ্ধেও ঐক্য গড়ে তুলতে বলেছেন। বলা নিষ্প্রয়োজন, সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতা গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে দুই বড় বাধা।

এই বাধা দুটি সমাজ থেকে দূর করার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। এই সংগ্রামে শামিল হতে হবে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে। অগণতান্ত্রিকতা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতি কথা বলেছেন। বলতেই হবে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চায় যে হালহকিকত তা সন্তোষজনক নয়। গত ৫০ বছরেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা শক্তিশালী করতে পারিনি।

এটা আমাদের এক দুর্ভাগ্যই বলতে হবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর চোখ দিয়ে দেখলে দেখা যাবে, একটি অগণতান্ত্রিক সমাজে নানা ধরনের সংকট বাসা বাঁধে। সুষ্ঠু গণতন্ত্রের চর্চা হয় যে সমাজে, সেই সমাজ ততই এগিয়ে যায়।

পশ্চিমা দেশগুলো এর বড় প্রমাণ। সবশেষে বলব, রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্যকে আন্তরিকতার সঙ্গে আমলে নিতে হবে আমাদের সবাইকে। তিনি আমাদের প্রধান অভিভাবক। অভিভাবকের কথা না শুনলে আখেরে পস্তাতে হবে আমাদের।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন