এলডিসি থেকে উত্তরণ
jugantor
এলডিসি থেকে উত্তরণ
জাতিসংঘের অনুমোদনে আরেক ধাপ অগ্রগতি

  সম্পাদকীয়  

২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সুপারিশ জাতিসংঘের অনুমোদন পাওয়ার মধ্য দিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের এ সময়ে এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন নিঃসন্দেহে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ, নেপাল ও লাওসের ক্ষেত্রে এ সুপারিশ অনুমোদন পেলেও একমাত্র বাংলাদেশই জাতিসংঘ নির্ধারিত তিনটি মানদণ্ড পূরণ করেছে।

উল্লেখ্য, মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা-এ তিন মানদণ্ডে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। এই তিন শর্তই পূরণ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। এটি একটি আনন্দের খবর, সাফল্যেরও খবর আমাদের জন্য।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বিশ্বে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে, উজ্জ্বল করবে ভাবমূর্তি। কারণ এ উন্নতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির প্রমাণ দেয়। তবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হওয়ার পর বাংলাদেশকে কিছু কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

অবশ্য এ ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশ জাতিসংঘে অনুমোদন পাওয়ার পর উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রস্তুতির জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হলেও করোনার কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার পাঁচ বছর সময় দেওয়া হবে।

প্রস্তুতির এ সময়ে স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত থাকবে। তাছাড়া বর্তমান নিয়মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের পর আরও তিন বছর শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশগুলো বাণিজ্য ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে-যেমন, শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা, জিএসপি সুবিধা ইত্যাদি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এসব সুবিধা আর পাবে না। তখন এলডিসির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশকে রপ্তানির ক্ষেত্রে বেশি শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ কমেও যেতে পারে।

এ আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিশ্ব বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারলে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এলডিসি থেকে উত্তরণ

জাতিসংঘের অনুমোদনে আরেক ধাপ অগ্রগতি
 সম্পাদকীয় 
২৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সুপারিশ জাতিসংঘের অনুমোদন পাওয়ার মধ্য দিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের এ সময়ে এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন নিঃসন্দেহে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ, নেপাল ও লাওসের ক্ষেত্রে এ সুপারিশ অনুমোদন পেলেও একমাত্র বাংলাদেশই জাতিসংঘ নির্ধারিত তিনটি মানদণ্ড পূরণ করেছে।

উল্লেখ্য, মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা-এ তিন মানদণ্ডে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। এই তিন শর্তই পূরণ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। এটি একটি আনন্দের খবর, সাফল্যেরও খবর আমাদের জন্য।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বিশ্বে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে, উজ্জ্বল করবে ভাবমূর্তি। কারণ এ উন্নতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির প্রমাণ দেয়। তবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হওয়ার পর বাংলাদেশকে কিছু কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

অবশ্য এ ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশ জাতিসংঘে অনুমোদন পাওয়ার পর উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রস্তুতির জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হলেও করোনার কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার পাঁচ বছর সময় দেওয়া হবে।

প্রস্তুতির এ সময়ে স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত থাকবে। তাছাড়া বর্তমান নিয়মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের পর আরও তিন বছর শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশগুলো বাণিজ্য ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে-যেমন, শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা, জিএসপি সুবিধা ইত্যাদি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এসব সুবিধা আর পাবে না। তখন এলডিসির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশকে রপ্তানির ক্ষেত্রে বেশি শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ কমেও যেতে পারে।

এ আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিশ্ব বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারলে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন