পদদলনে মৃত্যু

এমন মৃত্যু আর নয়

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মতামত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইফতারসামগ্রী আনতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১০ নারীর মৃত্যু ও অনেকের আহত হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। অতীতে জাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি কিংবা বিত্তশালীদের দেয়া অন্য কোনো ‘ঈদ-উপহার’ আনতে গিয়ে অনেক মানুষ আহত-নিহত হয়েছেন।

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর আমরা এটাই বলতে চেয়েছি, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন দেশে আর না ঘটে। কিন্তু কে শোনে কার কথা! সমাজের বিত্তশালীরা সামাজিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে দরিদ্রদের দান-খয়রাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সাহায্য-সহযোগিতা করবেন, এটা খুবই ভালো কথা। তাদের উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মহৎ।

প্রশ্ন হল, তাদের এ মহত্ত্বের দায় অভাবী মানুষকে নিজের জীবনের বিনিময়ে শোধ করতে হবে কেন? মানুষ অতীত থেকে শিক্ষা নেয়। জাকাতের কাপড় আনতে গিয়ে ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পদদলিত হয়ে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়েছে। ইফতারসামগ্রী বিতরণকারীরা যদি অতীতের দুঃখজনক ঘটনার কথা মাথায় রেখে বিতরণ কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতেন, তাহলে হয়তো এতগুলো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, ইফতারসামগ্রী বিতরণের জন্য যাদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, তাদের অব্যবস্থাপনার কারণেই মূলত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিতরণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। জানা গেছে, উদ্যোক্তারা প্রতি বছর এলাকায় হতদরিদ্রদের মাঝে ইফতার ও ঈদসামগ্রী বিতরণ করেন। তার মানে, লোক সমাগমের ব্যাপারে তাদের একটা ধারণা রয়েছে। তারপরও এমন স্থান কেন তারা নির্বাচন করেছিলেন যেখানে অর্ধেক মানুষেরও স্থান সংকুলান হয়নি? বলার অপেক্ষা রাখে না, দান-খয়রাত নিয়ে ঢাকঢোল পেটানোর আয়োজকদের লোক সমাগম ও তাদের স্থান সংকুলানের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত ছিল।

সাধারণত দুর্ঘটনা ঘটে মানুষের অজান্তে, যা অনেক সময় আগে থেকে প্রতিরোধ করার কোনো উপায় থাকে না। কিন্তু চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইফতারসামগ্রী আনতে গিয়ে হতদরিদ্র নারীদের ভাগ্যে যা ঘটেছে, তা কি প্রতিরোধ করা যেত না? এটা কি তাদের ডেকে নিয়ে হত্যা করা নয়? আমরা মনে করি, মৃতের স্বজনদের আহাজারি আজ শুনতে হতো না, যদি আয়োজকরা প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে বিবেচনাবোধের পরিচয় দিতেন। আমরা চাই, জাকাতসহ অন্যান্য সাহায্য-সহযোগিতার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামে ১০ নারীর মৃত্যুর ঘটনাই হোক এ ধরনের শেষ ঘটনা। এরপর যেন আর আমাদের এমন বেদনাদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়াতে না হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter