মাধ্যমিকের পরের ভাবনা

  হিমেল আহমেদ ১৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মতামত

মাধ্যমিক পরীক্ষায় এ বছর পাসের হার অনেকটাই কম। ৯ বছরের সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড হয়েছে। তবে বেড়েছে জিপিএ’র সংখ্যা। নিঃসন্দেহে মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ এই পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ করবে ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ। এ বছর পাসের হার কম অর্থাৎ ফেলের সংখ্যা বেশি। ফেল করা ছাত্রছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে প্রতিবারের মতো, যা সত্যিই দুঃখজনক। প্রতি বছর অনেক পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।

তাই অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীদের বিষয়ে অভিভাবকদের সজাগ ও সচেতন হওয়া জরুরি। এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা অকৃতকার্য হয়েছে তারাও তো চেষ্টা করেছে। কেউ অকৃতকার্য হলে বকাঝকা দিয়ে লাভ নেই।

তাদের অনুপ্রাণিত করতে হবে, তারা যেন ভবিষ্যতে ভালো করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই কথাটি সর্বজনীন। সব অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর ভাবা উচিত অকৃতকার্য হলেই জীবনের অধ্যায় শেষ নয়। পুনরায় চেষ্টা করা উচিত। বিশেষ করে অভিভাবকদের নিজ সন্তানের প্রতি নমনীয় ও পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করা উচিত।

মাধ্যমিক পরীক্ষার পর অনেক শিক্ষার্থী দ্বিধান্বিত থাকে- তারা কোন কলেজে ভর্তি হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী। এ বিষয়ে অভিভাবকদের কড়া দৃষ্টি দেয়া উচিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা বন্ধুনির্ভর হয়ে ওঠে। বন্ধু-বান্ধবরা যে কলেজে ভর্তি হয় তারাও সেখানে ভর্তি হতে চায়।

এতে করে তাদের মনের সুপ্ত ইচ্ছা বা জীবনের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়িত হতে পারে না। বাধাগ্রস্ত হয় ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার। কারণ দেশে সব পরিবারের আর্থিক অবস্থা একরকম নয়। হয়তো আপনার সন্তান তার বন্ধুর সঙ্গে একই কলেজে ভর্তি হতে চাচ্ছে, অথচ অভিভাবক হিসেবে আপনার সেই সামর্থ্য নাও থাকতে পারে।

তাই সব অভিভাবকের উচিত সন্তানদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থার সব কার্যক্রম আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা। সন্তানদেরও উচিত নিজের পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া। অবশ্য প্রত্যেক মা-বাবাই চান তার সন্তান ভালো কলেজে পড়ুক, জীবনে সাফল্যমণ্ডিত হোক। তাই এসব বিষয়ে অভিভাবকদের অবদান সবচেয়ে বেশি।

সন্তানদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের জীবনের লক্ষ্য নানারকম হয়ে থাকে। কেউ ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায় আবার কেউ ইঞ্জিনিয়ার। কারও স্বপ্ন পাইলট হওয়ার তো কেউ খেলোয়াড় হতে আগ্রহী। এ বিষয়ে আমাদের অভিভাবকরা প্রায়ই দুশ্চিন্তায় ভোগেন। অবশ্যই সন্তানের ভালো-মন্দ অভিভাবক ছাড়া ভালো আর কেউ বুঝতে পারে না।

তবুও সন্তানের ইচ্ছারও প্রতিফলন ঘটানো উচিত। সন্তান হয়তো ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়, পক্ষান্তরে মা-বাবা হয়তো তাকে মেডিকেলে পড়াতে আগ্রহী। সন্তান সায়েন্স নিয়ে পড়ার যোগ্যতা রাখে না অথচ দেখা যায় মা-বাবা জোর করেই তাকে সায়েন্সে পড়াতে চান। এতে করে এসব সন্তানের মস্তিষ্কে চাপের সৃষ্টি হয়।

সন্তান যে বিষয়ে পড়তে আগ্রহী তাকে সেই বিষয়েই পড়াশোনার সুযোগ দেয়া উচিত। জোরপূর্বক শিক্ষা ছাত্রছাত্রীকে হয়তো শিক্ষিত করে তুলবে, কিন্তু মানুষ করবে না। আজীবন তাদের মনে আফসোস থেকে যাবে যে তারা তাদের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ থেকে বঞ্চিত।

তাই সব অভিভাবকের প্রতি অনুরোধ করব, মাধ্যমিক পাস করা নিজ নিজ সন্তানদের নিয়ে বসুন। ফেল করা ছাত্রছাত্রীকে আবার চেষ্টা করার সাহস দিন। তাদের ভবিষ্যৎ ইচ্ছা ও লক্ষ্য জানার চেষ্টা করুন। কারণ সন্তানদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু তো মা-বাবাই।

হিমেল আহমেদ : শিক্ষার্থী, বগুড়া আজিজুল হক কলেজ

আরও পড়ুন
pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.