একের পর এক মৃত্যু
jugantor
একের পর এক মৃত্যু
সড়কে শৃঙ্খলা কি চিরদিনের অধরা?

  সম্পাদকীয়  

২৭ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক

সড়কে এসব কী ঘটছে? একদিনের ব্যবধানে রাজধানীর সড়কে ঘটেছে দুটি চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা। বুধবার প্রথমটিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন নটর ডেম কলেজের একজন ছাত্র। দ্বিতীয়টিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির বেপরোয়া গতির ফলে মারা গেছেন এক ব্যবসায়ী। প্রথম দুর্ঘটনায় ময়লার গাড়িটি চালাচ্ছিলেন একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আর দ্বিতীয়টিতে একজন বহিরাগত। প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, গাড়ি দুটি যাদের চালানোর কথা, তারা কেন চালাচ্ছিলেন না? প্রশ্ন আরও রয়েছে। সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি চলাচল করার কথা প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত। অথচ আলোচ্য গাড়ি দুটি চলছিল দিনের বেলায়। আমরা দুই সিটি করপোরেশনের কর্তৃপক্ষের কাছে এই প্রশ্ন দুটির উত্তর চাই।

শুধু রাজধানীতে নয়, সারা দেশেই প্রতিদিন ঘটছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সড়ক দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের কচুয়ায় নিহত হয়েছেন তিন কলেজ ছাত্রসহ চারজন। প্রাণহানিকর সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে, বিশেষত নটর ডেম কলেজের ছাত্রের নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে দেশের ছাত্রসমাজ। তারা বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর, জিরো পয়েন্ট, ফার্মগেট, শান্তিনগর মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। তাদের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজপথ। তারা ঘোষণা দিয়েছেন- হত্যার বিচার ও সড়ক আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি পূরণ না হলে রোববার পুনরায় আন্দোলনে নামবেন তারা। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের আন্দোলনে নেমেছিলেন। তখন বলা হয়েছিল, তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হবে। কিন্তু গত তিন বছরে সড়ক দুর্ঘটনা তো কমেইনি, বরং বলা যায় বেড়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০১৯ সালে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির ১১১টি সুপারিশের বেশির ভাগই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮-এর প্রয়োগ চলছে সীমিত আকারে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, দীর্ঘদিনেও সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ পুরোপুরি কার্যকর না করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন- শিক্ষার্থী রাজীব, দিয়া ও আবরার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলেছিলেন, ছাত্র আন্দোলন তাদের চোখ খুলে দিয়েছে, তবে কি সেই চোখ আবার বন্ধ হয়ে গেছে?

আমরা সড়কে আর মৃত্যু দেখতে চাই না। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। আমরা লক্ষ করছি, একেকটি দুর্ঘটনার পর পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হয়, প্রতিবাদ হয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। বলা যায়, সড়কে মৃত্যু এখন এক অতি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সুপারিশগুলো কেন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না অথবা সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ কেন পুরোপুরি কার্যকর করা যাচ্ছে না, এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর চাই আমরা। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ সড়ক, বাঁচাতে হবে মানুষের প্রাণ।

একের পর এক মৃত্যু

সড়কে শৃঙ্খলা কি চিরদিনের অধরা?
 সম্পাদকীয় 
২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সড়ক
লেখালেখি হয়, প্রতিবাদ হয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না

সড়কে এসব কী ঘটছে? একদিনের ব্যবধানে রাজধানীর সড়কে ঘটেছে দুটি চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা। বুধবার প্রথমটিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন নটর ডেম কলেজের একজন ছাত্র। দ্বিতীয়টিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির বেপরোয়া গতির ফলে মারা গেছেন এক ব্যবসায়ী। প্রথম দুর্ঘটনায় ময়লার গাড়িটি চালাচ্ছিলেন একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আর দ্বিতীয়টিতে একজন বহিরাগত। প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, গাড়ি দুটি যাদের চালানোর কথা, তারা কেন চালাচ্ছিলেন না? প্রশ্ন আরও রয়েছে। সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি চলাচল করার কথা প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত। অথচ আলোচ্য গাড়ি দুটি চলছিল দিনের বেলায়। আমরা দুই সিটি করপোরেশনের কর্তৃপক্ষের কাছে এই প্রশ্ন দুটির উত্তর চাই।

শুধু রাজধানীতে নয়, সারা দেশেই প্রতিদিন ঘটছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সড়ক দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের কচুয়ায় নিহত হয়েছেন তিন কলেজ ছাত্রসহ চারজন। প্রাণহানিকর সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে, বিশেষত নটর ডেম কলেজের ছাত্রের নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে দেশের ছাত্রসমাজ। তারা বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর, জিরো পয়েন্ট, ফার্মগেট, শান্তিনগর মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। তাদের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজপথ। তারা ঘোষণা দিয়েছেন- হত্যার বিচার ও সড়ক আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি পূরণ না হলে রোববার পুনরায় আন্দোলনে নামবেন তারা। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের আন্দোলনে নেমেছিলেন। তখন বলা হয়েছিল, তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হবে। কিন্তু গত তিন বছরে সড়ক দুর্ঘটনা তো কমেইনি, বরং বলা যায় বেড়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০১৯ সালে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির ১১১টি সুপারিশের বেশির ভাগই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮-এর প্রয়োগ চলছে সীমিত আকারে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, দীর্ঘদিনেও সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ পুরোপুরি কার্যকর না করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন- শিক্ষার্থী রাজীব, দিয়া ও আবরার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলেছিলেন, ছাত্র আন্দোলন তাদের চোখ খুলে দিয়েছে, তবে কি সেই চোখ আবার বন্ধ হয়ে গেছে?

আমরা সড়কে আর মৃত্যু দেখতে চাই না। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। আমরা লক্ষ করছি, একেকটি দুর্ঘটনার পর পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হয়, প্রতিবাদ হয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। বলা যায়, সড়কে মৃত্যু এখন এক অতি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সুপারিশগুলো কেন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না অথবা সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ কেন পুরোপুরি কার্যকর করা যাচ্ছে না, এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর চাই আমরা। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ সড়ক, বাঁচাতে হবে মানুষের প্রাণ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন