অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া
jugantor
অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া
শতভাগ নির্ভুল হতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৭ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রথমবারের মতো দেশের সব ধরনের উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনে লটারির মাধ্যমে ভর্তির উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি প্রশংসনীয়। তবে এ লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার আবেদনপত্র গ্রহণের কাজ শুরু হলেও প্রথম দিনেই প্রক্রিয়াটি হোঁচট খেয়েছে। শুধু তাই নয়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৯টায় ভর্তিসংক্রান্ত ওয়েবসাইট উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও ২ ঘণ্টা পর সেটি খুলে দেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, বিলম্বে খোলা এ ওয়েবসাইটটি অপূর্ণাঙ্গ। সরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সব জেলার তথ্য আপলোড করা হয়নি। উপরন্তু অন্তত ১ হাজার ৩০০ বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যার মধ্যে রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

স্বস্তির বিষয়, দেশে বিদ্যালয় পর্যায়ে এবার কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অ্যাপসের মাধ্যমে আবেদনকারীদের নিয়ে লটারির আয়োজন করা হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। জানা গেছে, একজন শিক্ষার্থী পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবে। ১৫ ডিসেম্বর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং ১৯ ডিসেম্বর বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে লটারি অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রক্রিয়ায় ৩০ ডিসেম্বর ভর্তির কাজ সম্পন্ন করে নতুন বছরের ১ জানুয়ারি সরাসরি ক্লাস শুরুর কথা রয়েছে।

সঙ্গত কারণেই অভিভাবকরা সন্তানদের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর জন্য উদগ্রিব থাকেন। মূলত এ সুযোগটিই এতদিন গ্রহণ করেছে ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত অসাধু ব্যক্তিরা। প্রতিবছর এভাবে অভিভাবকদের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অশুভ সংস্কৃতি শিক্ষাঙ্গনকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, এ কথা বলাই বাহুল্য। ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্কুলগুলোর গভর্নিং বডির সদস্য ও শিক্ষক-কর্মচারী ছাড়াও অভিভাবক নেতা, রাজনৈতিক নেতা, এমনকি আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের নাম থাকার নজিরও সৃষ্টি হয়েছে। এ রকম একটি অবস্থায় সরকার অনিয়ম-দুর্নীতি রোধসহ শিক্ষার্থীদের অহেতুক হয়রানি থেকে বাঁচাতে পদক্ষেপ নিলেও তাতে গোড়ায় গলদ পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা দুঃখজনক। দেখা যাচ্ছে, জনদুর্ভোগ হ্রাসকল্পে ভর্তি প্রক্রিয়ার খোলনলচে পালটে ফেলা হলেও উলটো তা দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন এমনটি হলো এবং এর পেছনে কারও কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, তা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ‘ভর্তিযুদ্ধ’ নামের হয়রানি থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করার জন্য সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা শতভাগ নির্ভুল হবে, এটাই কাম্য।

অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া

শতভাগ নির্ভুল হতে হবে
 সম্পাদকীয় 
২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রথমবারের মতো দেশের সব ধরনের উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনে লটারির মাধ্যমে ভর্তির উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি প্রশংসনীয়। তবে এ লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার আবেদনপত্র গ্রহণের কাজ শুরু হলেও প্রথম দিনেই প্রক্রিয়াটি হোঁচট খেয়েছে। শুধু তাই নয়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৯টায় ভর্তিসংক্রান্ত ওয়েবসাইট উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও ২ ঘণ্টা পর সেটি খুলে দেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, বিলম্বে খোলা এ ওয়েবসাইটটি অপূর্ণাঙ্গ। সরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সব জেলার তথ্য আপলোড করা হয়নি। উপরন্তু অন্তত ১ হাজার ৩০০ বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যার মধ্যে রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

স্বস্তির বিষয়, দেশে বিদ্যালয় পর্যায়ে এবার কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অ্যাপসের মাধ্যমে আবেদনকারীদের নিয়ে লটারির আয়োজন করা হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। জানা গেছে, একজন শিক্ষার্থী পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবে। ১৫ ডিসেম্বর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং ১৯ ডিসেম্বর বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে লটারি অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রক্রিয়ায় ৩০ ডিসেম্বর ভর্তির কাজ সম্পন্ন করে নতুন বছরের ১ জানুয়ারি সরাসরি ক্লাস শুরুর কথা রয়েছে।

সঙ্গত কারণেই অভিভাবকরা সন্তানদের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর জন্য উদগ্রিব থাকেন। মূলত এ সুযোগটিই এতদিন গ্রহণ করেছে ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত অসাধু ব্যক্তিরা। প্রতিবছর এভাবে অভিভাবকদের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অশুভ সংস্কৃতি শিক্ষাঙ্গনকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, এ কথা বলাই বাহুল্য। ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্কুলগুলোর গভর্নিং বডির সদস্য ও শিক্ষক-কর্মচারী ছাড়াও অভিভাবক নেতা, রাজনৈতিক নেতা, এমনকি আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের নাম থাকার নজিরও সৃষ্টি হয়েছে। এ রকম একটি অবস্থায় সরকার অনিয়ম-দুর্নীতি রোধসহ শিক্ষার্থীদের অহেতুক হয়রানি থেকে বাঁচাতে পদক্ষেপ নিলেও তাতে গোড়ায় গলদ পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা দুঃখজনক। দেখা যাচ্ছে, জনদুর্ভোগ হ্রাসকল্পে ভর্তি প্রক্রিয়ার খোলনলচে পালটে ফেলা হলেও উলটো তা দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন এমনটি হলো এবং এর পেছনে কারও কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, তা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ‘ভর্তিযুদ্ধ’ নামের হয়রানি থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করার জন্য সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা শতভাগ নির্ভুল হবে, এটাই কাম্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন