সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
jugantor
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
উন্নয়নশীল দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই হোক লক্ষ্য

  সম্পাদকীয়  

৩০ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথার্থই বলেছেন, স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিষয়ে জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব গ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একটি বিরল সম্মান অর্জন। এটি দেশবাসীর জন্য গৌরবেরও বটে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সুপারিশ অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ।

এর মধ্য দিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার পথে বাংলাদেশের সামনে আর কোনো বাধা রইল না। এটি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। জাতিসংঘে অনুমোদন পাওয়ার পর উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রস্তুতির জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হলেও করোনার কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার পাঁচ বছর সময় দেওয়া হবে। মোট কথা, বাংলাদেশ আর ‘স্বল্পোন্নত’ দেশ থাকছে না, ‘উন্নয়নশীল’ দেশ হতে চলেছে, যা আমাদের সক্ষমতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

স্মর্তব্য, এক সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’; অর্থাৎ এ দেশকে যত সাহায্যই দেওয়া হোক না কেন, তা নিমিষেই ফুরিয়ে যায়। আজ সেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। এটি দেশবাসীর এক বিরাট অর্জন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আমাদের জানিয়েছেন কীভাবে ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে আওয়ামী লীগ ঘোষিত ‘রূপকল্প-২০২১’-এর আলোকে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের এ উত্তরণ ঘটেছে। সন্দেহ নেই, এর কৃতিত্ব সরকার ও জনগণের। বিশেষ করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের এ সময়ে এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন নিঃসন্দেহে। তবে এ উন্নতির ফসল যাতে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। বস্তুত বঙ্গবন্ধু সেটাই চেয়েছিলেন। ‘রূপকল্প-৪১’-এর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করাই এখন মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য পূরণে সরকারকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়। সে জন্য রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে দুর্নীতির মূল উপড়ে ফেলতে হবে। কারণ উন্নয়নের ফসল অনেকটাই খেয়ে নেয় দুর্নীতি। ফলে সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়।

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বাংলাদেশ কিছু চ্যালেঞ্জেরও সম্মুখীন হবে। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশগুলো বাণিজ্য ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে-যেমন, শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা, জিএসপি সুবিধা ইত্যাদি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এসব সুবিধা আর পাবে না। তখন স্বল্পোন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশকে রপ্তানির ক্ষেত্রে বেশি শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ কমেও যেতে পারে। এ আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

উন্নয়নশীল দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই হোক লক্ষ্য
 সম্পাদকীয় 
৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথার্থই বলেছেন, স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিষয়ে জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব গ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একটি বিরল সম্মান অর্জন। এটি দেশবাসীর জন্য গৌরবেরও বটে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সুপারিশ অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ।

এর মধ্য দিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার পথে বাংলাদেশের সামনে আর কোনো বাধা রইল না। এটি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। জাতিসংঘে অনুমোদন পাওয়ার পর উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রস্তুতির জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হলেও করোনার কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার পাঁচ বছর সময় দেওয়া হবে। মোট কথা, বাংলাদেশ আর ‘স্বল্পোন্নত’ দেশ থাকছে না, ‘উন্নয়নশীল’ দেশ হতে চলেছে, যা আমাদের সক্ষমতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

স্মর্তব্য, এক সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’; অর্থাৎ এ দেশকে যত সাহায্যই দেওয়া হোক না কেন, তা নিমিষেই ফুরিয়ে যায়। আজ সেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। এটি দেশবাসীর এক বিরাট অর্জন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আমাদের জানিয়েছেন কীভাবে ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে আওয়ামী লীগ ঘোষিত ‘রূপকল্প-২০২১’-এর আলোকে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের এ উত্তরণ ঘটেছে। সন্দেহ নেই, এর কৃতিত্ব সরকার ও জনগণের। বিশেষ করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের এ সময়ে এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন নিঃসন্দেহে। তবে এ উন্নতির ফসল যাতে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। বস্তুত বঙ্গবন্ধু সেটাই চেয়েছিলেন। ‘রূপকল্প-৪১’-এর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করাই এখন মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য পূরণে সরকারকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়। সে জন্য রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে দুর্নীতির মূল উপড়ে ফেলতে হবে। কারণ উন্নয়নের ফসল অনেকটাই খেয়ে নেয় দুর্নীতি। ফলে সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়।

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বাংলাদেশ কিছু চ্যালেঞ্জেরও সম্মুখীন হবে। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশগুলো বাণিজ্য ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে-যেমন, শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা, জিএসপি সুবিধা ইত্যাদি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এসব সুবিধা আর পাবে না। তখন স্বল্পোন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশকে রপ্তানির ক্ষেত্রে বেশি শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ কমেও যেতে পারে। এ আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন