অর্থ পাচার রোধের কার্যক্রম
jugantor
অর্থ পাচার রোধের কার্যক্রম
সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ পাচার রোধে এবং পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও এ ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই-এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। জানা গেছে, এ কাজের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডে রয়েছে সমন্বয়ের অভাব।

একইসঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবেও মিলছে না সহযোগিতা। উল্লেখ্য, অর্থ পাচার রোধে কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসাবে কাজ করে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাদের সঙ্গে আছে সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিসহ আরও কয়েকটি সংস্থা কাজ করে থাকে। কোন্ সংস্থার দায়িত্ব কী তা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে।

কিন্তু টাকা পাচার বিষয়ক কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের বিভিন্ন সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, সংস্থাগুলো একে অপরকে সহযোগিতা করছে না। ফলে তদন্তকাজ দ্রুত এগোচ্ছে না। মানি লন্ডারিং বিষয়ক অপরাধের তদন্তে গতি আনার জন্য বিএফআইইউকে তদারকির দায়িত্ব দিয়ে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে সিআইডি ও দুদক আপত্তি জানায়। ফলে যৌথ তদন্ত দলের তদারকি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আমরা মনে করি, এ সমন্বয়হীনতা নিরসনে সরকারের উচিত অবিলম্বে বিষয়টিতে দৃষ্টি দেওয়া।

দেশ থেকে অর্থ পাচার অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মুদ্রা পাচার নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণকারী ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫ হাজার ২৭০ কোটি ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা। গড়ে প্রতিবছর পাচারের পরিমাণ প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা। কাজেই বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অর্থ পাচার একটি গুরুতর অপরাধ। এজন্য শাস্তির বিধান রেখে আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। তারপরও টাকা পাচার বন্ধ হচ্ছে না। কী এর কারণ তা চিহ্নিত করে ফাঁকগুলো বন্ধ করা জরুরি। টাকা পাচারের পন্থাগুলো বহুবার আলোচনায় এসেছে। সাধারণত আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার হয়ে থাকে বেশি। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং) অর্থ পাচারের অন্যতম কৌশল। এছাড়া ভুয়া রপ্তানি এলসি এবং ক্রয়চুক্তির মাধ্যমেও অর্থ পাচার হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নজরদারি ও তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করা প্রয়োজন। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কাজটি যেহেতু অপেক্ষাকৃত জটিল, সেহেতু পাচার রোধের বিষয়টিতে জোর দেওয়া উচিত বেশি। অন্যদিকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য বিদেশে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।

অর্থ পাচার রোধে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতির টাকা বা কালো টাকাই বিদেশে পাচার হয় বেশি। দেশে দুর্নীতি বন্ধ না হওয়ায় বন্ধ হচ্ছে না অর্থ পাচারও। সরকারের সদিচ্ছাই পারে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের লাগাম টেনে ধরতে। এ ক্ষেত্রে অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করাটাও জরুরি। তারা যাতে কোনোভাবে পার না পায়, সরকারের উচিত তা নিশ্চিত করা। তা না হলে নানা প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অর্থ পাচার রোধের কার্যক্রম

সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে
 সম্পাদকীয় 
০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ পাচার রোধে এবং পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও এ ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই-এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। জানা গেছে, এ কাজের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডে রয়েছে সমন্বয়ের অভাব।

একইসঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবেও মিলছে না সহযোগিতা। উল্লেখ্য, অর্থ পাচার রোধে কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসাবে কাজ করে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাদের সঙ্গে আছে সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিসহ আরও কয়েকটি সংস্থা কাজ করে থাকে। কোন্ সংস্থার দায়িত্ব কী তা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে।

কিন্তু টাকা পাচার বিষয়ক কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের বিভিন্ন সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, সংস্থাগুলো একে অপরকে সহযোগিতা করছে না। ফলে তদন্তকাজ দ্রুত এগোচ্ছে না। মানি লন্ডারিং বিষয়ক অপরাধের তদন্তে গতি আনার জন্য বিএফআইইউকে তদারকির দায়িত্ব দিয়ে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে সিআইডি ও দুদক আপত্তি জানায়। ফলে যৌথ তদন্ত দলের তদারকি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আমরা মনে করি, এ সমন্বয়হীনতা নিরসনে সরকারের উচিত অবিলম্বে বিষয়টিতে দৃষ্টি দেওয়া।

দেশ থেকে অর্থ পাচার অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মুদ্রা পাচার নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণকারী ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫ হাজার ২৭০ কোটি ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা। গড়ে প্রতিবছর পাচারের পরিমাণ প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা। কাজেই বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অর্থ পাচার একটি গুরুতর অপরাধ। এজন্য শাস্তির বিধান রেখে আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। তারপরও টাকা পাচার বন্ধ হচ্ছে না। কী এর কারণ তা চিহ্নিত করে ফাঁকগুলো বন্ধ করা জরুরি। টাকা পাচারের পন্থাগুলো বহুবার আলোচনায় এসেছে। সাধারণত আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার হয়ে থাকে বেশি। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং) অর্থ পাচারের অন্যতম কৌশল। এছাড়া ভুয়া রপ্তানি এলসি এবং ক্রয়চুক্তির মাধ্যমেও অর্থ পাচার হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নজরদারি ও তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করা প্রয়োজন। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কাজটি যেহেতু অপেক্ষাকৃত জটিল, সেহেতু পাচার রোধের বিষয়টিতে জোর দেওয়া উচিত বেশি। অন্যদিকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য বিদেশে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।

অর্থ পাচার রোধে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতির টাকা বা কালো টাকাই বিদেশে পাচার হয় বেশি। দেশে দুর্নীতি বন্ধ না হওয়ায় বন্ধ হচ্ছে না অর্থ পাচারও। সরকারের সদিচ্ছাই পারে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের লাগাম টেনে ধরতে। এ ক্ষেত্রে অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করাটাও জরুরি। তারা যাতে কোনোভাবে পার না পায়, সরকারের উচিত তা নিশ্চিত করা। তা না হলে নানা প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন