কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু
jugantor
কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু
সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার কাম্য

  সম্পাদকীয়  

০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক ড. মো. সেলিম হোসেনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর মানসিক নিপীড়নে ড. সেলিমের মৃত্যু হয়েছে। কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ এ শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। অন্যদিকে কুয়েট ছাত্রলীগ খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, সেলিম স্যারের মৃত্যু স্বাভাবিক হলেও একটি কুচক্রী মহল ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যু নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে-আমরা মনে করি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এ রহস্য উদ্ঘাটন করা উচিত। উল্লেখ্য, ৩০ নভেম্বর ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর পর থেকে জড়িতদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অব্যাহত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ হল বন্ধ হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের অনেকটা সময় নষ্ট হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সবে ছাত্রছাত্রীরা পড়ালেখায় মনোযোগী হয়েছেন, এ সময় এ ধরনের পরিস্থিতি তাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক এবং আর্থিক ও মানসিক পীড়ার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এদিকে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ড. মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। সিসিটিভির ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির আলোকে অসদাচরণের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। আমরা আশা করব, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অবসান হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী হয়ে থাকলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাকে বা তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে, এটাই কাম্য।

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু

সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার কাম্য
 সম্পাদকীয় 
০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক ড. মো. সেলিম হোসেনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর মানসিক নিপীড়নে ড. সেলিমের মৃত্যু হয়েছে। কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ এ শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। অন্যদিকে কুয়েট ছাত্রলীগ খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, সেলিম স্যারের মৃত্যু স্বাভাবিক হলেও একটি কুচক্রী মহল ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যু নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে-আমরা মনে করি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এ রহস্য উদ্ঘাটন করা উচিত। উল্লেখ্য, ৩০ নভেম্বর ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর পর থেকে জড়িতদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অব্যাহত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ হল বন্ধ হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের অনেকটা সময় নষ্ট হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সবে ছাত্রছাত্রীরা পড়ালেখায় মনোযোগী হয়েছেন, এ সময় এ ধরনের পরিস্থিতি তাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক এবং আর্থিক ও মানসিক পীড়ার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এদিকে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ড. মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। সিসিটিভির ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির আলোকে অসদাচরণের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। আমরা আশা করব, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অবসান হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী হয়ে থাকলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাকে বা তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে, এটাই কাম্য।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন