খুলনায় বিজয়ী শাসক দল

অনিয়মের তদন্ত হওয়া দরকার

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রায় ৬৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। সরকারি হিসাবে শেষ পর্যন্ত দুই প্রার্থীর ভোট কম-বেশি হলেও তা জয়-পরাজয় নির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখবে- এমন সম্ভাবনা নেই।

কেসিসির ভোট দৃশ্যত ভালো এবং সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করা হলেও গণতন্ত্রের প্রকৃত স্পিরিট যে সেখানে মার খেয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, বিক্ষিপ্ত সহিংসতা, সরকার দলের প্রার্থীর লোকজন কর্তৃক বিরোধী দলের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক ও পোলিং এজেন্টদের মারধর এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। ফলে কেসিসি নির্বাচনের ফলাফলে যেসব জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের দায়িত্ব পালনে যেমন সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে, তেমনি পরাজিত প্রার্থীরা যেসব অভিযোগ করেছেন, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ারও বিকল্প নেই।

এ নির্বাচনে অনিয়মের যেসব অভিযোগ পরাজিত প্রার্থীর দল বিএনপি থেকে করা হয়েছে, তা আমলে নিয়ে ইসিকে তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যথায় গণতন্ত্রের মূল শিক্ষা- পরমতসহিষ্ণুতা ও আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলেছে বিএনপির অভিযোগ সুনির্দিষ্ট নয়। আমরা মনে করি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ ধরনের বক্তব্য না দিয়ে অভিযোগ তদন্ত করার উদ্যোগ নেয়াই ইসির আসল দায়িত্ব।

অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া, মারধর করা ও আগে থেকে সিল মারা ব্যালট সরবরাহ, প্রিসাইডিং অফিসারকে তালাবদ্ধ করে রাখা এবং সহিংসতার ঘটনা কম নয়। কেসিসি নির্বাচনেও এসব ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ৭টি ওয়ার্ডে গুলিবর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে প্রতিপক্ষকে মারধরের খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত একটি সিটি নির্বাচনে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না করে উড়িয়ে দেয়া ইসি, প্রশাসন ও সরকার- কারও জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।

দুর্ভাগ্যজনক হল, আমরা মুখে যতই গণতন্ত্রের গুণগান গাই, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। জনরায় নিজের পক্ষে গেলে সবকিছু অবাধ-সুষ্ঠু; কিন্তু বিপক্ষে গেলে কারচুপি- এমন আচরণ সব দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও প্রার্থীর মধ্যেই বিদ্যমান। গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নিতে হলে এমন মনোভাব সবাইকে পরিহার করতে হবে।

নানা অনিয়মের অভিযোগ সত্ত্বেও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র ও কমিশনারদের কাজের সুযোগ দিতে হবে। একইসঙ্গে অনিয়মের অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশেষত, বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা করে গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনা এবং তিনটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করার ঘটনা গণতন্ত্রের স্বার্থেই সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় প্রশাসন, সর্বোপরি সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো আমলে নিয়ে নজির স্থাপন করা হবে বলে আমরা আশাবাদী।

আরও পড়ুন
pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.