ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে অনীহা কেন

  মো. জাহানুর ইসলাম ১৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মতামত

ব্যস্ত ঢাকা নগরী, ব্যস্ত শাহবাগ। সকাল ৯টা। সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছে। সবার উদ্দেশ্য যেন এক- যেভাবেই হোক নির্দিষ্ট সময়ে নিজ গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে হবে।

আমি শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করে অনেক দিন ধরে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। একটি বিষয় খুব দৃষ্টিকটুভাবে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। দেখেছি ব্যস্ত শাহবাগ মোড়ের দুই পাশে দুটি ফুটওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ ওভারব্রিজগুলো ব্যবহার না করে ট্রাফিক আইন অমান্য করে রাস্তা পার হচ্ছে।

এতে করে একদিকে যেমন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকিও বাড়ছে। যানজট দূরীকরণ আর পথচারীদের রাস্তা পারাপার নিরাপদ করতে হাজার হাজার টাকা ব্যয়ে ওভারব্রিজগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

কিন্তু পথচারীদের অসচেতনতা এবং খেয়ালখুশিমতো চলার মনোভাবের কারণে সেগুলো তেমন কোনো কাজে আসছে না। এটি যে কেবল শাহবাগ মোড়ের অবস্থা তা নয়, রাজধানীর অধিকাংশ ওভারব্রিজের অবস্থা প্রায় একইরকম। দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণের একপর্যায়ে কয়েকজনের কাছে জানতে চাইলাম কেন তারা ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করছেন না। তারা যে সমস্যাগুলোর কথা বললেন তা মোটামুটি এ রকম :

১. অধিকাংশ ওভারব্রিজ মূল মোড় থেকে একটু দূরে থাকায় সময় বাঁচানোর জন্য তারা ওভারব্রিজ ব্যবহার করেন না; ২.পথচারীদের সচেতনতার অভাব; ৩. ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা, ৪. ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ না থাকা, ৫. ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে বাধ্যতামূলক কোনো আইন না থাকা, ৬. ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে পথচারীরা অবগত না থাকা, ৭. আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে খেয়ালখুশিমতো চলার মনোভাব, ৮. ট্রাফিক আইনভঙ্গের শাস্তির বিধান সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকা, ৯. ওভারব্রিজগুলোতে চলন্ত সিঁড়ি না থাকায় তা ব্যবহারে অনেকের উদাসীনতা, ১০. ফুটওভারব্রিজগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় অনেক সময় ময়লা-আবর্জনা জমে যায়। এ কারণেও অনেকে ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে চায় না, ১১. অনেক ওভারব্রিজ হকার, নেশাখোর, টোকাই, ভবঘুরেদের দখলে। ফলে নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই তা ব্যবহার করে না।

পথচারীদের কথাগুলো একদম ফেলে দেয়ার মতো নয়। তাদের কথাগুলো মিথ্যা নয়। তাই আমার মনে হয় ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহারে পথচারীদের বেশি করে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সবার আগে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন রকমের কর্মসূচির আয়োজন করা যেতে পারে।

ট্রাফিক আইন সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে। এছাড়া যেখানে ফুটওভারব্রিজ আছে সেখানে ওভারব্রিজ ছাড়া রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা যেতে পারে। ওভারব্রিজে চলন্ত সিঁড়ির ব্যবস্থা করা উচিত। কেউ ট্রাফিক আইনভঙ্গ করলে তার যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে। ফুটওভারব্রিজগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সব ওভারব্রিজ হকার, টোকাই, নেশাখোর, ভবঘুরেদের দখল থেকে মুক্ত করতে হবে। এসব সমস্যা দূর করতে পারলে নিঃসন্দেহে মানুষ ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

মো. জাহানুর ইসলাম : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.