পুলিশ সপ্তাহ

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটুক

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশ সপ্তাহ
ফাইল ছবি

পদস্থ একজন পুলিশ কর্মকর্তার নৈতিক স্খলন ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচারের সংবাদ এমন এক সময়ে গণমাধ্যমে এসেছে, যখন দেশে পুলিশ সপ্তাহ উদযাপিত হচ্ছে। পুলিশ সপ্তাহ একটি সাংবাৎসিক আয়োজন। প্রতিবছর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স রাজারবাগে নানা কর্মসূচি ও পদক বিতরণের মধ্য দিয়ে সাড়ম্বরে পুলিশ সপ্তাহ পালিত হয়ে থাকে। এবারের পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন এরই ধারাবাহিকতা। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষণে যেসব কথা বলেছেন, তা প্রণিধানযোগ্য। তিনি পুলিশকে আরও জনবান্ধব হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, ‘পুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই। দেশের প্রচলিত আইন, সততা এবং নৈতিক মূল্যবোধই হবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথনির্দেশক। সফলতার জন্য আপনারা যেমন পুরস্কৃত হবেন, তেমনি প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে।’ বস্তুত এটাই হওয়া উচিত পুলিশের প্রকৃত ভূমিকা। মানবাধিকার লংঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানকে দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় এনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটানো উচিত বলে আমরা মনে করি।

দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের পুলিশ বাহিনী নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও পুলিশ নিজেই জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। রক্ষক যদি ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়- এ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সামনে চলে আসে। বিপদে-আপদে যেখানে মানুষের সবচেয়ে বেশি নির্ভর করার কথা পুলিশের ওপর, সেখানে দেখা যাচ্ছে- নিজেদের আচার-ব্যবহার ও কার্যকলাপের মাধ্যমে পুলিশ হয়ে পড়ছে জনবিচ্ছিন্ন এবং তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৬ সালে সারা দেশ থেকে ১৩ হাজার ৬শ’ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সিকিউরিটি সেলে অভিযোগ জমা পড়লেও ২০১৭ সালের প্রথম নয় মাসে অভিযুক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৫ হাজার ১শ’। অভিযুক্তের হার বৃদ্ধির এ পরিসংখ্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করে তা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজবেন, এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।

পুলিশের কাজ মানবাধিকার রক্ষা করা হলেও অভিযুক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান তা না করে অবলীলায় একের পর এক মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটিয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। আমাদের জানামতে, বেশ কিছুদিন আগে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান পুলিশের সব পর্যায়ের পদোন্নতির ক্ষেত্রে মানবাধিকার কমিশন থেকে সনদ নেয়ার বিধান চালু করার সুপারিশ করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল- কোনো পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটেছে কিনা, এ মর্মে মানবাধিকার কমিশনের সনদ আমলে নেয়া উচিত। কমিশন চেয়ারম্যানের এ সুপারিশের বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের ভেবে দেখা উচিত। একটি স্বাধীন দেশে পুলিশ বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যেভাবে তার স্বরূপ প্রকাশ করেছেন, তা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রধানমন্ত্রী যেমনটা বলেছেন- ভালো কাজের জন্য পুরস্কার আর মন্দ কাজের জন্য শাস্তির বিধান- সব পুলিশ সদস্যের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.