জনজীবনে শীতের প্রভাব

মানবিক সহায়তা জরুরি

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শীতের প্রভাব
শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ডের পর সারা দেশে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করার বিষয়টি স্বস্তিদায়ক। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে চলা তীব্র শৈত্যপ্রবাহে এবং শীতজনিত রোগে গত সাত দিনে সারা দেশে ২৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শীতে জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষের কষ্টের সীমা নেই। সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় দরিদ্র মানুষকেই। পুষ্টিহীন মানুষ সহজেই শীতে কাবু হয়ে পড়ে। তাছাড়া শীতে বেশি ভোগে বয়স্ক ও শিশুরাও। শীতের তীব্রতায় বাড়ে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানিসহ শীতজনিত নানা রোগ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যেই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ার খবর রয়েছে।

শীতার্তদের কষ্ট লাঘবে সবচেয়ে যা জরুরি তা হল মানবিক সহায়তা, বিশেষত ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা। এজন্য প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসা উচিত। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশে আপাতত তাপমাত্রা বাড়তে থাকলেও প্রকৃতিতে শীতের আবেশ আরও কয়েকদিন থাকবে। তাছাড়া জানুয়ারির শেষদিকে আরও একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে। তাই প্রত্যেকের উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী শীতার্তদের প্রতি সহায়তার হাত প্রসারিত করা।

ঋতু বৈচিত্র্যের হিসাব অনুযায়ী এ দেশে শীত নামে ডিসেম্বর থেকে। তবে এ বছর শীতের তীব্রতা লক্ষ করা যাচ্ছে জানুয়ারি থেকে। দেশে স্মরণকালের সবচেয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বস্তুত এখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়েই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কোনো কোনো স্থানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অস্বাভাবিক নিচে নেমে গেছে। বেড়েছে তুষার ঝড়ের প্রকোপ। ইউরোপেও এ ধরনের অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যাচ্ছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় নাগরিকদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এসব উদ্বেগজনক প্রভাব থেকে বাঁচার পথ বের করতে হবে বিজ্ঞানীদের।

দেশে তীব্র শীতের কারণে স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। রাজধানীর কোনো কোনো স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও জানা যায়। কিছুটা হলেও উদ্বেগের কারণ ঘটেছে কৃষিক্ষেত্রে। জানা গেছে শীতের প্রভাব পড়েছে বোরো ও আলুর ফলনে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কারও নেই। তবে তা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মোকাবেলা করা এবং বিদ্যমান পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে বসবাস করার মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষতি সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা যেতে পারে। শীতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমরা যদি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেই, তাহলে দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

 
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter