স্থল ও নৌবন্দরে ঢিলেঢালা ভাব
jugantor
স্থল ও নৌবন্দরে ঢিলেঢালা ভাব
করোনা প্রতিরোধে অব্যবস্থাপনা কাম্য নয়

   

১৬ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনা তথা ওমিক্রনের সংক্রমণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। শুক্রবার করোনা সংক্রমণের হার ছিল ১৪ দশমিক ৬৬ আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪ হাজারের উপরে। করোনা সংক্রমণের এ ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে সরকার বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে নির্দেশনা জারি করেছে। দেশের বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরগুলোর ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা নির্দেশনা। কিন্তু নির্দেশনা থাকলেও এসব জায়গায় তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না ঠিকমতো। সক্ষমতার অভাবই এর কারণ। বিশেষ করে বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপন, স্ক্রিনিং মেশিন বসানো, সুরক্ষা সামগ্রীর বন্দোবস্ত ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগতি যথেষ্ট নয়। এতে যাত্রীরা শুধু ভোগান্তিতেই পড়ছে না, শিকার হচ্ছে হয়রানিরও। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের দিকে তাকালেই বোঝা যায় এ দুই বন্দরে সরকারি নির্দেশনা কতটা পালিত হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার প্রবাসী নমুনা পরীক্ষা করাতে আসেন। বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, এখানে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ১৬টি বুথে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে থাকতে হচ্ছে। পরীক্ষার ফল পেতেও সময় লাগছে বেশি। যাত্রার আগে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা তাদের বিমানবন্দরেই থাকতে হচ্ছে। ওদিকে ওমিক্রনের ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দর ও চেকপোস্টে তেমন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখানে ট্রাকচালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। এতে প্রায় ১০ হাজার বন্দর ব্যবহারকারী রয়েছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। ভারত থেকে আসা যাত্রীদেরও ঠিকমতো পরীক্ষা করা হচ্ছে না। শরীরের তাপমাত্রা মাপার থার্মাল স্ক্যানার থাকলেও সেটি মনিটর করা হচ্ছে না। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ভারত থেকে আসা ট্রাক ড্রাইভার ও খালাসিদের মুখে থাকছে না মাস্ক। আমদানিকৃত পণ্যবোঝাই ট্রাক রেখে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্দরের ভেতর ও বাইরে।

বলা বাহুল্য, করোনা প্রতিরোধে দেশের বিমান ও স্থলবন্দরগুলোয় নিরাপত্তাব্যবস্থা এক অতি জরুরি বিষয়। বলা যেতে পারে, বন্দর হলো দেশে করোনার প্রবেশদ্বার। উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনে প্রথম যখন করোনা শনাক্ত হয়েছিল, তখন আমাদের বন্দরগুলোয় কড়াকড়ি আরোপ করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা সেভাবে করা হয়নি। ফলে অতি সহজেই করোনা প্রবেশ করেছিল দেশে। এবার যখন করোনার তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানছে, তখন দেশের স্থল ও বিমানবন্দরে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা কাম্য নয়। আমরা আশা করব, দেশের স্থল ও বিমানবন্দরগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি যেসব নির্দেশনা রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালিত হবে। এর অন্যথা হলে বড় ধরনের সংকটে পড়বে দেশ।

স্থল ও নৌবন্দরে ঢিলেঢালা ভাব

করোনা প্রতিরোধে অব্যবস্থাপনা কাম্য নয়
  
১৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনা তথা ওমিক্রনের সংক্রমণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। শুক্রবার করোনা সংক্রমণের হার ছিল ১৪ দশমিক ৬৬ আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪ হাজারের উপরে। করোনা সংক্রমণের এ ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে সরকার বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে নির্দেশনা জারি করেছে। দেশের বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরগুলোর ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা নির্দেশনা। কিন্তু নির্দেশনা থাকলেও এসব জায়গায় তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না ঠিকমতো। সক্ষমতার অভাবই এর কারণ। বিশেষ করে বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপন, স্ক্রিনিং মেশিন বসানো, সুরক্ষা সামগ্রীর বন্দোবস্ত ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগতি যথেষ্ট নয়। এতে যাত্রীরা শুধু ভোগান্তিতেই পড়ছে না, শিকার হচ্ছে হয়রানিরও। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের দিকে তাকালেই বোঝা যায় এ দুই বন্দরে সরকারি নির্দেশনা কতটা পালিত হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার প্রবাসী নমুনা পরীক্ষা করাতে আসেন। বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, এখানে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ১৬টি বুথে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে থাকতে হচ্ছে। পরীক্ষার ফল পেতেও সময় লাগছে বেশি। যাত্রার আগে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা তাদের বিমানবন্দরেই থাকতে হচ্ছে। ওদিকে ওমিক্রনের ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দর ও চেকপোস্টে তেমন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখানে ট্রাকচালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। এতে প্রায় ১০ হাজার বন্দর ব্যবহারকারী রয়েছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। ভারত থেকে আসা যাত্রীদেরও ঠিকমতো পরীক্ষা করা হচ্ছে না। শরীরের তাপমাত্রা মাপার থার্মাল স্ক্যানার থাকলেও সেটি মনিটর করা হচ্ছে না। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ভারত থেকে আসা ট্রাক ড্রাইভার ও খালাসিদের মুখে থাকছে না মাস্ক। আমদানিকৃত পণ্যবোঝাই ট্রাক রেখে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্দরের ভেতর ও বাইরে।

বলা বাহুল্য, করোনা প্রতিরোধে দেশের বিমান ও স্থলবন্দরগুলোয় নিরাপত্তাব্যবস্থা এক অতি জরুরি বিষয়। বলা যেতে পারে, বন্দর হলো দেশে করোনার প্রবেশদ্বার। উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনে প্রথম যখন করোনা শনাক্ত হয়েছিল, তখন আমাদের বন্দরগুলোয় কড়াকড়ি আরোপ করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা সেভাবে করা হয়নি। ফলে অতি সহজেই করোনা প্রবেশ করেছিল দেশে। এবার যখন করোনার তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানছে, তখন দেশের স্থল ও বিমানবন্দরে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা কাম্য নয়। আমরা আশা করব, দেশের স্থল ও বিমানবন্দরগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি যেসব নির্দেশনা রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালিত হবে। এর অন্যথা হলে বড় ধরনের সংকটে পড়বে দেশ।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন