সমন্বয়হীন গণপরিবহণ
jugantor
সমন্বয়হীন গণপরিবহণ
সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করুন

   

১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রী চলাচলের ক্ষেত্রে কী নিয়ম পরিপালিত হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ঘটনা অনভিপ্রেত। দেখা যাচ্ছে, ১০ জানুয়ারি সরকারের তরফ থেকে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারির পর গণপরিবহণে যাতায়াতের ক্ষেত্রে একেক সময় একেক সিদ্ধান্ত আসছে। এর ফলে কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও শতভাগ যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছে। যেমন রেলে ইতোমধ্যে অর্ধেক যাত্রী পরিবহণের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বাসে অর্ধেক আসনে যাত্রী নেওয়ার ঘোষণা এলেও সে নির্দেশনা সংশোধন করা হয়েছে। অন্যদিকে নৌপথে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও মালিকরা শতভাগ আসনে যাত্রী পরিবহণে অনড় বলে জানা গেছে। আশ্চর্যজনক হলো, বিধিনিষেধ জারির এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত সঠিক কোনো তথ্য নেই। গত শনিবার বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে রাজধানীতে বাসে অর্ধেক যাত্রী পরিবহণ না করায় জরিমানা করতে দেখা গেছে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মন্ত্রিপরিষদ থেকে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারির পর গণপরিবহণ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষগুলো সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণেই এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে রাস্তাঘাটে চলাচল করতে গিয়ে নানারকম ভোগান্তি ও অসুবিধায় নিপতিত হচ্ছেন। বস্তুত সমন্বিত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় গণপরিবহণের তিনটি সেক্টর থেকে তিন ধরনের সিদ্ধান্ত এসেছে, যা পরে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন হতে থাকে। এতে করোনা নিয়ন্ত্রণের মুখ্য উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এরপর থেকে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে শনাক্তের হার ও মৃতের সংখ্যা। যদিও মাঝখানে কিছুদিন দেশে করোনাজনিত মৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল এবং মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তির ভাব লক্ষ করা যাচ্ছিল। তবে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর দৃশ্যপট পালটে গেছে। কোভিড-১৯ বিষয়ে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি এরই মধ্যে ওমিক্রন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীও ওমিক্রন নিয়ে উচ্চমাত্রার সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ওমিক্রন নিয়ে ভয়ের কারণ হলো, আমাদের বাজার-ঘাট, পর্যটন, কলকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছু খোলা রয়েছে। তা ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি ও যথাযথভাবে মাস্ক ব্যবহারের ব্যাপারেও মানুষের মধ্যে ব্যাপক শিথিলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত ছড়াতে সক্ষম ওমিক্রেেনর সংক্রমণ রোধে সতর্কতা, সচেতনতা, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ইত্যাদির কোনো বিকল্প নেই।

হতাশাজনক হলো, শুরু থেকেই দেশে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় এক ধরনের সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা গেছে, সর্বশেষ যা গণপরিবহণে যাত্রী চলাচল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গণপরিবহণ বিষয়ে সমন্বিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব এনজাইম আছে, তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাপমাত্রায় কম কার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। শীতে বাতাসের তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতাও কমে যায়, যা আমাদের শ্বাসনালির স্বাভাবিক কর্মপ্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে ভাইরাসের আক্রমণ সহজ করে তোলে। কাজেই শীতকালে ওমিক্রন থেকে দেশবাসীকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে গণপরিবহণে বিরাজমান সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

সমন্বয়হীন গণপরিবহণ

সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করুন
  
১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রী চলাচলের ক্ষেত্রে কী নিয়ম পরিপালিত হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ঘটনা অনভিপ্রেত। দেখা যাচ্ছে, ১০ জানুয়ারি সরকারের তরফ থেকে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারির পর গণপরিবহণে যাতায়াতের ক্ষেত্রে একেক সময় একেক সিদ্ধান্ত আসছে। এর ফলে কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও শতভাগ যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছে। যেমন রেলে ইতোমধ্যে অর্ধেক যাত্রী পরিবহণের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বাসে অর্ধেক আসনে যাত্রী নেওয়ার ঘোষণা এলেও সে নির্দেশনা সংশোধন করা হয়েছে। অন্যদিকে নৌপথে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও মালিকরা শতভাগ আসনে যাত্রী পরিবহণে অনড় বলে জানা গেছে। আশ্চর্যজনক হলো, বিধিনিষেধ জারির এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত সঠিক কোনো তথ্য নেই। গত শনিবার বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে রাজধানীতে বাসে অর্ধেক যাত্রী পরিবহণ না করায় জরিমানা করতে দেখা গেছে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মন্ত্রিপরিষদ থেকে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারির পর গণপরিবহণ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষগুলো সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণেই এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে রাস্তাঘাটে চলাচল করতে গিয়ে নানারকম ভোগান্তি ও অসুবিধায় নিপতিত হচ্ছেন। বস্তুত সমন্বিত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় গণপরিবহণের তিনটি সেক্টর থেকে তিন ধরনের সিদ্ধান্ত এসেছে, যা পরে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন হতে থাকে। এতে করোনা নিয়ন্ত্রণের মুখ্য উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এরপর থেকে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে শনাক্তের হার ও মৃতের সংখ্যা। যদিও মাঝখানে কিছুদিন দেশে করোনাজনিত মৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল এবং মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তির ভাব লক্ষ করা যাচ্ছিল। তবে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর দৃশ্যপট পালটে গেছে। কোভিড-১৯ বিষয়ে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি এরই মধ্যে ওমিক্রন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীও ওমিক্রন নিয়ে উচ্চমাত্রার সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ওমিক্রন নিয়ে ভয়ের কারণ হলো, আমাদের বাজার-ঘাট, পর্যটন, কলকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছু খোলা রয়েছে। তা ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি ও যথাযথভাবে মাস্ক ব্যবহারের ব্যাপারেও মানুষের মধ্যে ব্যাপক শিথিলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত ছড়াতে সক্ষম ওমিক্রেেনর সংক্রমণ রোধে সতর্কতা, সচেতনতা, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ইত্যাদির কোনো বিকল্প নেই।

হতাশাজনক হলো, শুরু থেকেই দেশে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় এক ধরনের সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা গেছে, সর্বশেষ যা গণপরিবহণে যাত্রী চলাচল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গণপরিবহণ বিষয়ে সমন্বিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব এনজাইম আছে, তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাপমাত্রায় কম কার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। শীতে বাতাসের তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতাও কমে যায়, যা আমাদের শ্বাসনালির স্বাভাবিক কর্মপ্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে ভাইরাসের আক্রমণ সহজ করে তোলে। কাজেই শীতকালে ওমিক্রন থেকে দেশবাসীকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে গণপরিবহণে বিরাজমান সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন