নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
jugantor
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নির্বাচনি সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে

   

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো অর্থাৎ টানা তিনবার মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এজন্য তাকে আমরা অভিনন্দন জানাই। উল্লেখ্য, আইভী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে ৬৬ হাজার ৫৩৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। একটি জেলা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হলেও দেশবাসীর দৃষ্টি ছিল এ ভোটের ওপর। স্বস্তির বিষয়, নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথাও সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটেনি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ হলেও সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ উৎসবে অংশ নিয়েছে। অবশ্য নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার ‘প্রশাসনিক ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ‘ইভিএম কারচুপি’ তার পরাজয়ের কারণ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সার্বিকভাবে নির্বাচনটি ভালো হয়েছে বলেই মনে করি আমরা।

বলা বাহুল্য, এ নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোসহ সাধারণ মানুষের আস্থা সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোয় নির্বাচন কমিশন আশানুরূপ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। গত সাধারণ নির্বাচনেও নির্বাচন কমিশন প্রশংসার পরিবর্তে নিন্দাই কুড়িয়েছে। মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে এ কমিশন জাতিকে একটি উদাহরণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছে, এজন্য তাদের সাধুবাদ জানাতে হয়। বস্তুত নির্বাচন কমিশনসহ অংশীজনদের সদিচ্ছা ও দৃঢ়তা থাকলে যে দলীয় সরকারের অধীনেই একটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়, সদ্য সমাপ্ত নাসিক নির্বাচন তার প্রমাণ।

সব মিলে এবার নির্বাচনি সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক লক্ষণ দেখতে পেয়েছি আমরা। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন নির্বাচনে সহিংসতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের দুর্বল ভূমিকার কারণে ভোটদানের ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহে ভাটা লক্ষ করা গেছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোটদান করেছেন। নির্বাচন কমিশনের হিসাবমতে, গড়ে এ হার ৫০ শতাংশ। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে পরাজিত প্রার্থীর উচিত নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখা।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার গতি মন্থর হয়ে পড়ায় এবং কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএম বিড়ম্বনার কারণে নাসিক নির্বাচনে কিছু ভোটার ভোট দিতে পারেননি। ইভিএমে ভোট গ্রহণের এ ত্রুটিগুলো যেন আগামীতে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে আগামী সাধারণ নির্বাচন আসার আগেই ইভিএমের কার্যকারিতা শতভাগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন

নির্বাচনি সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে
  
১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো অর্থাৎ টানা তিনবার মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এজন্য তাকে আমরা অভিনন্দন জানাই। উল্লেখ্য, আইভী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে ৬৬ হাজার ৫৩৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। একটি জেলা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হলেও দেশবাসীর দৃষ্টি ছিল এ ভোটের ওপর। স্বস্তির বিষয়, নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথাও সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটেনি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ হলেও সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ উৎসবে অংশ নিয়েছে। অবশ্য নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার ‘প্রশাসনিক ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ‘ইভিএম কারচুপি’ তার পরাজয়ের কারণ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সার্বিকভাবে নির্বাচনটি ভালো হয়েছে বলেই মনে করি আমরা।

বলা বাহুল্য, এ নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোসহ সাধারণ মানুষের আস্থা সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোয় নির্বাচন কমিশন আশানুরূপ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। গত সাধারণ নির্বাচনেও নির্বাচন কমিশন প্রশংসার পরিবর্তে নিন্দাই কুড়িয়েছে। মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে এ কমিশন জাতিকে একটি উদাহরণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছে, এজন্য তাদের সাধুবাদ জানাতে হয়। বস্তুত নির্বাচন কমিশনসহ অংশীজনদের সদিচ্ছা ও দৃঢ়তা থাকলে যে দলীয় সরকারের অধীনেই একটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়, সদ্য সমাপ্ত নাসিক নির্বাচন তার প্রমাণ।

সব মিলে এবার নির্বাচনি সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক লক্ষণ দেখতে পেয়েছি আমরা। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন নির্বাচনে সহিংসতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের দুর্বল ভূমিকার কারণে ভোটদানের ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহে ভাটা লক্ষ করা গেছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোটদান করেছেন। নির্বাচন কমিশনের হিসাবমতে, গড়ে এ হার ৫০ শতাংশ। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে পরাজিত প্রার্থীর উচিত নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখা।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার গতি মন্থর হয়ে পড়ায় এবং কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএম বিড়ম্বনার কারণে নাসিক নির্বাচনে কিছু ভোটার ভোট দিতে পারেননি। ইভিএমে ভোট গ্রহণের এ ত্রুটিগুলো যেন আগামীতে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে আগামী সাধারণ নির্বাচন আসার আগেই ইভিএমের কার্যকারিতা শতভাগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন