অস্থির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
jugantor
অস্থির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ক্যাম্পাসগুলোয় শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২১ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও কয়েকটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। এই অস্থিরতার কারণে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি কলেজের ছাত্রাবাস বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছোট ছোট ঘটনাই শেষ পর্যন্ত অসহিষ্ণুতার কারণে বড় আকার ধারণ করেছে। গত ৫ মাসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যকার মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনায় এ সময়ে সবচেয়ে বেশি খবরের শিরোনাম হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সেখানে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ১২ বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনও শুরু করেছে বেশকিছু শিক্ষার্থী।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৬ জানুয়ারি অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হল-ক্যাম্পাস ছাড়েনি। ওদিকে বুধবার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে ১২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা দেশের অভিভাবক শ্রেণি তথা সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। এমনিতেই করোনার কারণে শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত। দুই বছরের সেশন জটেও পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় যদি ক্যাম্পাসে অস্থিরতা বিরাজ করে, তাহলে তা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বৈকি।

আমরা লক্ষ করছি, কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন, বিশেষত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন চরম আকার ধারণ করত না, যদি কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবিদাওয়াগুলো মেনে নিত।

আমরা মনে করি, যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যদি দাবিদাওয়া পেশ করে, তাহলে সূচনাতেই তাদের সঙ্গে বসে সমস্যার নিষ্পত্তি করা উচিত। ছোট বিষয়কে বড় আকার দেওয়া সুবিবেচনার কাজ নয়।

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষের ব্যাপারে বলতে হয়, ছাত্রলীগ যেহেতু সরকারি দলের সহযোগী সংগঠন, সেহেতু এই সংঘর্ষ রোধে সরকারেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। এ সংঘর্ষের দায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও এড়াতে পারে না। ছাত্রলীগের যেসব ইউনিটে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে, সেসব ইউনিটে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। আন্দোলন কিংবা সংঘর্ষ-দুটোই শিক্ষাজীবনের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করে। বলা বাহুল্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আর্থিকভাবে সচ্ছল নন।

তারা চান তাদের সন্তানরা সময়মতো শিক্ষাজীবন শেষ করে সংসারের হাল ধরুক। সংঘর্ষ ও অনাকাঙ্ক্ষিত আন্দোলনের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা সেশনজট তৈরি হলে শিক্ষাজীবন প্রলম্বিত হয় এবং তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র অভিভাবক শ্রেণি। এ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে চাই আমরা। আর এজন্য প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

অস্থির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ক্যাম্পাসগুলোয় শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে
 সম্পাদকীয় 
২১ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
করোনা
ফাইল ছবি

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও কয়েকটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। এই অস্থিরতার কারণে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি কলেজের ছাত্রাবাস বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছোট ছোট ঘটনাই শেষ পর্যন্ত অসহিষ্ণুতার কারণে বড় আকার ধারণ করেছে। গত ৫ মাসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যকার মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনায় এ সময়ে সবচেয়ে বেশি খবরের শিরোনাম হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সেখানে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ১২ বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনও শুরু করেছে বেশকিছু শিক্ষার্থী।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৬ জানুয়ারি অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হল-ক্যাম্পাস ছাড়েনি। ওদিকে বুধবার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে ১২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা দেশের অভিভাবক শ্রেণি তথা সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। এমনিতেই করোনার কারণে শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত। দুই বছরের সেশন জটেও পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় যদি ক্যাম্পাসে অস্থিরতা বিরাজ করে, তাহলে তা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বৈকি।

আমরা লক্ষ করছি, কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন, বিশেষত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন চরম আকার ধারণ করত না, যদি কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবিদাওয়াগুলো মেনে নিত।

আমরা মনে করি, যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যদি দাবিদাওয়া পেশ করে, তাহলে সূচনাতেই তাদের সঙ্গে বসে সমস্যার নিষ্পত্তি করা উচিত। ছোট বিষয়কে বড় আকার দেওয়া সুবিবেচনার কাজ নয়।

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষের ব্যাপারে বলতে হয়, ছাত্রলীগ যেহেতু সরকারি দলের সহযোগী সংগঠন, সেহেতু এই সংঘর্ষ রোধে সরকারেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। এ সংঘর্ষের দায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও এড়াতে পারে না। ছাত্রলীগের যেসব ইউনিটে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে, সেসব ইউনিটে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। আন্দোলন কিংবা সংঘর্ষ-দুটোই শিক্ষাজীবনের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করে। বলা বাহুল্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আর্থিকভাবে সচ্ছল নন।

তারা চান তাদের সন্তানরা সময়মতো শিক্ষাজীবন শেষ করে সংসারের হাল ধরুক। সংঘর্ষ ও অনাকাঙ্ক্ষিত আন্দোলনের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা সেশনজট তৈরি হলে শিক্ষাজীবন প্রলম্বিত হয় এবং তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র অভিভাবক শ্রেণি। এ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে চাই আমরা। আর এজন্য প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন