দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু
jugantor
দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু
সড়কে শৃঙ্খলা কি অধরাই থেকে যাবে?

  সম্পাদকীয়  

২২ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সড়কে বিশৃঙ্খলা যে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সংঘটিত দুটি ঘটনার দিকে তাকালে।

প্রথম ঘটনায়, বাস ভাড়া নিয়ে বচসার জেরে ইরফান আহমেদ নামের এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। ইরফান ওইদিন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে গ্রিন বাংলা নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে উঠেছিলেন।

বাসটি গুলিস্তানের জয়কালী মন্দিরের কাছে পৌঁছলে তাকে ধাক্কা দিয়ে সড়কে ফেলে দেয় হেলপার। তার সঙ্গে ইরফানের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল ভাড়া নিয়ে। পথচারীরা ইরফানকে অচেতন অবস্থায় নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিছু সময় পর ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওদিকে একইদিনে রাজধানীর মগবাজার মোড়ে ঘটেছে আরেক মর্মান্তিক ঘটনা।

আজমেরী গ্লোরি পরিবহণের তিনটি বাসের রেষারেষিতে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে এক কিশোর। বিকাল ৫টার দিকে বাস তিনটি যখন কে কার আগে যাবে এই প্রতিযোগিতায় ছুটছিল, ঠিক তখনই ঘটে এ ঘটনা। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এ দুটি দুর্ঘটনাই ঘটেনি শুধু, সচিবালয়ের সামনে সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় আহত হয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সহকারী সচিব।

দুই বাসের রেষারেষিতে অথবা যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ফলে মৃত্যু কোনো নতুন ঘটনা নয়। আমাদের মনে আছে, রাজধানীর কাওরান বাজারের সার্ক ফোয়ারার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিআরটিসির একটি বাস ঘেঁষে স্বজন পরিবহণের একটি বাস দ্রুতগতিতে অতিক্রমের সময় রাজীব হোসেন নামে এক কলেজ ছাত্রের ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। রাজীব এ দুর্ঘটনায় মারা যায়।

অতীতে চলন্ত বাস থেকে যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ফলে মৃত্যু ঘটেছে একাধিকবার। এই যে চালক ও হেলপারের বেপরোয়াপনা ও ঔদ্ধত্য-এর মনোবৈজ্ঞানিক কারণ কী? মানুষ কেন এত বেপরোয়া হয়ে ওঠে, কেন সে অন্যের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে-এসব বিষয়ে গবেষণা হওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা। সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পরিবহণ খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা।

পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দাপটও এই বিশৃঙ্খলার পেছনে কারণ হিসাবে কাজ করছে, সন্দেহ নেই। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও এর প্রতিকার নিয়ে দেশে আলোচনা ও লেখালেখির অন্ত নেই। কিন্তু সব আলোচনা, সব আবেদন শেষ পর্যন্ত অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হচ্ছে।

সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সমাধান-অযোগ্য কোনো বিষয় নয়। দরকার শুধু সড়ক আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিকতা। আমরা মনে করি, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহনে পরিবহণ মালিকদের বাধ্য করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই হ্রাস পাবে।

অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি চালানোর ভার যাতে ন্যস্ত করা না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সড়কের সংস্কার ও উন্নয়নও দুর্ঘটনা রোধের অন্যতম শর্ত। আমরা ভবিষ্যতে সড়কে অন্তত বাস থেকে যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অপসংস্কৃতি অথবা দুই বাসের রেষারেষিতে মৃত্যু আর দেখতে চাই না।

দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু

সড়কে শৃঙ্খলা কি অধরাই থেকে যাবে?
 সম্পাদকীয় 
২২ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সড়কে বিশৃঙ্খলা যে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সংঘটিত দুটি ঘটনার দিকে তাকালে।

প্রথম ঘটনায়, বাস ভাড়া নিয়ে বচসার জেরে ইরফান আহমেদ নামের এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। ইরফান ওইদিন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে গ্রিন বাংলা নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে উঠেছিলেন।

বাসটি গুলিস্তানের জয়কালী মন্দিরের কাছে পৌঁছলে তাকে ধাক্কা দিয়ে সড়কে ফেলে দেয় হেলপার। তার সঙ্গে ইরফানের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল ভাড়া নিয়ে। পথচারীরা ইরফানকে অচেতন অবস্থায় নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিছু সময় পর ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওদিকে একইদিনে রাজধানীর মগবাজার মোড়ে ঘটেছে আরেক মর্মান্তিক ঘটনা।

আজমেরী গ্লোরি পরিবহণের তিনটি বাসের রেষারেষিতে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে এক কিশোর। বিকাল ৫টার দিকে বাস তিনটি যখন কে কার আগে যাবে এই প্রতিযোগিতায় ছুটছিল, ঠিক তখনই ঘটে এ ঘটনা। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এ দুটি দুর্ঘটনাই ঘটেনি শুধু, সচিবালয়ের সামনে সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় আহত হয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সহকারী সচিব।

দুই বাসের রেষারেষিতে অথবা যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ফলে মৃত্যু কোনো নতুন ঘটনা নয়। আমাদের মনে আছে, রাজধানীর কাওরান বাজারের সার্ক ফোয়ারার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিআরটিসির একটি বাস ঘেঁষে স্বজন পরিবহণের একটি বাস দ্রুতগতিতে অতিক্রমের সময় রাজীব হোসেন নামে এক কলেজ ছাত্রের ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। রাজীব এ দুর্ঘটনায় মারা যায়।

অতীতে চলন্ত বাস থেকে যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ফলে মৃত্যু ঘটেছে একাধিকবার। এই যে চালক ও হেলপারের বেপরোয়াপনা ও ঔদ্ধত্য-এর মনোবৈজ্ঞানিক কারণ কী? মানুষ কেন এত বেপরোয়া হয়ে ওঠে, কেন সে অন্যের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে-এসব বিষয়ে গবেষণা হওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা। সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পরিবহণ খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা।

পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দাপটও এই বিশৃঙ্খলার পেছনে কারণ হিসাবে কাজ করছে, সন্দেহ নেই। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও এর প্রতিকার নিয়ে দেশে আলোচনা ও লেখালেখির অন্ত নেই। কিন্তু সব আলোচনা, সব আবেদন শেষ পর্যন্ত অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হচ্ছে।

সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সমাধান-অযোগ্য কোনো বিষয় নয়। দরকার শুধু সড়ক আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিকতা। আমরা মনে করি, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহনে পরিবহণ মালিকদের বাধ্য করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই হ্রাস পাবে।

অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি চালানোর ভার যাতে ন্যস্ত করা না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সড়কের সংস্কার ও উন্নয়নও দুর্ঘটনা রোধের অন্যতম শর্ত। আমরা ভবিষ্যতে সড়কে অন্তত বাস থেকে যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অপসংস্কৃতি অথবা দুই বাসের রেষারেষিতে মৃত্যু আর দেখতে চাই না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন