ডিসি সম্মেলন
jugantor
ডিসি সম্মেলন
গতানুগতিক ধারা ভাঙার সময় এসেছে

  সম্পাদকীয়  

২২ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারিজনিত কারণে প্রায় আড়াই বছর পর অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন গতকাল শেষ হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিবছরই ঘটা করে ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও তা সমাধানে সুপারিশ উত্থাপনের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিন দিনব্যাপী এবারের ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন’ গত মঙ্গলবার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে জনকল্যাণে সব ভয়ভীতি, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ডিসিদের উদ্দেশে ২৪টি নির্দেশনাও প্রদান করেছেন সরকারপ্রধান।

ডিসি সম্মেলন উপলক্ষ্যে এবার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে ২৬৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেলেও দুর্নীতি রোধ প্রসঙ্গে কেন কোনো প্রস্তাব উঠে এলো না, তা এক প্রশ্ন বটে! বলার অপেক্ষা রাখে না, মাঠপর্যায়ে এ মুহূর্তে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি।

সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর মনোভাব প্রদর্শন এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার কোনো বিকল্প নেই। বস্তুত আমলাতন্ত্র শক্তিশালী হলে বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষের কষ্ট হয় বটে; কিন্তু এতে দুর্নীতির সুযোগ কম থাকে। স্থানীয় প্রশাসনকে জনমুখী করার লক্ষ্যে আমলাতন্ত্রের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতাবান করার সরকারি উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা লক্ষণীয়।

তবে এতে দুর্নীতির আরও প্রসার ঘটেছে বলে মনে করেন অনেকে। বস্তুত প্রশাসনকে জনমুখী করার প্রচেষ্টার ফল যা হয়েছে, তা হলো-শুধু এলাকার রাজনৈতিক প্রভাবশালীই নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রভাবশালীরাও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বসছে অথবা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এর ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিকূলতার মুখে পড়ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছাড়াও এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা জেলা প্রশাসকদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। এগুলো তাদের স্থানীয় প্রশাসন চালাতে সাহায্য করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে প্রশ্ন উঠেছে ডিসি সম্মেলনে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে।

দেখা যাচ্ছে, প্রতিবার ঘুরেফিরে পুরোনো প্রস্তাবগুলোই উত্থাপন করা হচ্ছে। বছরের পর বছর প্রায় একই ধরনের অনেক প্রস্তাব ডিসি সম্মেলনে উত্থাপন হওয়া কতটা যৌক্তিক, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। বলার অপেক্ষা রাখে না, এর ফলে ডিসি সম্মেলন বৈচিত্র্য হারাচ্ছে। ডিসি সম্মেলনের গতানুগতিক এ ধারা ভাঙার সময় এসেছে বলে মনে করি আমরা।

ডিসি সম্মেলন

গতানুগতিক ধারা ভাঙার সময় এসেছে
 সম্পাদকীয় 
২২ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারিজনিত কারণে প্রায় আড়াই বছর পর অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন গতকাল শেষ হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিবছরই ঘটা করে ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও তা সমাধানে সুপারিশ উত্থাপনের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিন দিনব্যাপী এবারের ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন’ গত মঙ্গলবার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে জনকল্যাণে সব ভয়ভীতি, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ডিসিদের উদ্দেশে ২৪টি নির্দেশনাও প্রদান করেছেন সরকারপ্রধান।

ডিসি সম্মেলন উপলক্ষ্যে এবার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে ২৬৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেলেও দুর্নীতি রোধ প্রসঙ্গে কেন কোনো প্রস্তাব উঠে এলো না, তা এক প্রশ্ন বটে! বলার অপেক্ষা রাখে না, মাঠপর্যায়ে এ মুহূর্তে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি।

সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর মনোভাব প্রদর্শন এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার কোনো বিকল্প নেই। বস্তুত আমলাতন্ত্র শক্তিশালী হলে বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষের কষ্ট হয় বটে; কিন্তু এতে দুর্নীতির সুযোগ কম থাকে। স্থানীয় প্রশাসনকে জনমুখী করার লক্ষ্যে আমলাতন্ত্রের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতাবান করার সরকারি উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা লক্ষণীয়।

তবে এতে দুর্নীতির আরও প্রসার ঘটেছে বলে মনে করেন অনেকে। বস্তুত প্রশাসনকে জনমুখী করার প্রচেষ্টার ফল যা হয়েছে, তা হলো-শুধু এলাকার রাজনৈতিক প্রভাবশালীই নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রভাবশালীরাও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বসছে অথবা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এর ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিকূলতার মুখে পড়ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছাড়াও এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা জেলা প্রশাসকদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। এগুলো তাদের স্থানীয় প্রশাসন চালাতে সাহায্য করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে প্রশ্ন উঠেছে ডিসি সম্মেলনে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে।

দেখা যাচ্ছে, প্রতিবার ঘুরেফিরে পুরোনো প্রস্তাবগুলোই উত্থাপন করা হচ্ছে। বছরের পর বছর প্রায় একই ধরনের অনেক প্রস্তাব ডিসি সম্মেলনে উত্থাপন হওয়া কতটা যৌক্তিক, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। বলার অপেক্ষা রাখে না, এর ফলে ডিসি সম্মেলন বৈচিত্র্য হারাচ্ছে। ডিসি সম্মেলনের গতানুগতিক এ ধারা ভাঙার সময় এসেছে বলে মনে করি আমরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন