লোকসানি প্রতিষ্ঠানের নাম রেল
jugantor
লোকসানি প্রতিষ্ঠানের নাম রেল
সক্ষমতা না বাড়ালে আয় বাড়বে না

  সম্পাদকীয়  

২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লোকসানি প্রতিষ্ঠানের নাম রেল

বাংলাদেশ রেলওয়ে স্থায়ীভাবে একটি লোকসানি সংস্থায় পরিণত হয়েছে। গত অর্থবছরে রেল আয় করেছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা, বিপরীতে ব্যয় করতে হয়েছে ৬ হাজার ২৫ কোটি টাকা। পাটিগণিতের নিয়মে দেখা যাচ্ছে, প্রতি ১ টাকা আয় করতে রেলকে ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় ৬ টাকা। আগের দুই অর্থবছরের চিত্রও প্রায় একই। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা আয় করতে রেল ব্যয় করেছে ৫ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছরে ১ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩ বছরে ৩ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা আয় করতে ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এ সময়ে লোকসান গুনতে হয়েছে ১৫ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। হিসাবটা শুধু এটাই নয়, এর বাইরে রয়েছে প্রকল্প ব্যয়। রেলে ৩৯ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রেলের ব্যয়ের অঙ্ক বাড়বে তিনগুণেরও বেশি।

প্রশ্ন হচ্ছে এই বিপুল অঙ্কের টাকা লোকসান দিয়ে রেলকে কতদিন আর টিকিয়ে রাখা যাবে? টাকা তো যাচ্ছে জনগণের করের টাকার খাত থেকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই লোকসানি চরিত্রের বিপরীতে আমরা যদি বিশ্বের অন্যান্য দেশের রেলের দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যায়, সেসব দেশে রেল শুধু সাধারণ মানুষকে সেবাই দিচ্ছে না, আয়ও করছে। রেলের এই আর্থিক দুর্দশা সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক বলেছেন, রেল শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে দৌড়াচ্ছে, সক্ষমতার দিকে তাকাচ্ছে না। চলমান রেলপথের সংস্কার না করে বাহারি প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছে রেল। তার এই বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। বস্তুত দক্ষতা বাড়িয়ে যাত্রীর সংখ্যা বাড়িয়ে অনায়াসেই লোকসান কমিয়ে আনা যায়। অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা, চলমান রেলপথ ও অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার না করার কারণেই লোকসানের অঙ্ক বাড়ছে।

দেশের রেল ব্যবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায়, চলমান রেলপথ শুধু নয়, রেলওয়ের ব্রিজ, ইঞ্জিন-কোচসহ সিগন্যাল ব্যবস্থাও নড়বড়ে। এসবের অধিকাংশেরই আয়ুষ্কাল শেষ। অথচ কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে গা করছে না, গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নতুন নতুন প্রকল্পের ওপর। এতে ব্যয় বাড়ছে। রেলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে অবশ্য সেবার মান বাড়িয়ে যাত্রী আকর্ষণ করতে হবে। সেবার মান বাড়াতে গেলে জরাজীর্ণ রেলকে যুগোপযোগী আধুনিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। দূর করতে হবে সব ধরনের অব্যবস্থাপনা।

লোকসানি প্রতিষ্ঠানের নাম রেল

সক্ষমতা না বাড়ালে আয় বাড়বে না
 সম্পাদকীয় 
২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
লোকসানি প্রতিষ্ঠানের নাম রেল
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ রেলওয়ে স্থায়ীভাবে একটি লোকসানি সংস্থায় পরিণত হয়েছে। গত অর্থবছরে রেল আয় করেছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা, বিপরীতে ব্যয় করতে হয়েছে ৬ হাজার ২৫ কোটি টাকা। পাটিগণিতের নিয়মে দেখা যাচ্ছে, প্রতি ১ টাকা আয় করতে রেলকে ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় ৬ টাকা। আগের দুই অর্থবছরের চিত্রও প্রায় একই। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা আয় করতে রেল ব্যয় করেছে ৫ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছরে ১ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩ বছরে ৩ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা আয় করতে ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এ সময়ে লোকসান গুনতে হয়েছে ১৫ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। হিসাবটা শুধু এটাই নয়, এর বাইরে রয়েছে প্রকল্প ব্যয়। রেলে ৩৯ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রেলের ব্যয়ের অঙ্ক বাড়বে তিনগুণেরও বেশি।

প্রশ্ন হচ্ছে এই বিপুল অঙ্কের টাকা লোকসান দিয়ে রেলকে কতদিন আর টিকিয়ে রাখা যাবে? টাকা তো যাচ্ছে জনগণের করের টাকার খাত থেকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই লোকসানি চরিত্রের বিপরীতে আমরা যদি বিশ্বের অন্যান্য দেশের রেলের দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যায়, সেসব দেশে রেল শুধু সাধারণ মানুষকে সেবাই দিচ্ছে না, আয়ও করছে। রেলের এই আর্থিক দুর্দশা সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক বলেছেন, রেল শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে দৌড়াচ্ছে, সক্ষমতার দিকে তাকাচ্ছে না। চলমান রেলপথের সংস্কার না করে বাহারি প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছে রেল। তার এই বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। বস্তুত দক্ষতা বাড়িয়ে যাত্রীর সংখ্যা বাড়িয়ে অনায়াসেই লোকসান কমিয়ে আনা যায়। অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা, চলমান রেলপথ ও অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার না করার কারণেই লোকসানের অঙ্ক বাড়ছে।

দেশের রেল ব্যবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায়, চলমান রেলপথ শুধু নয়, রেলওয়ের ব্রিজ, ইঞ্জিন-কোচসহ সিগন্যাল ব্যবস্থাও নড়বড়ে। এসবের অধিকাংশেরই আয়ুষ্কাল শেষ। অথচ কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে গা করছে না, গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নতুন নতুন প্রকল্পের ওপর। এতে ব্যয় বাড়ছে। রেলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে অবশ্য সেবার মান বাড়িয়ে যাত্রী আকর্ষণ করতে হবে। সেবার মান বাড়াতে গেলে জরাজীর্ণ রেলকে যুগোপযোগী আধুনিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। দূর করতে হবে সব ধরনের অব্যবস্থাপনা।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন