মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান

জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকুক

  সম্পাদকীয় ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদক

সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জানা যায়, গত এক সপ্তাহে বহু গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই রয়েছে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিকে আমরা স্বাগত জানাই।

জানা গেছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী চলছে এ অভিযান। এটি স্বস্তিদায়ক। কারণ অভিযোগ আছে, বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা-কর্মীও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ থাকার অভিযোগ আছে।

আমরা আশা করব, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকৃত অপরাধীদের কেউই ছাড় পাবে না। মনে রাখতে হবে, মাদক ব্যবসা একটি গুরুতর অপরাধ। অনেক দেশে এজন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও রয়েছে। আমাদের দেশেও যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদক ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

দেশে মাদকের বিস্তার ঘটেছে ভয়াবহ মাত্রায়। নেশার উদ্রেককারী মাদকের মধ্যে তরুণরা ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিলেই আসক্ত হচ্ছে বেশি। তবে এ মুহূর্তে হেরোইন ও ফেনসিডিলকে ছাড়িয়ে গেছে ইয়াবা। বলা যায়, এটি এখন দেশের প্রধান নেশার বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত মিয়ানমার থেকে নাফ নদী দিয়ে ইয়াবার চালান আসছে ব্যাপক পরিমাণে। তবে অন্যান্য সীমান্তপথে, এমনকি আকাশপথেও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য আসছে বলে খবর রয়েছে।

এসব মাদকদ্রব্য স্কুলের ছাত্র থেকে শুরু করে তরুণদের মধ্যে মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট মাদকাসক্তদের কেবল স্বাস্থ্যহানিই ঘটছে না, ভেঙে পড়ছে সামাজিক শৃঙ্খলাও। বস্তুত সব অপরাধের মূলে রয়েছে মাদক। যেখানে মাদক আছে সেখানে চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র, নারী পাচার, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও বেশি। কাজেই সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোরতা অবলম্বনের বিকল্প নেই।

অভিযোগ আছে, বাংলাদেশকে টার্গেট করেই সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে একশ্রেণীর লোক মাদক তৈরির কারখানা খুলে বসেছে। তারা মাদক তৈরি করে বাংলাদেশে পাচার করে থাকে। একসময় এভাবে ব্যাপক পরিমাণে ফেনসিডিলের অনুপ্রবেশ ঘটার কথা শোনা যেত। এখন মিয়ানমার থেকে একইভাবে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ঢুকছে। দেশে যারা অবৈধভাবে এসব মাদক আমদানি করে থাকে, তাদের মধ্যে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও রয়েছে।

কাজেই মাদকের চালান প্রতিরোধে দেশের সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সব অবৈধ মাদক আমদানিকারককে, তারা যত প্রভাবশালীই হোক, শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। মাদক প্রতিরোধে মাদক ব্যবসায়ীদের অর্থের লেনদেনের তথ্যও উদ্ঘাটন করতে হবে গোয়েন্দাদের। জানা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাদকের অর্থ লেনদেন হয় হুন্ডির মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

তবে শুধু মামলা করাই যথেষ্ট নয়, মাদক অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাটাই বড় বিষয়। এজন্য যথাযথ চার্জশিট প্রদান ও পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারেও সজাগ থাকবে আশা করি। তাদের মাদকবিরোধী অভিযান এবং এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে, এটাই কাম্য।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

 

mans-world

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
close
close
.