পুলিশ সপ্তাহ: এ বাহিনী যথার্থই জনগণের বন্ধু হয়ে উঠুক
jugantor
পুলিশ সপ্তাহ: এ বাহিনী যথার্থই জনগণের বন্ধু হয়ে উঠুক

  সম্পাদকীয়  

২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘দক্ষ পুলিশ, সমৃদ্ধ দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’-এ স্লোগান ধারণ করে গত রোববার থেকে ৫ দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিবছর পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে সশরীরে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বস্তুত এটাই হওয়া উচিত পুলিশের প্রকৃত ভূমিকা। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ দেশে পুলিশ বাহিনী নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও অনেক সময় পুলিশ নিজেই জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। যেখানে বিপদে-আপদে মানুষের সবচেয়ে বেশি নির্ভর করার কথা পুলিশের ওপর, সেখানে নিজেদের আচার-ব্যবহার ও কার্যকলাপের মাধ্যমে পুলিশ হয়ে পড়ে জনবিচ্ছিন্ন। এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি বৈকি।

প্রকৃতপক্ষে পুলিশের ভূমিকা হওয়া উচিত আইনের রক্ষক তথা জনগণের সেবকের। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে অনেকাংশেই তা অনুপস্থিত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আমাদের পুলিশ বাহিনী যেন ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের উত্তরাধিকারই বহন করে চলেছে। ব্রিটিশ শাসকরা ওই নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন করেছিল পরাধীন জনগণের স্বাধীনতার স্পৃহাকে দমিয়ে রেখে নির্বিঘ্নে শাসনকাজ পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু আজকের দিনের বাস্তবতা ভিন্ন; কারণ দেশ আজ স্বাধীন। তাই পুলিশকে পুরোনো চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

আমরা স্বীকার করি, জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে প্রাণও দিতে হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসংক্রান্ত অন্যান্য ক্ষেত্রেও পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে পুলিশকে আরও জনবান্ধব হতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারেরও করণীয় রয়েছে।

পুলিশের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পেতে এ বাহিনীর ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। দেখা যায়, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা পুলিশকে নিজেদের স্বার্থে, বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের কাজে ব্যবহার করে। পুলিশের নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ইত্যাদি প্রশাসনিক কাজেও ব্যাপক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়।

এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতারা নানাভাবে প্রভাব খাটান। বস্তুত পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের যত অভিযোগ উঠে থাকে, সেসবের বেশিরভাগই সংঘটিত হয় পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ফলে। এর অবসানই কাম্য।

অস্বীকার করা যাবে না, পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পর্যাপ্ত যানবাহন নেই তাদের। অনেক ক্ষেত্রে লোকবলেরও সংকট রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের আবাসন সমস্যাও প্রকট। আশার কথা, এসব সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আমরা চাই, পুলিশ যথার্থই জনগণের বন্ধু হয়ে উঠুক।

সরকারের সদিচ্ছা এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীলতায়ই তা সম্ভব হতে পারে। পুলিশ সপ্তাহে এ বাহিনীর সব সদস্যের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা।

পুলিশ সপ্তাহ: এ বাহিনী যথার্থই জনগণের বন্ধু হয়ে উঠুক

 সম্পাদকীয় 
২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘দক্ষ পুলিশ, সমৃদ্ধ দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’-এ স্লোগান ধারণ করে গত রোববার থেকে ৫ দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিবছর পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে সশরীরে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বস্তুত এটাই হওয়া উচিত পুলিশের প্রকৃত ভূমিকা। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ দেশে পুলিশ বাহিনী নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও অনেক সময় পুলিশ নিজেই জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। যেখানে বিপদে-আপদে মানুষের সবচেয়ে বেশি নির্ভর করার কথা পুলিশের ওপর, সেখানে নিজেদের আচার-ব্যবহার ও কার্যকলাপের মাধ্যমে পুলিশ হয়ে পড়ে জনবিচ্ছিন্ন। এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি বৈকি।

প্রকৃতপক্ষে পুলিশের ভূমিকা হওয়া উচিত আইনের রক্ষক তথা জনগণের সেবকের। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে অনেকাংশেই তা অনুপস্থিত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আমাদের পুলিশ বাহিনী যেন ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের উত্তরাধিকারই বহন করে চলেছে। ব্রিটিশ শাসকরা ওই নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন করেছিল পরাধীন জনগণের স্বাধীনতার স্পৃহাকে দমিয়ে রেখে নির্বিঘ্নে শাসনকাজ পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু আজকের দিনের বাস্তবতা ভিন্ন; কারণ দেশ আজ স্বাধীন। তাই পুলিশকে পুরোনো চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

আমরা স্বীকার করি, জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে প্রাণও দিতে হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসংক্রান্ত অন্যান্য ক্ষেত্রেও পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে পুলিশকে আরও জনবান্ধব হতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারেরও করণীয় রয়েছে।

পুলিশের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পেতে এ বাহিনীর ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। দেখা যায়, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা পুলিশকে নিজেদের স্বার্থে, বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের কাজে ব্যবহার করে। পুলিশের নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ইত্যাদি প্রশাসনিক কাজেও ব্যাপক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়।

এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতারা নানাভাবে প্রভাব খাটান। বস্তুত পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের যত অভিযোগ উঠে থাকে, সেসবের বেশিরভাগই সংঘটিত হয় পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ফলে। এর অবসানই কাম্য।

অস্বীকার করা যাবে না, পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পর্যাপ্ত যানবাহন নেই তাদের। অনেক ক্ষেত্রে লোকবলেরও সংকট রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের আবাসন সমস্যাও প্রকট। আশার কথা, এসব সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আমরা চাই, পুলিশ যথার্থই জনগণের বন্ধু হয়ে উঠুক।

সরকারের সদিচ্ছা এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীলতায়ই তা সম্ভব হতে পারে। পুলিশ সপ্তাহে এ বাহিনীর সব সদস্যের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন