ইসি আইনের খসড়া: গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনই হোক লক্ষ্য
jugantor
ইসি আইনের খসড়া: গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনই হোক লক্ষ্য

  সম্পাদকীয়  

২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসাবে জাতীয় সংসদে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি খতিয়ে দেখা যায়, ২০১২ ও ২০১৭ সালে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতি ইসি গঠন করেছিলেন, সেই প্রক্রিয়াটিই আনা হচ্ছে এ আইনের অধীনে।

অর্থাৎ আইনে সার্চ কমিটি গঠনের বিষয়টিও থাকছে। বিলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন, যার সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক। সদস্য হিসাবে থাকবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক।

সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে ইসি গঠনের উদ্যোগটি ইতিবাচক। বস্তুত প্রায় সব রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের দাবি ছিল এটি। বিশেষজ্ঞরাও সংবিধানের আলোকে এমন একটি আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন। তবে আইনে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন ইসি গঠনের প্রক্রিয়া পরিহার না করায় এর সর্বজনগ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ইতোমধ্যেই অনেকে বলেছেন, এই বিলের মাধ্যমে সার্চ কমিটি গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির জারি করা নির্দেশনাকে আইনি মোড়ক দেওয়া হচ্ছে মাত্র।

আমরা জানি, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে একটি নিরপেক্ষ ইসির বিকল্প নেই। নির্বাচন কমিশন যদি শক্তিশালী হয় এবং ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় ক্ষমতা তাদের হাতে থাকে, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে বাধ্য। সেক্ষেত্রে কাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিলে বলা হয়েছে, সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে কাউকে সুপারিশের ক্ষেত্রে তিনটি যোগ্যতা বিবেচনায় আনতে হবে : ১. তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

২. ন্যূনতম ৫০ বছর বয়স হতে হবে। ৩. কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা সরকারি পদে তার অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রশ্ন হলো, সার্চ কমিটি যাদের নাম প্রস্তাব করবে, তাদের এসব যোগ্যতা থাকার পরও ব্যক্তি হিসাবে গ্রহণযোগ্যতারও একটি বিষয় রয়েছে।

সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তিদের নিয়েই ইসি গঠন করা উচিত। বস্তুত একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোসহ নির্বাচনের সব অংশীজনকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ইসি আইনের খসড়া: গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনই হোক লক্ষ্য

 সম্পাদকীয় 
২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসাবে জাতীয় সংসদে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি খতিয়ে দেখা যায়, ২০১২ ও ২০১৭ সালে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতি ইসি গঠন করেছিলেন, সেই প্রক্রিয়াটিই আনা হচ্ছে এ আইনের অধীনে।

অর্থাৎ আইনে সার্চ কমিটি গঠনের বিষয়টিও থাকছে। বিলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন, যার সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক। সদস্য হিসাবে থাকবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক।

সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে ইসি গঠনের উদ্যোগটি ইতিবাচক। বস্তুত প্রায় সব রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের দাবি ছিল এটি। বিশেষজ্ঞরাও সংবিধানের আলোকে এমন একটি আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন। তবে আইনে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন ইসি গঠনের প্রক্রিয়া পরিহার না করায় এর সর্বজনগ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ইতোমধ্যেই অনেকে বলেছেন, এই বিলের মাধ্যমে সার্চ কমিটি গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির জারি করা নির্দেশনাকে আইনি মোড়ক দেওয়া হচ্ছে মাত্র।

আমরা জানি, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে একটি নিরপেক্ষ ইসির বিকল্প নেই। নির্বাচন কমিশন যদি শক্তিশালী হয় এবং ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় ক্ষমতা তাদের হাতে থাকে, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে বাধ্য। সেক্ষেত্রে কাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিলে বলা হয়েছে, সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে কাউকে সুপারিশের ক্ষেত্রে তিনটি যোগ্যতা বিবেচনায় আনতে হবে : ১. তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

২. ন্যূনতম ৫০ বছর বয়স হতে হবে। ৩. কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা সরকারি পদে তার অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রশ্ন হলো, সার্চ কমিটি যাদের নাম প্রস্তাব করবে, তাদের এসব যোগ্যতা থাকার পরও ব্যক্তি হিসাবে গ্রহণযোগ্যতারও একটি বিষয় রয়েছে।

সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তিদের নিয়েই ইসি গঠন করা উচিত। বস্তুত একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোসহ নির্বাচনের সব অংশীজনকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন