গাজীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট
jugantor
গাজীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট
দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিন

  সম্পাদকীয়  

২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর-কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটের বিষয়টি উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি বিবেচনায় এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র গ্যাস সংকট।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্যাস পাইপলাইনের চাপ ৩ পিএসআইয়ের (প্রেশার পার স্কয়ার ইঞ্চি) নিচে নেমে গেছে। এর ফলে দিনের বেলা বেশিরভাগ কারখানা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

গ্যাসের এ স্বল্পতার কারণে সেখানকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও নিটিং কারখানাগুলোর সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এসব কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ না থাকায় গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতাও এক-তৃতীয়াংশে নেমে গেছে। এর ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে না শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

গ্যাস না পেয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখতে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ এতে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্যের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে শিল্প উদ্যোক্তাদের পক্ষে অনেক প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাতে কর্মসংস্থান বাড়ার বদলে বেকারত্ব বাড়বে। কাজেই এদিকে দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

গ্যাসের তীব্র সংকট গত এক মাস ধরে চললেও গাজীপুর-কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও শিল্প উদ্যোক্তারা অভিযোগ করে আসছেন। বস্তুত চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়াই গ্যাস সংকটের কারণ।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী দুই সপ্তাহে এই ঘাটতি আরও বাড়বে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান যুগান্তরকে বলেছেন, ‘দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ঘাটতি বাড়ছে।’ আমরা মনে করি, সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থেই এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন। কারণ গ্যাসের এ তীব্র সংকট দ্রুত নিরসন করা না গেলে অর্থনীতি ও বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুধু তাই নয়, গ্যাসের অভাবে শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকলে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান করাও সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজনে সরকারের নীতি হবে শিল্পবান্ধব, এটিই কাম্য। করোনা মহামারির অভিঘাত থেকে দ্রুত উত্তরণে শিল্পক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। দেশি বিনিয়োগকারীরাও যদি প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হন, তাহলে শিল্পায়ন ঘটবে কীভাবে? অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে সরকারকে দেশীয় শিল্পের বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো সমস্যার সমাধান করতে হবে দ্রুত। এ লক্ষ্যে মজুত গ্যাস উত্তোলনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। গ্যাসক্ষেত্র ও সঞ্চালন লাইনে সমস্যা থাকলে তাও অবিলম্বে দূর করতে হবে। গাজীপুর-কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট নিরসনে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এটাই কাম্য।

গাজীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট

দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিন
 সম্পাদকীয় 
২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর-কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটের বিষয়টি উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি বিবেচনায় এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র গ্যাস সংকট।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্যাস পাইপলাইনের চাপ ৩ পিএসআইয়ের (প্রেশার পার স্কয়ার ইঞ্চি) নিচে নেমে গেছে। এর ফলে দিনের বেলা বেশিরভাগ কারখানা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

গ্যাসের এ স্বল্পতার কারণে সেখানকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও নিটিং কারখানাগুলোর সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এসব কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ না থাকায় গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতাও এক-তৃতীয়াংশে নেমে গেছে। এর ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে না শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

গ্যাস না পেয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখতে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ এতে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্যের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে শিল্প উদ্যোক্তাদের পক্ষে অনেক প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাতে কর্মসংস্থান বাড়ার বদলে বেকারত্ব বাড়বে। কাজেই এদিকে দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

গ্যাসের তীব্র সংকট গত এক মাস ধরে চললেও গাজীপুর-কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও শিল্প উদ্যোক্তারা অভিযোগ করে আসছেন। বস্তুত চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়াই গ্যাস সংকটের কারণ।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী দুই সপ্তাহে এই ঘাটতি আরও বাড়বে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান যুগান্তরকে বলেছেন, ‘দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ঘাটতি বাড়ছে।’ আমরা মনে করি, সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থেই এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন। কারণ গ্যাসের এ তীব্র সংকট দ্রুত নিরসন করা না গেলে অর্থনীতি ও বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুধু তাই নয়, গ্যাসের অভাবে শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকলে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান করাও সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজনে সরকারের নীতি হবে শিল্পবান্ধব, এটিই কাম্য। করোনা মহামারির অভিঘাত থেকে দ্রুত উত্তরণে শিল্পক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। দেশি বিনিয়োগকারীরাও যদি প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হন, তাহলে শিল্পায়ন ঘটবে কীভাবে? অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে সরকারকে দেশীয় শিল্পের বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো সমস্যার সমাধান করতে হবে দ্রুত। এ লক্ষ্যে মজুত গ্যাস উত্তোলনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। গ্যাসক্ষেত্র ও সঞ্চালন লাইনে সমস্যা থাকলে তাও অবিলম্বে দূর করতে হবে। গাজীপুর-কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট নিরসনে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এটাই কাম্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন