ধান সংগ্রহে ধীরগতি

খাদ্য মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় হতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খাদ্য মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় হতে হবে
প্রতীকী ছবি

সরকার চলতি বোরো মৌসুমে সারা দেশে ধান কেনা শুরু না করায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। জানা গেছে, দাম পড়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে উৎপাদন খরচের চেয়ে মণপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা লোকসানে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন ফড়িয়া ও মিলারদের কাছে।

কারণ ধান মজুদ রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই কৃষকদের। স্বভাবতই সময়মতো ধান না কেনার এ প্রবণতা পরবর্তী সময়ে ধান উৎপাদনে নিরুৎসাহিত করবে তাদের, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে খাদ্য নিরাপত্তায়। উদ্বেগের বিষয় এটিই।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়- চলতি বছর বোরো মৌসুমে কেজিপ্রতি ২৬ টাকা দরে দেড় লাখ টন ধান কিনবে সরকার। ২ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সরকারিভাবে এ ধান সংগ্রহ করার কথা।

কিন্তু গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সারা দেশে ধান সংগ্রহের অনুমতি দিচ্ছে না খাদ্য মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মাত্র ৯টি জেলায় ১৫ হাজার ২০০ টনের বিভাজন দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বাকি জেলাগুলোয় কবে নাগাদ ধান সংগ্রহ হবে তা অনিশ্চিত। অথচ বোরো কাটার মৌসুম শেষ হতে চলেছে।

জানা যায়, খাদ্য অধিদফতর ১৯ এপ্রিল সারা দেশের সংগ্রহযোগ্য বোরো ধানের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলাওয়ারি লক্ষ্যমাত্রার বিভাজন চেয়ে চিঠি দিয়েছে। মন্ত্রণালয় কেন এতে কাঙ্ক্ষিত সাড়া দিচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়। অভিযোগ আছে, ফড়িয়া ও মিলারদের অনৈতিক সুবিধা দিতেই ধান কিনতে গড়িমসি করা হচ্ছে, যাতে তাদের কাছে কৃষকরা কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন। এ অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের।

গত বছর চালের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, যার পেছনে মিলার ও ফড়িয়াদের হাত থাকার বড় অভিযোগ রয়েছে। সাধারণত চালের বিশাল মজুদ গড়ে তোলার পর তারা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে। মূলত এ কারণেই ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়ে। বাজারে পণ্যমূল্য নির্ভর করে চাহিদা ও জোগানের ওপর। জোগান কমে গেলে অথবা চাহিদা বৃদ্ধি পেলে পণ্যের দাম বাড়ে। এ বাস্তবতায় ধান-চালের বাজারের নিয়ন্ত্রণ যেন ফড়িয়া ও মিলারদের হাতে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

এ অবস্থায় সরকারের উচিত ধান সংগ্রহ অভিযান জোরদার করে পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলা। অথচ এখনও পুরোদমে শুরু হয়নি ধান কেনা। সময়োচিত পদক্ষেপ নেয়া হলেই ধান-চালের বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রক্ষা পাবে কৃষক ও ভোক্তার স্বার্থ।

চাল আমাদের প্রধান খাদ্যদ্রব্য। ধান-চাল নিয়ে তাই কোনো ধরনের সংকট বা অস্থিরতা কাম্য নয়। এজন্য ধানচাষীদের স্বার্থকে দিতে হবে অগ্রাধিকার। অনেক কৃষক জমির লিজ, সেচ, সার ও কীটনাশকের টাকার জোগান দিতে পারছেন না। ধারদেনা করে মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে ধান চাষ করেছেন।

কাজেই সরকারকে অবিলম্বে তাদের কাছ থেকে ধান কেনার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যাপারে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ভূমিকা কাম্য। মন্ত্রণালয়ের কেউ বা কোনো চক্র ফড়িয়া ও মিলারদের অনৈতিক সুবিধা দিতে তৎপর কিনা, তারও তদন্ত হওয়া দরকার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter