আবারও পাহাড় ধসে মৃত্যু

সমন্বিত পদক্ষেপে কমতে পারে অপমৃত্যু

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আবারও পাহাড় ধসে মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নে পাহাড় কাটার সময় মাটিচাপা পড়ে হতাহতের ঘটনাটি দুঃখজনক। সোমবারের এ ঘটনার পর যে প্রশ্নটি দেখা দিয়েছে তা হল, সামনের দিনগুলোতে ভারি বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে প্রাণহানির যে আশঙ্কা রয়েছে, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী উদ্যোগ নিয়েছে?

লক্ষ করা যাচ্ছে, প্রতি বছরই বর্ষার সময় পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশের পার্বত্য এলাকার পাহাড়গুলোর গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণেও পাহাড় ধসের সংখ্যা বাড়ছে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, দেশের পার্বত্য এলাকার মাটিতে বালির পরিমাণ বেশি থাকার কারণে পাহাড় ধসের সংখ্যা বাড়ছে।

ভূমিকম্পসহ অন্যান্য কারণে পাহাড়ে সৃষ্ট ফাটলে বৃষ্টির পানি জমেও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। পাহাড় কাটা এবং বনের গাছ কেটে উজাড় করার কারণেও পাহাড় ধসের সংখ্যা বাড়ছে।

যেহেতু সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক কারণে পাহাড় ধসের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছিল, তাই আশা করা গিয়েছিল, মানবসৃষ্ট কারণে যাতে পাহাড় ধসের সংখ্যা না বাড়ে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। কিন্তু বাস্তবে লক্ষ করা যাচ্ছে, প্রতি বছর হতাহতের ঘটনা বৃদ্ধির পরও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সংখ্যা কমেনি। বরং এ সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন, এটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু বাস্তবে তা লক্ষ করা যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কেউ কেউ পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাসস্থান তৈরি অব্যাহত রেখেছেন। অনেক ছিন্নমূল মানুষ কম খরচে সেসব ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করে থাকে। ফলে পাহাড় ধসে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।

গত বছর পাহাড় ধসের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির পর ধারণা করা হয়েছিল, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসের প্রবণতা কমবে।

কিন্তু বাস্তবতা হল, চট্টগ্রামসহ পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে এখনও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সেখান থেকে দ্রুত না সরালে যে কোনো সময় পাহাড় ধসের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ এর দায় এড়াতে পারবে না।

ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেই স্থানীয় প্রশাসন দায়িত্ব শেষ করতে পারে না। ছিন্নমূল মানুষের বসবাসের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা না হলে উচ্ছেদের পর তারা আবার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানেই বসবাসে আগ্রহী হবে। মানবসৃষ্ট কারণে যাতে পাহাড় ধসের ঘটনা না ঘটে, এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter