দুই সিটির নির্বাচন

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক ১১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন

আনিসুল হকের মৃত্যুতে খালি হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ- দুই সিটিতে যুক্ত হওয়া ১৮টি করে ৩৬টি সাধারণ এবং ৬টি করে ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। এর আগে ১৮ জানুয়ারি মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষদিন এবং তা প্রত্যাহারের শেষদিন ২৯ জানুয়ারি। রাজধানীতে মেয়র ও ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরে। কাজেই পর্যবেক্ষক মহলের এদিকে বিশেষ দৃষ্টি থাকবে, যা সহজেই অনুমেয়। এজন্য নির্বাচন কমিশন, সরকার ও প্রশাসনকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে, যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণে কোনো ধরনের প্রশ্ন উঠতে না পারে।

এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও (সিইসি) বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য রাজধানীর এ নির্বাচন একটি চ্যালেঞ্জ। ইসি যে নিরপেক্ষ ও সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির পক্ষে- সংসদ নির্বাচনের আগে সেটি প্রমাণ করার এটিই শেষ সুযোগ। ফলে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদের ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে হবে ইসিকে। মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ড নির্বাচন হলেও এটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান দুটি দল ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের জনপ্রিয়তা পরীক্ষার ক্ষেত্র হতে পারে। কারণ মেয়র পদে নির্বাচনটি হবে দলীয় প্রতীকে।

দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের বড় দলগুলো নিজেদের গণতন্ত্রের রক্ষক ও অন্যদের গণতন্ত্র ধ্বংসকারী বলে এলেও কারও মধ্যেই গণতন্ত্রের সত্যিকারের চেতনা- অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করা, জনগণের রায় মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়নি। তারা পারেনি উন্নত গণতন্ত্রের বোধ নিজেদের মধ্যে লালন করতে। ফলে যে কোনো গণরায়ের বেলায় তাদের দেখা গেছে ‘বিচার মানি তালগাছ আমার’ ভূমিকা নিতে। নিজ দল জয়ী হলে নির্বাচন সুষ্ঠু অন্যথায় কারচুপি- এমন মনোভাবকে আর যাই বলা হোক, অন্তত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলা যায় না। আশার কথা, বর্তমানে দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে এবং রাজনৈতিক হানাহানির পরিবেশমুক্ত নিঃশ্বাস মানুষ নিতে পারছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে কুচক্রী কোনো মহল যেন এ পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ না পায়, দুই সিটির ভোট গ্রহণ এবং তার আগে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী উপনির্বাচনে নির্বাচিত মেয়রের মেয়াদ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত; কিন্তু কমিশনারদের মেয়াদ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। আমরা মনে করি, নির্বাচনের আগেই তাদের মেয়াদের অস্পষ্টতা দূর করা দরকার। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। ‘নির্বাচনের পর হয়তো স্থানীয় সরকার বিভাগ মেয়াদ নির্ধারণ করে দেবে আর মামলা হলে ইসির কিছু করার নেই’- সিইসির এমন বক্তব্য থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দুই সিটির ভোট গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের নজির স্থাপন করবে ইসি- এটিই প্রত্যাশা।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.